সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলমের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

0
10
সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলমের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশিত:বুধবার,২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২।।১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)।।৩০সফর,১৪৪৪ হিজরি ।।

বিক্রমপুর খবর : মো. মানিক মিয়া, লৌহজং থেকে: বাংলাদেশ সরকারের সর্বচ্চ আইন কর্মকর্তা সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলমের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়েছে৷ এ উপলক্ষে মিরপুর শহীদ বৃদ্ধিজীবী কবরস্থানে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। সে সাথে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে মশদগাও আলী মাদ্রাসায় মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। দোয়া শেষে মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষকসহ মুসল্লীদের মাঝে দুপুরে প্রীতি ভোজের আয়োজন করেন কনকসার ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন বাবুল মুন্সী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম বাহার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন, বিক্রমপুর খবর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক নাসির উদ্দিন জুয়েল, নাসিম আলম কাজল, মহসিন পাঠান, জাকারিয়া মোড়ল, ছাত্তার মীর, স্বপন মুন্সী, অনিক শেখ প্রমুখ।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি দেশের ১৫তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে টানা ১২ বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মাহবুবে আলম ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে লোক প্রশাসনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন মাহবুবে আলম।

১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন।

১৯৭৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৮০ সালে আপিল বিভাগে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি পান। ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন মাহবুবে আলম।

এ ছাড়া তিনি ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ‘ইনস্টিটিউট অব কনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড পার্লামেন্টারি স্টাডিজ’ থেকে সাংবিধানিক আইন ও সংসদীয় প্রতিষ্ঠান ও পদ্ধতি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবে আলম।

এর মধ্যে ১৯৯৩-৯৪ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০০৫-২০০৬ মেয়াদে তিনি আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।

সেই সাথে পদাধিকার বলে তিনি আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

সেনা নিয়ন্ত্রিত ওই সরকার আমলে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হওয়ার পর শীর্ষ আইনজীবীদের অনেকে পিছুটান দিলেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পক্ষে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মাহবুবে আলম।

দৃশ্যত সেই কারণেই তার উপর আস্থাবান ছিলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান মাহবুবে আলম। তার পর থেকে টানা ১১ বছর তিনি এ দায়িত্বে বহাল ছিলেন।

সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে জন্মস্থান মুন্সীগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন মাহবুবে আলম। তবে তাকে প্রার্থী না করে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বই চালিয়ে যেতে বলা হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মামলায় আইনজীবী হিসেবে যুক্ত থাকা মাহবুবে আলম সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলাসহ সর্বোচ্চ আদালতে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধ মামলার মতো ঐতিহাসিক অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ মামলা সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করেছেন।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

 

(বিজ্ঞাপন) https://www.facebook.com/3square1

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..               

   ‘‘আমাদের বিক্রমপুর-আমাদের খবর।

আমাদের সাথেই থাকুন-বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

নিউজ ট্যাগ:

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন