প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (শরৎ কাল)।। ২০ রবিউস সানি ১৪৪৭ হিজরী।
বিক্রমপুর খবর: অনলাইন ডেস্ক : প্রতিভা বসু ছিলেন একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার ও প্রাবন্ধিক। পারিবারিক পরিচয়ে তিনি কবি ও সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসুর স্ত্রী।
প্রতিভা বসু’র জন্ম অবিভক্ত বাংলার ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগনার হাঁসাড়া গ্রাম, যা এখন মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার অন্তর্গত।
তাঁর বাবার নাম আশুতোষ সোম ও মায়ের নাম সরযূবালা সোম।
বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে বিবাহের আগে তিনি “রাণু সোম” নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর দুই মেয়ে মীনাক্ষী দত্ত ও দময়ন্তী বসু সিং এবং এক ছেলে শুদ্ধশীল বসু।
প্রতিভা বসু পশুপ্রেমী ছিলেন।
প্রতিভা বসু শৈশবেই ঢাকা শহরে সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীকালে সাহিত্যিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ।
বাবা আশুতোষ সোম সমকালের ঠুনকো সামাজিকতাকে পাত্তা না দিয়েই মেয়েকে নামকরা উস্তাদদের (চারুদত্ত, মেহেদি হোসেন, ভোলানাথ মহারাজ, প্রফেসর গুল মহম্মদ খাঁ) কাছে গান শিখিয়েছিলেন মেয়েকে। এরই সুবাদে মাত্র ১১ বছর বয়সে রানুর প্রথম গানের রেকর্ড বার হয় ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’ থেকে। তিনি দিলীপকুমার রায়, কাজী নজরুল ইসলাম, হিমাংশু দত্ত ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে গান শেখেন। রাণু সোম নামে তাঁর একাধিক গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। কৃষি কর্মকর্তা বাবার চাকরিসূত্রে রানু সোমরা থেকেছেন ঢাকার মণিপুর ফার্ম, আজিমপুর, বনগ্রাম, ওয়ারী, টিকাটুলী প্রভৃতি এলাকায়। ঢাকার ইডেন স্কুলের ছাত্রী থাকাকালে হিজ মাস্টার্স ভয়েসে তাঁর গান রেকর্ড হয়। এর মনোলোভা বর্ণনা আছে ‘জীবনের জলছবি’তে, যার মধ্য দিয়ে তখনকার সাংগীতিক পরিবেশের একটি চিত্রও ফুটে ওঠে: ”রেকর্ড করতে তখন আমাকে কলকাতা আসতে হয়নি। কর্মকর্তারা ঢাকাতে গিয়ে মেশিন ফিট করেছিলেন। টিকাটুলীতে সুসংয়ের রাজার একটি বাড়ি ছিল। সেই বাড়িটিতেই যন্ত্র ফিট করা হয়েছিল, সেখানে গিয়েই গান গেয়েছিলাম আমি। তখন মাইক ছিল না, ধুতুরা ফুলের মতো দেখতে মস্তবড়ো এক চুঙির ভিতর মুখ দিয়ে গান গাইতে হতো। বোধ হয় তিনখানা না চারখানা রেকর্ড করা হয়েছিল। তার মধ্যে অতুলপ্রসাদ সেনের ‘বঁধুয়া নিদ নাহি আঁখি পাতে’ গানটি ছিল। এই রেকর্ডটি বেরুবার পরে আমি কিঞ্চিৎ বিখ্যাত হয়ে গেলাম”।
ঢাকায় প্রতিভা বসু গান শিখেছেন ওস্তাদ চারু দত্ত, মেহেদী হাসান, ভোলানাথ মহারাজ, গুল মোহাম্মদ খাঁ, প্যারীন্দ্র বসাক প্রমুখের কাছে। বাংলা সংগীত ও সাহিত্যজগতের বিশিষ্টজন দিলীপকুমার রায় ঢাকাভ্রমণে বিখ্যাত বিজ্ঞানী অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসুর রমনার বাড়িতে গানের জলসা আয়োজন করলে সেখানে শহরের আরও অনেক বিশিষ্টজনের সঙ্গে আমন্ত্রিত ছিলেন পিতাসহ রানু সোম।
১৯৪০ সাল পর্যন্ত তিনি সংগীতজগতে ছিলেন। বিবাহের পর তিনি গান ছেড়ে সাহিত্যের জগতে চলে আসেন।
ঢাকাতেই প্রতিভা বসুর সাহিত্যিক সূত্রপাত। এখান থেকেই সাপ্তাহিক ‘নবশক্তি’তে গল্প এবং ‘ভারতবর্ষ’ ও ‘স্বদেশ’ ইত্যাদি খ্যাতনামা পত্রিকায় কবিতা পাঠিয়েছেন; সেসব লেখাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রতিভা সোম’ নামে। গ্রামোফোন কোম্পানির রেকর্ডের সূত্রে প্রায়ই কলকাতা যাতায়াত করতেন তিনি। বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে বিবাহসূত্রে ১৯৩৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিক কলকাতাবাস শুরু প্রতিভা বসুর। কলকাতায় বিয়ের পর অবশ্য বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানের জন্য সপরিবার ঢাকায় এসেছিলেন বুদ্ধদেব-প্রতিভা।

স্বাধীনতার আগে বড়ো হওয়ার ফলে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। এমনকি নিজেও সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী লীলা নাগের অনুপ্রেরণায় বীর বিপ্লবী অনন্ত সিংহের ফাঁসি রদ করার জন্য গান গেয়ে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন প্রতিভা বসু।
প্রতিভা বসু’র অধিকাংশ বই বাণিজ্যিকভাবে সফলতার মুখ দেখে। তাঁর বেশ কয়েকটি উপন্যাস চলচ্চিত্রায়ণ হয় ও ব্যাপক সফলতা পায়। তার মধ্যে রয়েছে আলো আমার আলো, পথে হল দেরি, অতল জলের আহ্বান ইত্যাদি। বেশ কিছু ছবি নির্মিত হয় তাঁর গল্প-উপন্যাস অবলম্বনে, যেখানে উত্তমকুমার আর সুচিত্রা সেন অভিনয়ও করেছেন। গান করার পাশাপাশি লিখতে শুরু করেন। প্রতিভা বসু’র জনপ্রিয়তা এমনই ছিল যে, বই বিক্রেতা এবং প্রকাশকদের মধ্যে বই প্রকাশ ও বিতরণ নিয়ে ঝগড়ারও ঘটনা ঘটে।
প্রতিভা বসুর প্রথম ছোটোগল্প ‘মাধবীর জন্য’ প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে এবং প্রথম উপন্যাস ‘মনোলীনা’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। উপন্যাস, ছোটোগল্প, প্রবন্ধ, আত্মকথা (জীবনের জলছবি), স্মৃতিকথা (ব্যক্তিত্ব বহুবর্ণে) ভ্রমণকাহিনী (স্মৃতি সততই সুখের, ১ম ও ২য় খণ্ড) শিশুপাঠ্য রচনা সহ তিনি শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তিনি ছোটগল্প ও বৈশাখী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করতেন।
বাংলা ভাষায় অনন্য অবদানের জন্য প্রতিভা বসু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভুবনমোহিনী স্বর্ণপদক লাভ করেন। এছাড়াও, সাহিত্যকর্মে সবিশেষ অবদানের জন্য তিনি আনন্দ পুরস্কারে ভূষিত হন।
২০০৬ সালের ১৩ অক্টোবর ৯১ বছর বয়সে কলকাতায় প্রতিভা বসুর মৃত্যু হয়।
প্রতিভা বসুর প্রয়ান দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি।
তথ্যসূত্র ও ছবি : উইকিপিডিয়া ও অন্তর্জাল
নিউজটি শেয়ার করুন .. ..
‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’
Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com

















































