বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের আলোকিত মানুষ অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় বড় কন্যা সরোজিনী নাইডু

0
11
বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের আলোকিত মানুষ অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় বড় কন্যা সরোজিনী নাইডু

প্রকাশিত: সোমবার ২ জুন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ১৯ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)।। ৬ই জিলহজ, ১৪৪৬ হিজরী।

বিক্রমপুর খবর : অফিস ডেস্ক :
                            ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের একটি পরিবারকে নিয়ে লেখা পর্ব -২
******************
অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় (১৮৫১-১৯১৫) একজন ভারতীয় শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন । বিক্রমপুরের লৌহজং থানার ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে ৩১ অক্টোবর ১৮৫১ ইং জন্মগ্রহণ করেন (বর্তমানে গ্রামটি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে)। ব্রাহ্মণ গাঁও গ্রামের স্মৃতি ব্রাহ্মণ গাঁও উচ্চ বিদ্যালয়টি কয়েক বার পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে এখন লৌহজং উপজেলার ঝাউটিয়া গ্রামে “ব্রাক্ষণ গাও” নামটি বুকে ধারণ করে কালের সাক্ষী দাঁড়িয়ে আছে। বিদ্যালয়ের আয়ুস্কাল ১২৩ বছর, ১৯০২ সালে বিদ্যালয়টি ব্রাক্ষণ গাঁও গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আমাদের গর্ব বিক্রমপুরের কৃতিসন্তান সরোজিনী নাইডু
==========
সরোজিনী নাইডু ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৯ সালে ভারতের হায়দ্রাবাদ এ জন্ম গ্রহণ করেন এবং ২ মার্চ ১৯৪৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন স্বনামধন্য ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিশিষ্ট বাগ্মী ও ইন্দো-অ্যাংলিয়ান কবি। তিনি ভারত কোকিলা (দ্য নাইটেঙ্গেল অফ ইন্ডিয়া) নামে পরিচিত। সরোজিনী নাইডু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম (ভারতীয়) মহিলা সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীন ভারতে তিনি উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের রাজ্যপালও হয়েছিলেন।
সরোজিনী নাইডু ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সক্রিয় যোদ্ধা। মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তিনি যোগ দেন ডান্ডি পদযাত্রায়। গান্ধী, আব্বাস তয়েব ও কস্তুরবা গান্ধী গ্রেফতার হলে তিনি ধারাসন সত্যাগ্রহে নেতৃত্ব দেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাগ্মী এবং ইংরেজি ভাষার যশস্বী কবি।


প্রারম্ভিক জীবন
সরোজিনী নায়ডুর জন্ম ভারতের হায়দ্রাবাদ শহরের একটি হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে। তিনি ছিলেন বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় ও কবি বরদাসুন্দরী দেবীর জ্যেষ্ঠা কন্যা। অঘোরনাথ ছিলেন নিজাম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি ও তার বন্ধু মোল্লা আব্দুল কায়ুম ছিলেন হায়দরাবাদের ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সদস্য। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেবার জন্য তাকে কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে পদচ্যুত করে হয়।
সরোজিনীর ভাই বীরেন চট্টোপাধ্যায় ছিলেন এক বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কমিউনিস্ট বিপ্লবী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন বার্লিন কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং হিন্দু-জার্মান ষড়যন্ত্রের অন্যতম নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। পরবর্তীকালে তিনি কমিউনিজমে আকৃষ্ট হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে পাড়ি দেন। সন্দেহ করা হয়, স্তালিন জমানায় সোভিয়েত সিক্রেট পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করে। সরোজিনীর অপর ভাই হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন এক বিশিষ্ট নাট্যকার, কবি ও অভিনেতা।
শিক্ষা
বারো বছর বয়সে সরোজিনী মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় সমগ্র মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৮৯১ সাল থেকে ১৮৯৪ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা বন্ধ রেখে তিনি নানা বিষয় অধ্যয়ন করেন। ১৮৯৫ সালে ইংল্যান্ডে প্রথমে লন্ডনের কিংস কলেজ ও পরে কেমব্রিজের গার্টন কলেজে পড়াশোনা করেন।
সরোজিনী উর্দু, তেলুগু, ফার্সি ও বাংলা ভাষা শিখেছিলেন। তার প্রিয় কবি ছিলেন পি. বি. শেলি।

নারী অধিকার আন্দোলন:
সরোজিনী নাইডু যুক্তি দিয়েছিলেন যে জাতীয়তাবাদী উদ্দেশ্যকে নারী মুক্তি আন্দোলন থেকে আলাদা করা যায় না। তিনি নারী ভোটাধিকার এবং ক্ষমতায়নের পক্ষে লড়াইকারী উইমেন্স ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সাথে জড়িত ছিলেন । ১৯১৭ সালে নাইডু, ইংরেজ নারীবাদী অ্যানি বেসান্ত এবং ভারতীয় ভোটাধিকারকর্মী হেরাবাই টাটা এডউইন মন্টাগু (ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ১৯১৭-২২) এবং লর্ড চেমসফোর্ড (ভারতের ভাইসরয়, ১৯১৬-২১) এর সাথে মহিলাদের ভোটাধিকার নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। ১৯১৯ সালে পাস হওয়া ভারত সরকার আইন ভারতীয় প্রাদেশিক পরিষদগুলিকে মহিলাদের ভোটাধিকার প্রদানের অধিকার দেয়। এর ফলে দেশজুড়ে সীমিত ভোটাধিকার তৈরি হয়; ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর, সর্বজনীন ভোটাধিকারের নীতি গৃহীত হয়।

১৯৩১ সালে লন্ডন যাত্রার পূর্বে গান্ধীজির সঙ্গে সরোজিনী নায়ডু

স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ:
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরোজিনী যোগ দেন স্বাধীনতা আন্দোলনে। ১৯০৩ সাল থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি গোপালকৃষ্ণ গোখলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অ্যানি বেসান্ত, সি. পি. রামস্বামী আইয়ার, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু প্রমুখের সংস্পর্শে আসেন।
১৯১৫ সাল থেকে ১৯১৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি ভারতের নানা স্থানে যুবকল্যাণ, শ্রমের গৌরব, নারীমুক্তি ও জাতীয়তাবাদ বিষয়ে বক্তৃতাদান করেন। ১৯১৬ সালে জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি চম্পারণে নীলচাষীদের হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। ১৯২৫ সালে তিনি কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনিই ছিলেন কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি।

১৯১৯ সালের মার্চ মাসে ব্রিটিশ সরকার রাওলাট আইন জারি করে সকল প্রকার রাজদ্রোহমূলক রচনা নিষিদ্ধ করে। এর প্রতিবাদে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন সংগঠিত করলে সরোজিনী সর্বপ্রথমেই আন্দোলনে যোগ দেন। পরে ব্রিটিশ সরকার এই আন্দোলনের উপর ব্যাপক দমননীতি প্রয়োগ করে।
১৯১৯ সালের জুলাই মাসে সরোজিনী ইংল্যান্ডে হোমরুল লিগের দূত মনোনীত হন। ১৯২০ সালের জুলাই মাসের তিনি ভারতে প্রত্যাবর্তন করার পর ১ অগস্ট গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন ঘোষণা করেন। ১৯২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি পূর্ব আফ্রিকান ভারতীয় কংগ্রেসের দুই জাতীয় কংগ্রেস প্রতিনিধির অন্যতম রূপে নির্বাচিত হন।

১৯২৮ সালের অক্টোবর মাসে তিনি নিউ ইয়র্ক সফর করেন। এই সময় যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান আমেরিকান ও আমেরিইন্ডিয়ানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের নিন্দা করেন তিনি। ভারতে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি জাতীয় কংগ্রেস ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ৫ মে গান্ধীজিকে গ্রেফতার করা হয়। এর অনতিকাল পরেই গ্রেফতার হন সরোজিনী। এই সময় কয়েক মাস তিনি কারারুদ্ধ থাকেন। ১৯৩১ সালের ৩১ জানুয়ারি, গান্ধীজির সঙ্গে সঙ্গে তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়। সেই বছরেই পরে আবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। স্বাস্থ্যহানির কারণে অল্পদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যান সরোজিনী। গান্ধীজি মুক্তি পান ১৯৩৩ সালে। ১৯৩১ সালে গান্ধীজি ও পণ্ডিত মালব্যের সঙ্গে তিনিও গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন। ১৯৪২ সালের ২ অক্টোবর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ নেবার জন্য তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই সময় গান্ধীজির সঙ্গে ২১ মাস কারারুদ্ধ ছিলেন সরোজিনী। মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে সরোজিনী নায়ডুর সম্পর্ক এতটাই অন্তরঙ্গ ছিল যে গান্ধীজিকে তিনি “মিকি মাউস” বলেও ডাকতেন।

১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে এশীয় সম্পর্ক সম্মেলনের স্টিয়ারিং কমিটির পৌরোহিত্য করেন সরোজিনী নায়ডু।
১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীনতার পর সরোজিনী নায়ডু যুক্তপ্রদেশের (বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ) রাজ্যপাল নিযুক্ত হন। তিনিই ছিলেন ভারতের প্রথম মহিলা রাজ্যপাল।

প্রভাব
সরোজিনী চট্টোপাধ্যায়কে পৃথিবীর ইতিহাসের সেরা কবিদের মধ্যে অন্যতম মনে করা হয়। বিশ্বনন্দিত অনেক মার্কিন ও ব্রিটিশ সাহিত্যিক তার সাহিত্যের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন। পোয়েট্রি সুপ নামের একটি ওয়েবসাইট তাকে পৃথিবীর ইতিহাসের সেরা ১০০ জন কবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেখানে তার অবস্থান ছিল ১৯তম।

ব্যক্তিগত জীবন
১৭ বছর বয়সে সরোজিনী ড. মুথ্যালা গোবিন্দরাজুলু নায়ডুর প্রেমে পড়েন। ১৯ বছর বয়সে পড়াশোনা সমাপ্ত করে তার সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন তিনি। উল্লেখ্য, সেই যুগে অসবর্ণ বিবাহ সমাজে নিষিদ্ধ ছিল। সরোজিনী ব্রাহ্মণ হলেও গোবিন্দরাজুলু ছিলেন অব্রাহ্মণ। ১৮৯৮ সালে মাদ্রাজে ১৮৭২ সালের আইন অনুযায়ী তাদের বিবাহ হয়। তাদের চারটি সন্তান হয়েছিল: জয়সূর্য, পদ্মজা, রণধীর ও লীলামণি। কন্যা পদ্মজা পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হন।

