ষোলঘর এ, কে, এস, কে উচ্চ বিদ্যালয়

0
7
ষোলঘর এ, কে, এস, কে উচ্চ বিদ্যালয়

প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ৩০আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)।। ১৮ মহরম, ১৪৪৭ হিজরী।

বিক্রমপুর খবর : অনলাইন ডেস্ক : এটি মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন শ্রীনগর উপজেলার প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্বর্গীয় অক্ষয় কুমার এবং শশী কুমার যৌথভাবে ১৯২৫ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্থায়ীভবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। বিদ্যালয়টি শ্রীনগর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৩ শত থেকে চার শত গজ দূরত্বে অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। ভৌতিক অবকাঠামোগত দিক থেকে বিদ্যালয়টিতে একটি দু’তলা ভবন, তিনটি এক তলা ভবন, দু’টি টিনসেড ঘর এবং প্রধান শিক্ষকের জন্য পাকা বাসভবন রয়েছে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভূমির পরিমান ৮ (আট) একর। বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে একটি বড় পুকুর রয়েছে।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯২০ থেকে ১৯২১ সাল, উত্তাল ভারতবর্ষ তথা বাংলা। উন্মাতাল অসহযোগ আন্দোলন।
দেশপ্রেমিক অক্ষয় কুমার বসু অসহযোগ আন্দোলনকে সমর্থন করেন। শুধু সমর্থন করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি তার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়কে স্বদেশী এবং জাতীয় বিদ্যালয় হিসাবে ঘোষনা করেন। যে কারণে এই নবীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ব্রিটিশের কোপানলে পড়ে।
ষোলঘরের কাছাকাছি গ্রাম শ্যামসিদ্ধি। এখানে ১৯২১ সালে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। নাম ছিল শশী কুমার হাই স্কুল। স্বর্গীয় শশী কুমার ঘোষের পুত্র যোগেষ চন্দ্র ঘোষ এই স্কুল প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন এবং মৃত পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে পিতার নামেই স্কুলের নামকরণ করেন।
ষোলঘরের অক্ষয় কুমার বসুর আগ্রহে ও ষোলঘর এবং শ্যামসিদ্ধির শশী কুমার স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ১৯২৫ সালে ষোলঘর এ কে এস কে ( অক্ষয় কুমার- শশী কুমার) হাইস্কুল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।
ষোলঘর স্কুলের প্রতিষ্ঠালগ্নে অক্ষয় কুমার বসু চেয়েছিলেন অত্র অঞ্চলের কেন্দ্র শ্রীনগরে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় শ্রীনগরের জমিদার। চাষা-ভূষারা পড়া-লেখা শিখুক এটা তারা চাননি, মধ্যযুগীয় দমন-পীড়ণই ছিলো তাদের ভন্ডামি। গণ মানুষের শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রতি তারা ভীত ছিল।
ষোলঘর অক্ষয় কুমার শশী কুমার উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত
ষোলঘর ছিল তাদের জমিদারী এলাকার বাইরে। এখানে তাদের করনীয় কিছুই ছিলনা। অগত্যা অক্ষয় কুমার বসু ষোলঘরকেই বেছে নিলেন স্কুলের জন্য। তিনি জেলখাটা স্বদেশী হরিপদ বন্ধ্যোপাধ্যায়কে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেন। নিজেও মনে প্রাণে ছিলেন স্বদেশী। অপর দিকে ষোলঘরের নব প্রতিষ্ঠিত স্কুলকে শ্রীনগরের জমিদার কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। কুট কৌশলের আশ্রয় নিয়ে তিনি তার লাঠিয়াল সর্দার দস্যু ভ্রাতা জগাই এবং মাধাইয়ের মাধ্যমে একদিন অতি সঙ্গোপনে রাতের আঁধারে গণ মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রদীপ এই ষোলঘর স্কুলকে পুড়িয়ে দেয়। ওরা ভেবেছিল পুড়িয়ে দিলেই জ্ঞান স্তব্ধ হয়ে যাবে, শিখা অস্তমিত হয়ে যাবে। কিন্তু ওরা বুঝতে পারেনি এখানে জ্ঞানদন্ড বিপ্লবী অক্ষয় বুমার বসু বর্তমান। পরেরদিন ঘটনার আকস্মিকতায় গর্জে উঠেন অক্ষয় কুমার বসু। চিহ্নিত সন্ত্রাসী বলে শ্রীনগরের জমিদারের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারন করেন তিনি। নিজে ভেঙ্গে না পরে আগত শত শত জনতা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দ্যেশ্য করে তিনি ঘোষণা করেন, ” স্কুল ঘর আবার গড়ে তোলা হবে “। নিজ বাড়ির বসত ঘর খুলে স্কুলের হাতে তুলে দিয়ে তিনি আশ্রয় নেন আত্মীয়ের বাড়ি। ষোলঘর স্কুলে এখনো আছে সেই টিনের ঘর। তবে কিছুটা সংস্কার করে ভিটি পাঁকা করা হয়েছে। পূর্বে ভিটি ছিল মাটির।
১৯৩৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ষোলঘর গ্রামেই এই মহান বিপ্লবী শিক্ষানুরাগীর দেহবসান ঘটে। তার বসত ভিটা ছিল ষোলঘরের সেনপাড়ায়, সেখানেই তাকে দাহ করা হয়।
স্কুল পুনঃনির্মিত হলে শ্রীনগরের জমিদার একেবারে চুপসে যায়। জনধিক্কার তো ছিলোই, ছিল স্বদেশী আন্দোলনের চাপ। শ্রীনগরে নিরাপদ বোধ না করে অতঃপর তিনি নায়েবের হাতে জমিদারী অর্পন করে পরিবার পরিজনসহ কলকাতা চলে যান।
১৯৬৫ সালে এ স্কুলে আমাদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। আমরা দক্ষিণ রাড়িখাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ জন বাড়ি থেকে এসে শ্রীনগর বাজারের সাবেক প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির অফিসে অবস্থান করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলাম।\
ইতিহাসের কিছু অংশ ফেসবুক থেকে সংগৃহিত
লেখা: Abdur Rashid Khan

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..           

‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের
সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন