প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ২২ আশ্বিন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (শরৎ কাল)।। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৭ হিজরী।
বিক্রমপুরর খবর : অনলাইন ডেস্ক : ইতিহাসের ফেরিওয়ালা ফরিদপুরের “গোয়ালন্দ ঘাট” পুরনো কলকাতা থেকে পুরনো ঢাকা এবং দেশভাগের রাজসাক্ষী।
অবিভক্ত বাংলার পদ্মা নদীর পূর্ব অঞ্চলের জেলা বিশেষ করে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ (বিক্রমপুর) নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, চাদঁপুর, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম জেলার মানুষের কলকাতায় আসা যাওয়া’র একমাত্র পথ ছিলো গোয়ালন্দ ঘাট।
তৎকালীন সময়ে শিক্ষা দীক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্য, রাজনীতি এবং শিল্প সাহিত্য চর্চার একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু ছিলো অবিভক্ত বাংলার রাজধানী কলকাতা। কলকাতায় আসা যাওয়া মানুষে মুখরিত ছিলো গোয়ালন্দ।
মূলত গোয়ালন্দ ঘাটের প্রাণকেন্দ্র ছিলো রেলস্টেশন ও স্টীমার ঘাট। গোয়ালন্দ ঘাট থেকে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ (বিক্রমপুর), চাঁদপুর নারায়ণগঞ্জের মধ্যে দুটি বড় স্টিমার নিয়মিত চলাচল করতো। স্টিমার দুটির নাম ছিলো অস্ট্রিচ এবং গাজী। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে আসা “ঢাকা মেইল” ট্রেনের যাত্রী নিয়ে রাত দশটায় গোয়ালন্দ থেকে ছেড়ে যেতো স্টীমারগুলো। অন্যদিকে নারায়নগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা স্টীমারগুলো গোয়ালন্দ ঘাটে পোঁছাতো সূর্য ওঠারও আগে। এই সময়সূচি অনুযায়ী চলাচলকারী জাহাজকে বলা হতো “মেইল স্টিমার “। মেইল স্টিমারগুলো সুরেশ্বর, ভাগ্যকূল, লৌহজং এরকম নির্দিষ্ট ঘাটে থামতো। এছাড়া গোয়ালন্দ থেকে পূর্ববঙ্গের মাদারীপুর, বরিশাল, সিলেট, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের দিঘাঘাট, বক্সার, ডিব্রুগড়, হুগলীর মধ্যে যাত্রীবাহী এবং মালবাহী স্টিমার যাতায়াত করতো।

স্টিমারগুলো লম্বায় চার ভাগ করলে নিচতলার সামনে-পেছনে দুই ভাগ জুড়ে ইঞ্জিন এবং নানা রকম কলকব্জা। পিষ্টন,শ্যাফট ইত্যাদি আরও নানা রকম অতিকায় যন্ত্রাংশ। কলকব্জার এলাকার দুই দিক দিয়ে সামনে-পেছনে যাওয়া আসার সরু পথ। কলকব্জায় পাশ দিয়ে স্টিমারের পেছনের দিকে একদম নিচের দিকে তাঁকালে দেখা যেতো দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। একদিকে গণগণে আগুনের প্রকোষ্ঠ অন্যদিকে কয়লার স্তূপ। দু’জন স্টীমার মাস্টার লম্বা হাতলওয়ালা খুপরিতে কয়লা তুলে ইঞ্জিনের চুল্লীর গণগণে আগুনে ছুড়ে মেরে জ্বালানি সরবরাহ রাখতো। স্টীমারগুলো ছিলো দুই তলা বিশিষ্ট। দ্বিতীয় তলা ছিলো শুধুমাত্র যাত্রী বহনের জন্য। অভিজাত ব্যক্তিবর্গের জন্য স্টীমারের একদম সামনের অংশে ছিলো প্রথম শ্রেণীর কেবিন। দ্বিতীয় শ্রেণী ছিলো স্টিমারের পেছনের অংশে আর মাঝখানে ছিল তৃতীয় শ্রেণী। ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ (বিক্রমপুর) এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে গোয়ালন্দ ঘাটে যাওয়ার তৃতীয় শ্রেণীর ভাড়া ছিলো মাত্র ১৪ আনা। তৃতীয় শ্রেণীর যাত্রীরা নিজেরাই বিছানা পেতে শুয়ে থাকতে পারতো। তৃতীয় শ্রেণীকে ডেক বলা হতো। গোয়ালন্দ ঘাটের পূর্ব পাশে ইলিশ মাছের খলা ছিলো সেখানে প্রায় সারারাত বরফ ভাঙা হতো। কলকাতার বাজারে ইলিশ পাঠানোর জন্য রাতভর আড়তদারেরা বাক্সবন্দি করতো পদ্মার রূপালি ইলিশ। ঠিক সকাল সাতটায় স্টীমারের যাত্রী এবং ইলিশ মাছের বগি নিয়ে “ঢাকা মেইল” কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হতো। দেশভাগের পূর্বে গোয়ালন্দ রেলস্টেশন ছিলো ইউরোপীয় মানের প্রথম শ্রেণীর রেল স্টেশন। এই রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার বরাবরই থাকতো ইংরেজ। ব্রিটিশ শাসনের শেষাংশে গোয়ালন্দ রেলস্টেশনের দায়িত্বে ছিলেন মিস্টার আলেকম এবং অন্যজন মিস্টার প্যাস্কল। লোকমুখে শোনা যায় ব্যস্ততার মাঝেও এই দু’জন ইংরেজ স্টেশন মাস্টার স্থানীয়দের সাথে হাডুডু খেলায় ভীষণ পারদর্শী ছিলেন। দেশভাগের পর গোয়ালন্দ ঘাট হারিয়েছে তার জৌলুশ। গোয়ালন্দের কর্মচঞ্চল আজ শুধুই ইতিহাস।

বিক্রমপুরের লোকেরা এভাবেই স্বপ্নের কলিকাতা যেতো, ভাগ্যান্বষনে আসাম যেতো। দেশভাগের আগে অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের আগে এরকম যাত্রীবাহী রকেট স্টিমার নারায়ণগঞ্জ হতে চাঁদপুর,
চাঁদপুর হতে ঢাকা,
ঢাকা হতে লৌহজং,
লৌহজং হতে ভাগ্যকূল,
ভাগ্যকূল হতে গোয়ালন্দ অবধি চলাচল ছিল। এশিয়া মহাদেশীয় সুপরিচিত ছিল তৎকালীন সময় গোয়ালন্দ ঘাট।
Collected
নিউজটি শেয়ার করুন .. ..
‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’
Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com
















