ডান্ডি পদযাত্রায় গান্ধীর সঙ্গে সরোজিনী নায়ডু।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভের পর হিন্দু ও মুসলিম উভয় ভারতীয়দের পক্ষে নাইডু তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। তিনি এবং গান্ধী উভয়ই ভারতকে দুটি রাজ্যে বিভক্ত করার ব্রিটিশ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিলেন, পাকিস্তান (সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনসংখ্যা সহ) এবং ভারত (সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনসংখ্যা সহ)। উভয়ই বিশ্বাস করতেন যে দেশের ভবিষ্যৎ ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করার মধ্যেই নিহিত। তবে, জনসাধারণের অস্থিরতার ব্রিটিশ ভয় অত্যন্ত প্রবল প্রমাণিত হয়েছিল এবং গান্ধী এবং নাইডুকে অন্য উপায়ে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে, সরোজিনী উত্তর ভারতে যুক্ত প্রদেশের গভর্নরশিপ গ্রহণ করেছিলেন – যার নামকরণ করা হয়েছিল উত্তর প্রদেশ। নতুন প্রদেশ, যার বিশাল জনসংখ্যা সহ, প্রাক্তন শত্রুদের একত্রিত করার জন্য তার ক্ষমতা পরীক্ষা করেছিল। “তিনি উল্লেখ করেছিলেন,” সেনগুপ্ত লিখেছেন, “তিনি গভর্নর জেনারেলকে একটি ব্রেসলেট (রক্ষা বন্ধন) পাঠিয়েছিলেন যা হিন্দু মহিলারা, উচ্চ বা নিম্ন, সেই পুরুষদের কাছে পাঠাতেন যাদের তারা বন্ধু হিসাবে সম্মান করতেন, বিশ্বাস করতেন এবং নির্ভর করতেন। রাজপুত রানীরা পূর্ণিমার রাতে মোঘল সম্রাটদের কাছে এগুলি পাঠাতেন।” প্রাক্তন ব্রিটিশ গভর্নরের কাছে লেখা একটি চিঠিতে, নাইডু লিখেছিলেন:
আমি জানি না এই প্রদেশগুলিতে আমি কতদিন থাকব, কিন্তু আমার আসল উপহার হলো পূর্ণ সুযোগ এবং প্রকৃত ফল। আমার বন্ধুত্বের উপহার। বছরের পর বছর ধরে একে অপরের সাথে কথা না বলা পুরুষ এবং মহিলারা অনিশ্চয়তার প্রাথমিক মুহূর্তের পরে প্রতিদিন আমার ছাদের নীচে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মিলিত হয়… [ও] হ্যাঁ – সিংহ এবং মেষশাবকরা আমার সবুজ চারণভূমিতে খুব আনন্দের সাথে একসাথে শুয়ে থাকে। আমরা প্রত্যেকেই কেবল আমাদের সেরাটা দিতে পারি, যেমন ব্রাউনিং বলেছেন: “কখনও কখনও ভালো কিছু হারানো যাবে না।” কী সান্ত্বনাদায়ক বিশ্বাস।

১৯৪৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর ৭০তম জন্মদিনেও সরোজিনী নাইডু তখনও ক্ষমতায় ছিলেন। তিন দিন আগেও তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছিল এবং এর ফলে মাথাব্যথা আরও খারাপ হতে থাকে। তাঁর স্বাস্থ্য, যা কখনও খুব একটা ভালো ছিল না, ভেঙে পড়তে শুরু করে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ১৯৪৯ সালের ২রা মার্চ সকালে তিনি মারা যান। বেগ লেখেন, “ভারতে সরোজিনী নাইডুর সবচেয়ে স্থায়ী অবদান ছিল রাজনীতির চেয়ে মানব জীবনের বাস্তবতায়, স্বাধীনতার লড়াইয়ে তাঁর অংশগ্রহণ এবং জনগণের প্রয়োজনে তাঁর গভীর অন্তর্দৃষ্টি। তাঁর কাছে সর্বদা মানুষই প্রথম ছিল, মতবাদ বা বিশ্বাস নয়; প্রেমের নির্দেশ, নিছক নীতির সংকীর্ণ নির্দেশ নয়।”
রচনাবলি
The Golden Threshold (১৯০৫)
The Bird of Time: Songs of Life, Death & the Spring (১৯১২)
The Broken Wing: Songs of Love, Death and the Spring (১৯১৭)
The Sceptred Flute: Songs of India (১৯৪৩)
The Feather of the Dawn (১৯৬১)
The Gift of India

ছবি:১# ১৯৩১ সালে লন্ডন যাত্রার পূর্বে গান্ধীজির সঙ্গে সরোজিনী নায়ডু।
২# রঙিন ছবি
********
তথ্য সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা

সম্পাদনা: নাছির উদ্দিন আহমেদ জুয়েল
সম্পাদক ও প্রকাশক
বিক্রমপুর খবর ডট কম

√ ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের একটি পরিবারকে নিয়ে লেখা পর্ব-১, পর্ব-২, পর্ব-৩, পর্ব-৪, পর্ব-৫ এবং পর্ব-৬ (চলবে)পড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..           

‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের
সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন