প্রকাশিত: শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ২৫ কার্তিক ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (হেমন্ত কাল)।। ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরী।
বিক্রমপুর খবর: লৌহজং প্রতিনিধি : মিজানুর রহমান ঝিলু।। শনিবার দিনব্যাপী মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ ব্রাহ্মণগাঁও বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২৩ বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে। পদ্মাপাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এদিন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিদ্যালয় ভবন দুদিন ধরে আলোকসজ্জা করা হয়। পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ও হৃদয়ে আমার ব্রাহ্মণগাঁও নামে স্মারক সংকলন প্রকাশ করা হয়। সকাল ১০টায় ১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের ১২৩ বছর পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত। বিদ্যালয়ের ১২৩ বছর পূর্তি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন ও বিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মুনীর মোরশেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নেছার উদ্দিন, এসিল্যান্ড বাসিত সাত্তার, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম মানিক, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাসুদ কনক, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. রুবেল ঢালী ও প্রধান শিক্ষক মো. হোসেন খসরু। এদিন বেলা বাড়তেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন তাঁদের শৈশবের প্রিয় বিদ্যাপীঠে। দীর্ঘ দিনের অদেখায় সহপাঠীরা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেন। খোশগল্পে মেতে ওঠেন, কতশত স্মৃতির ঝাঁপি তুলে ধরেন। সেই সাথে মিলনমেলার স্মৃতি ধরে রাখতে দলবেঁধে ছবি ও সেলফি তোলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি মূল সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। বিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী রওশন আরা ও তাঁর সহপাঠী রাজিয়া সুলতানাও এসেছিলেন উৎসব অনুষ্ঠানে। তাঁদের দুজনের বয়স প্রায় আশি। তাঁদের সন্তানেরা সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে সবাই প্রতিষ্ঠিত। রওশন আরা এখনও শারীরিকভাবে শক্ত আছেন। তবে রাজিয়া সুলতানা বয়সজনিত কারণে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। সন্তানেরা তাঁদের অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসেন। এখানে এসে দুই সহপাঠীর সাক্ষাৎ হয়। কুশল বিনিময় শেষে দুজনেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকেই এখন দেশ-বিদেশে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ছাত্ররা শিক্ষা জীবন পার করে কেউ হয়েছেন ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ প্রফেসর, কেউ শিল্পপতি, রাজনীতিক আবার কেউ ছোট চাকরিজীবী, কেউবা কৃষক। পুনর্মিলনীতে এসে সবাই একাকার হয়ে গেছেন। প্রিয় বিদ্যালয়ের উৎসব উদযাপনের খবর শুনে স্পেন থেকে ছুটে এসেছিলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিজাম মুন্সী। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে এসএসসি দিয়েছি। আজ এখানে এসে অনেক সহপাঠীকে পেলাম। এমনও বন্ধু আছে যাদের সাথে দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর পরে দেখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট রাজনীতিক, লেখক ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নূহ-উল আলম লেনিন স্মৃতিচারণ করেন ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান অপু চালকলাদার বক্তব্য রাখেন। উৎসব উদযাপন অনুষ্ঠান উদ্বোধন শেষে কর্মসূচির মধ্যে দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজ, স্মৃতিচারণ, র্যাফেল ড্র ও অনেক রাত পর্যন্ত চলে বিদ্যালয় ও ঢাকা থেকে আগত শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নিউজটি শেয়ার করুন .. ..
‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’
Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com








































