অধ্যাপক ঝর্ণা রহমান
প্রকাশিত :বৃহস্পতিবার,১৯ মার্চ ২০২০ ইং ।। ৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।
বিক্রমপুর খবর :মানবজীবন আজ এক মহা অনিশ্চয়তার সম্মুখীন। বিশ্বমানবতা আচমকা করোনা ভাইরাস নামে অদৃশ্য, প্রায় অস্তিত্বহীন এক শত্রুর সাথে লড়াইয়ে পর্যুদস্ত। হঠাৎ যেন মানুষ ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলে দেখলো তার সামনে এক ভয়ানক মরনখাদ। কোভিদ ১৯ রোগ ভয়াল মহামারী আকারে আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। অবস্থা এমন হয়েছে কোনো কোনো দেশে মৃতকে এককভাবে সৎকার করাও সম্ভব হচ্ছে না। গণকবর দিতে হচ্ছে। হাজার হাজার আক্রান্ত মানুষকে একসাথে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বর্ষীয়ানদের রাখা হচ্ছে চিকিৎসার বাইরে! প্রিয়জন মারা গেলেও তার আপনজন তাকে দেখতে যাচ্ছে না! কী মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি! কঠিন এই পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করা হবে তার নিশ্চিত কোনো উপায়ও এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। সংক্রমণ ঠেকাতে পরিচ্ছন্নতা আর কোয়ারেন্টাইন বা সঙ্গরোধই এখন পর্যন্ত প্রধান বলে বিবেচ্য হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশ ফেরত মানুষের ক্ষেত্রে। তারাই মূলত করোনা ভাইরাস বহন করে নিয়ে আসছে দেশে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোনো দেশই এখন করোনা ঝুঁকির বাইরে নয়। এ পর্যন্ত এখানে ১৭ জন আক্রান্ত আর একজন মারা গেলেও কতজন এ ভাইরাস বহন করছেন আর ক্রমাগত ছড়িয়ে দিচ্ছেন তার হিসেব নেই। এ দেশের মানুষ অধিকাংশ অশিক্ষিত, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকলেও বেশিরভাগই অজ্ঞ মূর্খ। ফলে কোয়ারেন্টাইন মানতে চায় না। হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। বিদেশ থেকে আসার তথ্য গোপন করে স্বাভাবিকভাবে জনসমাজে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু এতে যে সে শুধু অন্যের নয় নিজেরও ক্ষতি করছে তা ভাবছে না।
আপনি যদি সম্প্রতি বিদেশ থেকে এসে থাকেন, আপনাকে বলছি, আপনি সবচেয়ে বেশি কাকে ভালোবাসেন? নিজের বাবামা, ভাইবোন বা স্বামী স্ত্রী সন্তানসন্ততিকে নিশ্চয়ই? তাহলে প্রথমে এদেরকে করোনাভাইরাস মুক্ত রাখার জন্য দু সপ্তাহ নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখুন। আপনি বলতে পারেন, আপনি যে করোনা ভাইরাস বাহক তা তো নিশ্চিত নয়, ঠিক! আর এ জন্যই সতর্কতা! হতেও তো পারেন! সে সম্ভাবনাই তো বেশি! কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানে আপনি কোনো অপরাধী বা সমাজধিকৃত কোনো ব্যক্তি নন, বরঞ্চ আপনিই হচ্ছেন সমাজের সবচেয়ে বিচক্ষণ ও ধৈর্যশীল ব্যক্তি। করোনার বিরুদ্ধে আপনি একজন বীর যোদ্ধা! আপনাকে আমরা স্যালুট জানাই। জীবনের জন্য জীবন রক্ষার জন্য এ প্রচেষ্টা আপনার মহৎ প্রচেষ্টা!
বলতে গেলে সারা বিশ্ব আজ নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিচ্ছে। স্থবির হয়ে পড়েছে সব কিছু। জীবনের প্রয়োজনে বন্ধ হয়ে গেছে কাবাসহ বিশ্বের বড় বড় মসজিদ আর ধর্মতীর্থগুলো। এমন কি মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে বদলে গেছে আযানের বাণী! মসজিদের মিনার থেকে আযান দিতে গিয়ে মুয়াযযিন যেখানে বলতেন, হাইয়্যা লাস সালা অর্থাৎ নামাযের জন্য আসুন, সেখানে এখন একই নিয়মে দুবার করে বলা হচ্ছে আল-সালাতু ফি বুয়ুতিকুম, অর্থাৎ আপনি যেখানে থাকুন সেখানেই বা বাড়িতেই নামায পড়ুন।
এমনটা ঘটতে পারে কেউ কোনোদিন কল্পনাও করতে পারেনি! কিন্তু বিবেকবান ইসলামীচিন্তকগণ জীবনের প্রয়োজনে তা করেছেন! স্রষ্টাই আমাদের বিবেক দিয়েছেন। বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন। অথচ আমাদের দেশে তথাকথিত চিন্তকগণ স্বপ্নে করোনার ঔষধ পাচ্ছেন, তিন পাতা থানকুনি বিধান দিচ্ছেন, ময়দানে জমায়েত হয়ে পানাহ চাইছেন!
দয়া করে আল্লাহর দেয়া মানব জীবনকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করুন। তাকে রক্ষা করতে, করোনা ভাইরাস রুখতে সতর্কতা মেনে চলুন। চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের তত্ত্ব ও তথ্যের ওপর বিশ্বাস রাখুন। মনে রাখবেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞানও আল্লাহই দিয়েছেন। কোয়ারেন্টাইন মানুন! সচেতনতা বৃদ্ধি করুন। পরিচ্ছন্ন থাকুন। ভিড় এড়িয়ে চলুন, ভিড় সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকুন, অতিমাত্রায় খাদ্য সংরক্ষণ বা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দেবেন না। মানুষকে ভালোবাসুন, জীবনের জন্য! মানবতার জন্য!
















































