আজ ১১ নভেম্বর, ঐতিহাসিক “বেতিয়ারা শহীদ দিবস”

0
0
আজ ১১ নভেম্বর, ঐতিহাসিক "বেতিয়ারা শহীদ দিবস"

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ২৮ কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (হেমন্ত কাল)।। ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরী।

বিক্রমপুর খবর: শ্রীনগর প্রতিনিধি : মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল এক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বেতিয়ারা গ্রামে ন্যাপ,কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনীর সঙ্গে পাকবাহিনীর যুদ্ধে ১১ জন গেরিলা নিহত হন।বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের এই ইতিহাসকে স্মরণে রাখার জন্য প্রতি বছর ১১ নভেম্বর পালিত হয় বেতিয়ারা শহীদ দিবস।

কোনরকম পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় গেরিলা দলটি পাকবাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারেনি। পাকবাহিনীর হামলায় পরাস্ত মুক্তিযোদ্ধারা বেতিয়ারার মাঠে তাদের অস্ত্র এবং শহীদ ১১ জন সহযোদ্ধার লাশ ফেলে পিছু হটে আসে। ১৩ নভেম্বর স্থানীয় চেয়ারম্যান আগা আজিজুল হক চৌধুরী লাশগুলো একটি গর্তে মাটিচাপা দেন। দেশ স্বাধীন হবার পর লাশগুলোর হাড়গোড় গর্ত থেকে তুলে বেতিয়ারার বর্তমান শহীদ মিনারের পাশে কবরস্থ করা হয়। সেদিনের ১১ জন শহীদের মধ্যে ৯ জনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন-নিজাম উদ্দিন আজাদ (দলনেতা), সিরাজুল মনির, জহিরুল হক, সফিউল্লাহ, আওলাদ হোসেন, কাইয়ুম, বশিরুল ইসলাম, মো. শহিদুল্লাহ ও কাদের মিয়া। এ বেদনাবিধুর স্মৃতিকে ঘিরে প্রতি বছর ১১ নভেম্বর বেতিয়ারায় পালিত হয় ‘বেতিয়ারা দিবস’।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ ও পরবর্তীতে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে অবস্থানরত অন্যান্যদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ভারত সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য একটি গেরিলা দল ভারতের বাইকোয়া বেইজ ক্যাম্প থেকে ১০ নভেম্বর ১৯৭১, রাত ৮টায় চৌদ্দগ্রাম সীমান্তবর্তী ভৈরবনগর সাব-ক্যাম্পে (চৌত্তাখোলা ক্যাম্পের শাখা) পৌঁছায়। ক্যাম্পের দুই জন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বিএসসি ও সামসুল আলম ১১ নভেম্বর রাতেই গেরিলা বাহিনীর ওই দলটির বাংলাদেশে প্রবেশের নকশা প্রণয়ন করেন। নকশা অনুযায়ী সাব ক্যাম্পের ৩৮জন গেরিলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে বেতিয়ারা চৌধুরী বাড়ির দু’পাশে অ্যামবুশ পাতা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক শত্রুমুক্ত কিনা পরীক্ষা করার জন্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের ও আবদুল মন্নানকে ওই সড়কে পঠানো হয়। এ গেরিলারা ছিলেন একাত্তরের কেন্দ্রীয় কমান্ডে গড়ে তোলা বিশেষ গেরিলা বাহিনীর দ্বিতীয় ব্যাচে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সদস্যদের একাংশ।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান ছাত্রনেতা নিজাম উদ্দিন আজাদ এবং সিরাজুম মুনির ছিলেন। তাঁহাদের দুজনের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান নিবেদন করে সামাজিক সংগঠন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল ইউনিয়নের বালাশুর গ্রামে সাবেক জমিদার যদুনাথ রায়ের বাড়িতে বর্তমানে বিক্রমপুর জাদুঘর প্রাঙ্গণে “শহীদ মুনীর-আজাদ স্মৃতি পাঠাগার” স্থাপন করে।
“শহীদ মুনীর-আজাদ স্মৃতি পাঠাগার”
বিক্রমপুর জাদুঘর প্রাঙ্গণ
বালাসুর, ইউনিয়ন-রাঢ়িখাল
উপজেলা-শ্রীনগর, জেলা-মুন্সিগঞ্জ
বেতিয়ারায় শহীদ মৃত্যুঞ্জয়ী নয় গেরিলা যোদ্ধার স্মৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা।

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..           

‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের
সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন