বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায়ের নাতনি সরোজিনী নাইডুর মেয়ে ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজনীতিবিদ পদ্মজা নাইডু

0
9
বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায়ের নাতনি সরোজিনী নাইডুর মেয়ে ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজনীতিবিদ পদ্মজা নাইডু

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ১২ই আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)।। ২৯ জিলহজ, ১৪৪৬ হিজরী।

বিক্রমপুর খবর : নিউজ ডেস্ক :

বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায়ের নাতনি সরোজিনী নাইডুর মেয়ে ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজনীতিবিদ পদ্মজা নাইডু

ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের একটি পরিবারকে নিয়ে লেখা পর্ব -৬

************

অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় (১৮৫১-১৯১৫) একজন ভারতীয় শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন । বিক্রমপুরের লৌহজং থানার ব্রাহ্মণ গাঁও গ্রামে ৩১ অক্টোবর ১৮৫১ ইং জন্মগ্রহণ করেন (বর্তমানে গ্রামটি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে)। ব্রাহ্মণ গাঁও গ্রামের স্মৃতি ব্রাহ্মণ গাঁও উচ্চ বিদ্যালয়টি কয়েকবার পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে এখন লৌহজং উপজেলার ঝাউটিয়া গ্রামে “ব্রাক্ষণ গাও” নামটি বুকে ধারণ করে কালের সাক্ষী দাঁড়িয়ে আছে। বিদ্যালয়ের আয়ুস্কাল ১২৩ বছর, ১৯০২ সালে বিদ্যালয়টি ব্রাক্ষণ গাঁও গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

আমাদের গর্ব বিক্রমপুরের অহংকার ভারতীয় বিশিষ্ট ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজনীতিবিদ পদ্মজা নাইডু

===========

পদ্মজা নাইডু একজন ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজনীতিবিদ।

পদ্মজা নাইডু ১৯০০ সালে হায়দরাবাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

তার মা ছিলেন বাঙালি এবং পিতা তেলুগু। তার মা ছিলেন স্বনামধন্য কবি এবং ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা সরোজিনী নায়ডু। তার পিতা মুত্যালা গোবিন্দরাজুলু নায়ডু একজন চিকিৎসক ছিলেন। তার চার ভাইবোন ছিলেন:

জয়সূর্য,

লীলামণি,

আদিত্য এবং

রণধীরা।

২১ বছর বয়সে তিনি নিজাম শাসিত দেশীয় রাজ্য হায়দরাবাদে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য জেলে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর, তিনি ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতীয় সংসদে নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩ নভেম্বর তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিযুক্ত হন। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুন পর্যন্ত তিনি ওই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

তিনি সমাজসেবী সংস্থা রেড ক্রস এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ভারতীয় রেড ক্রসের চেয়ারপার্সন ছিলেন।

তার জীবনের প্রথম দিকে পদ্মজা রুটি পেটিতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, যিনি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে বিয়ে করেছিলেন, যিনি হলেন পরে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। পদ্মজা নায়ডুর সঙ্গে জওহরলাল ও তার বোন বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতসহ নেহরু পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিত পরে ইন্দিরা গান্ধীর বন্ধু ও জীবনীকার পুপুল জয়াকারকে বলেছিলেন, পদ্মজা নায়ডু এবং নেহরু বহু বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করতেন। নেহরু পদ্মাজাকে বিয়ে করেননি কারণ তিনি তার মেয়ে ইন্দিরাকে আঘাত করতে চাননি। যাইহোক, পদ্মজা কখনো বিয়ে করেননি এই আশায় যে, নেহরু একদিন তাকে প্রস্তাব করবেন।

অবসর গ্রহণের পর পদ্মজা ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তার মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তিন মুর্তি ভবন এস্টেটের একটা বাংলোতে থাকতেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নেহরুর সরকারি বাসভবন এবং পরে সেই জয়গায় তার নামে একটা জাদুঘর উৎসর্গিত হয়েছি।

দার্জিলিং শহরের পদ্মজা নায়ডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্ক তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৫৮ সালের ১৪ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা বিভাগের অধীনে দার্জিলিং শহরের পার্শ্ববর্তী বার্চ হিলে সরোজিনী নাইডুর মেয়ে পদ্মাজা নাইডু (১৯০০-১৯৭৫) এর নাম অনুসারে পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্ক নামে একটি পার্কের নাম রাখা হয়। পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্ক দার্জিলিং চিড়িয়াখানা হিসাবেও পরিচিত। এটি ৬৭.৫৬ একর (২৭.৩ হেক্টর) স্থানজুড়ে অবস্থিত একটি চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানাটি ৭,০০০ ফুট (২,১৩৪ মিটার) উচ্চতায় অবস্থানের কারণে ভারতের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত চিড়িয়াখানা হিসাবে প্রসিদ্ধ। চিড়িয়াখানাটিতে পাহাড়ী অঞ্চলের প্রাণী প্রজনন ব্যবস্থা রয়েছে এবং এখানে স্নো লেপার্ড, হিমালয় অঞ্চলের বিপন্ন প্রজাতির নেকড়ে এবং লাল পান্ডা প্রভৃতি প্রাণীর সফল কৃত্রিম প্রজনন সম্ভব হয়েছে। চিড়িয়াখানাটিতে প্রতিবছর প্রায় ৩,০০,০০০ দর্শনার্থী আসেন। চিড়িয়াখানাটি রেড পান্ডা প্রোগ্রাম এর ক্ষেত্রে ভারতের সেন্ট্রাল জু অথরিটি এর কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে এবং এটি ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব জু এন্ড অ্যাকুরিয়াম এর একজন সদস্য।

ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজনীতিবিদ পদ্মজা নায়ডু ২ মে ১৯৭৫ ইং সালে পরলোকগমন করেন।

তথ্য সূত্রঃ

↑ Bhargava, Gopal (২০০৫)। Land and People of Indian States and Union Territories। পৃষ্ঠা 521। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৫-০৬।

↑ “Biography”। ২৩ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০১৯।

↑ ঝাঁপ দিন:ক খ Makarand R. Paranjape (৩ সেপ্টেম্বর ২০১২)। Making India: Colonialism, National Culture, and the Afterlife of Indian English Authority। Springer Science & Business Media। পৃষ্ঠা 164–167। আইএসবিএন 978-94-007-4661-9।

↑ “Padmaja Naidu Dies at 75; ExWest Bengal Governor”। New York Times। ১৯৭৫। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০১৮।

↑ ইয়ারবুক, মনোরমা (২০১৮)। মনোরমা ইয়ারবুক। কোট্টায়াম, ভারত: মালয়ালা মনোরমা। পৃষ্ঠা ৭১১। আইএসবিএন আইএসএসএন ০৯৭৫-২২৫০ |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: invalid character (সাহায্য)।

↑ Gandhi, Sonia (২০০৪)। Two Alone, Two Together। পৃষ্ঠা 18। আইএসবিএন 0-14-303245-3।

↑ ঝাঁপ দিন:ক খ Nisid Hajari (২০১৫)। Midnight’s Furies: The Deadly Legacy of India’s Partition। Houghton Mifflin Harcourt। পৃষ্ঠা 32–34। আইএসবিএন 978-0-547-66921-2।

↑ Chandralekha Mehta (২৫ আগস্ট ২০০৮)। Freedom’s Child: Growing Up During Satyagraha। Penguin Books Limited। আইএসবিএন 978-81-8475-966-2।

↑ Jayakar, Pupul (১৯৯৫)। Indira Gandhi, a biography (Rev. সংস্করণ)। Penguin। পৃষ্ঠা 90–92। আইএসবিএন 978-0140114621।

↑ Bose, Mihir (২০০৪)। Raj, secrets, revolution : a life of Subhas Chandra Bose। Grice Chapman। পৃষ্ঠা 137, 160। আইএসবিএন 9780954572648।

↑ Alex Von Tunzelmann (৭ আগস্ট ২০০৭)। Indian Summer: The Secret History of the End of an Empire। Henry Holt and Company। পৃষ্ঠা 95, 109, 308। আইএসবিএন 978-0-8050-8073-5।

******

গুগলের সহায়তায় সম্পাদিত

নাছির উদ্দিন আহমেদ জুয়েল

সম্পাদক ও প্রকাশক

বিক্রমপুর খবর ডট কম

********

ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের একটি পরিবারকে নিয়ে লেখা পর্ব-১, পর্ব-২, পর্ব-৩, পর্ব-৪, পর্ব-৫ ,পর্ব-৬ এবং পর্ব-৭ (চলবে)পড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..           

‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের
সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন