
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ৯ই আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)।। ২৬ জিলহজ, ১৪৪৬ হিজরী।
বিক্রমপুর খবর : অনলাইন ডেস্ক :
স্বনামধন্য কবি, অভিনেতা ও নাট্যকার হরীন্দ্রনাথ চট্রোপাধ্যায় এর আজ ৩৬-তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।
বিক্রমপুরের কৃতি সন্তান অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়
ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের একটি পরিবারকে নিয়ে লেখা পর্ব -৪
************
অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় (১৮৫১-১৯১৫) একজন ভারতীয় শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন । বিক্রমপুরের লৌহজং থানার ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে ৩১ অক্টোবর ১৮৫১ ইং জন্মগ্রহণ করেন (বর্তমানে গ্রামটি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে)। ব্রাহ্মণ গাঁও গ্রামের স্মৃতি ব্রাহ্মণ গাঁও উচ্চ বিদ্যালয়টি কয়েক বার পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে এখন লৌহজং উপজেলার ঝাউটিয়া গ্রামে “ব্রাক্ষণ গাও” নামটি বুকে ধারণ করে কালের সাক্ষী দাঁড়িয়ে আছে। বিদ্যালয়ের আয়ুস্কাল ১২৩ বছর, ১৯০২ সালে বিদ্যালয়টি ব্রাক্ষণ গাঁও গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আমাদের গর্ব বিক্রমপুরের অহংকার ভারতের বিশিষ্ট কবি, শিল্পী, অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়
===============
হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের পৈত্রিক বাড়ি বিক্রমপুরে। তিনি ছিলেন ভারতীয় কবি, শিল্পী, অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ।
হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জন্ম ২ এপ্রিল ১৮৯৮ ইং তারিখে এবং মৃত্যু বরণ করেন ২৩ জুন, ১৯৯০সালে।
হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জন্মস্থান তেলঙ্গানা, ব্রিটিশ ভারত।
পরিচিতি:
সোনার কেল্লায় সিঁধুজ্যাঠা নামে অধিক পরিচিত, এছাড়া সীমাবদ্ধ, গুপী গাইন বাঘা বাইন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
দাম্পত্য সঙ্গী:
হরীন্দ্রনাথ বাল্যবিধবা কৃষ্ণা রাওকে বিয়ে করেন, পরবর্তীকালে যিনি সমাজসেবিকা কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায় নামে খ্যাত হয়েছিলেন।
বংশ পরিচিতি:
হরীন্দ্রনাথের পিতা অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ভারতের প্রথম ডি.এস.সি।
তার পৈতৃক বাড়ি ছিল বিক্রমপুরের লৌহজং থানার ব্রাহ্মণ গাঁও গ্রামে (বর্তমানে গ্রামটি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে)। ব্রাহ্মণ গাঁও গ্রামের স্মৃতি ব্রাহ্মণ গাঁও উচ্চ বিদ্যালয়টি কয়েক বার পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে এখন লৌহজং উপজেলার ঝাউটিয়া গ্রামে “ব্রাক্ষণ গাও” বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে।
তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা কমিউনিস্ট বিপ্লবী বীরেন চট্টোপাধ্যায় এবং বোন দেশনেত্রী সরোজিনী নায়ডু। হরীন্দ্রনাথ বাল্যবিধবা কৃষ্ণা রাওকে বিয়ে করেন, পরবর্তীকালে যিনি সমাজসেবিকা কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায় নামে খ্যাত হয়েছিলেন।
প্রারম্ভিক জীবন:
হরীন্দ্রনাথ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। মাত্র ১০ বছর বয়েসে ক্ষুদিরামের ফাঁসির প্রেক্ষিতে ইংরেজি কবিতা ‘ডাইং পেট্রিয়ট’ রচনা করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যান, সেসময় কেম্ব্রিজে নিয়ম ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও মেধা প্রমাণিত হলে ডক্টরেট ডিগ্রির গবেষণার অনুমতি দেওয়া হবে।
প্রতিভাবান হরীন্দ্রনাথ তার ‘ফিস্ট অফ ইয়ুথ’ কাব্যগ্রন্থের জন্যে গবেষণার সুযোগ পান।
রাজনীতিবিদ:
গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। আন্দোলনের সময় তিনি হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় গীতিকার ও সংগীতশিল্পীর কাজ করেছেন। ‘শুরু হুই জং হামার’ গানটি গাইবার জন্যে ৬ মাস জেল হয়। গননাট্য ও প্রগতি লেখক সংঘের সাথে গভীর যোগাযোগ থাকলেও তার সর্বজনপ্রিয়তা তাকে নির্দিষ্ট কমিটি বা দলে আটকে রাখেনি। জওহরলাল নেহ্রু তার প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। মূলত তারই প্রচেষ্টায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত লোকসভা সদস্য হয়েছিলেন। উত্তপ্ত বাদানুবাদ ও রাজনৈতিক তর্কের সময় লোকসভায় তার অনাবিল হাস্য পরিহাস সর্বজনবিদিত। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়কদের সাথে তার বন্ধুত্ব ছিল, তাদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সূকর্ণ অন্যতম।
তার কবিতার প্রশংসা করেছিলেন স্বয়ং কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘দি ফিস্ট অফ ইউথ’। দেশ বিদেশের বহু পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়। দি কফিন, এনসিয়েন্ট উইং, ডার্ক ওয়েল, দি ডিভাইন ভ্যাগাবন্ড, ব্লাড অফ স্টোনস, স্প্রিং ইন উইন্টার, দি উইজার্ড মাস্ক, ফাইভ প্লেজ ইত্যাদি অজস্র রচনা রয়েছে ইংরেজি ভাষায়। বিখ্যাত ‘ইন্টারন্যাশনাল’ সংগীতের হিন্দি তর্জমা করেছেন, লিখেছেন সিনেমার প্রচুর গান। নিজেও সংগীতশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৪৪ সালে গণনাট্য কর্মীরা কলকাতায়
অভিনয়:
হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বোম্বাইতে থাকাকালীন চিত্রপরিচালক হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা জন্মে। তার বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন হরীন্দ্রনাথ। হরীন্দ্রনাথ অভিনীত হিন্দি ছবিগুলি হলো আশীর্বাদ, সাহেব বিবি অউর গুলাম, রাত অউর দিন, তেরে ঘর কে সামনে, চল মুরারী হিরো বননে, বাবুর্চি, গৃহপ্রবেশ ইত্যাদি। আজাদ নামে একটি ছবির প্রযোজনাও করেন তিনি। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় গুপী গাইন বাঘা বাইন, সীমাবদ্ধ, সোনার কেল্লায় অভিনয় করেছেন। শেষোক্ত ছবিতে সিধু জ্যাঠার চরিত্রে বাঙালির কাছে তিনি বহুল পরিচিত।
সম্মাননা ও পুরস্কার:
হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় পদ্মভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত হন।
হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ২৩ জুন, ১৯৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যসূত্র:
রমাপদ চৌধুরী (১৭.০৯.১৪)। “হারানো খাতা”। দেশ। সংগ্রহের তারিখ ২৫.০১.২০১৭। এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
“Harindranath Chattopadhyay: শুধু সিনেমার পর্দায় নন, প্রকৃপক্ষেই ‘সিধু জ্যাঠা’ ছিলেন হরীন্দ্রনাথ”। Aaj Tak বাংলা। সংগ্রহের তারিখ ২০২৩-০৩-১৬।
দ্বিতীয় খন্ড, অঞ্জলি বসু সম্পাদিত (২০০৪)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ৪০৬, ৪০৭। আইএসবিএন 81-86806-99-7।
“‘গুগা বাবা’ ছবির জাদুকর”।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
উত্তম কুমার
ভারতীয় অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক
সোনার কেল্লা (চলচ্চিত্র)
১৯৭৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সত্যজিৎ রায় পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’
১৯৬৯-এর সত্যজিৎ রায় পরিচালিত চলচ্চিত্র
*********
গুগল সহায়তায় সম্পাদিত
নাছির উদ্দিন আহমেদ জুয়েল
সম্পাদক ও প্রকাশক
বিক্রমপুর খবর ডট কম
*******
√ ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের একটি পরিবারকে নিয়ে লেখা পর্ব-১, পর্ব-২, পর্ব-৩, পর্ব-৪, পর্ব-৫ এবং পর্ব-৬ (চলবে)পড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
স্বনামধন্য কবি, অভিনেতা ও নাট্যকার হরীন্দ্রনাথ চট্রোপাধ্যায় এর আজ ৩৬-তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।
নিউজটি শেয়ার করুন .. ..
‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’
Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com

















































