প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ২৪ আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)।। ১২ মহরম, ১৪৪৭ হিজরী।
বিক্রমপুর খবর : অনলাইন ডেস্ক : কবি বিনয়কুমারী এর বিবাহের পূর্বে নাম ছিল বিনয়কুমারী বসু। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতকের একজন বাঙালি মহিলা কবি।
বিনয়কুমারী বসুর জন্ম ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরে। পিতা কাশীচন্দ্র বসু ঠাকুর ও মাতা ললিতমণি বসু ঠাকুর। তার পৈতৃক নিবাস ছিল বিক্রমপুরে। তিনি ছিলেন খ্যাতনামা ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষের জ্যেষ্ঠা ভাগ্নি।
উল্লেখ্য বিনয়কুমারী বসুর বড় মামা ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষ , আরেক মামা ব্যারিস্টার লালমোহন ঘোষদের বাড়ি পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরের সিরাজদিখানের (বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলায়) বয়রাগাদী (বৈরাগাদী) গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর নানা রামলোচন ঘোষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়ের একনিষ্ঠ ভক্ত। যতটুকু জানা যায় বিনয়কুমারী বসুর বাড়িও একই গ্রামে।
বিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় বারো তেরো বৎসর বয়স হতেই বিনয়কুমারী সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। তিনি কলকাতার বেথুন কলেজে পড়াশোনা করেন।
তার প্রথম রচনা – “জাগো (বালিকার রচনা)” বঙ্গাব্দে যুগ্ম ভাবে ভারতী ও বালক পত্রিকার ১২৯৫ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসের সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। এরপর তার রচিত কবিতা তৎকালীন “সাহিত্য”, “দাসী”, “ভারতী”, “প্রদীপ” প্রভৃতি মাসিক পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হত।
বিনয়কুমারীর ষোল বৎসর বয়সে ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দের ৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ- নব মুকুর । ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দের ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ নির্ঝর।
১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে (১৩০০ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে) তাঁর বিবাহ হয় চিকিৎসক ভারতচন্দ্র ধর-এর সাথে। তাদের দুই কন্যা ও পাঁচ পুত্র সন্তান ছিল এবং সকলকেই তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। পরিবারের সকল সদস্যের দেখাশোনা, রন্ধনকার্যসহ সমস্ত দায়িত্ব পালনের সাথে সাহিত্য রচনা করে গেছেন।
‘বেহুলা ও মা লক্ষ্মী’ মতো গল্প “সাহিত্য ” সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা উপলক্ষে ভারত বন্দনা কবিতা রচনা করেন।কবিতাটি কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী সম্পাদিত “পূর্বাচল” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত তার রচিত বঙ্গের মহিলা কবি গ্রন্থে বিনয়কুমারীর রচনা সম্পর্কে আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, তার কবিতায় যেমন দুঃখের ছাপ (‘কে বুঝিবে’ কবিতায়) পাওয়া যায় তেমনই প্রেম ও আত্মসমর্পণের ভাবনা ( ‘রাত্রির প্রতি রজনীগন্ধা’ কবিতায়) পরিস্ফুট হয়।
নিচে তার দু’টি কবিতা তুলে ধরলাম __
১।
“কে বুঝিবে ?”
(নির্ঝর কাব্য ১৮৯১ থেকে নেওয়া)
কবি : বিনয়কুমারী বসু বা বিনয়কুমারী ধর
নিরখি নয়ন কোণে এক বিন্দু অশ্রুবারি,
. কে বুঝিবে বল ?
প্রাণের ভিতরে তব কি সিন্ধু লুকায়ে আছে,
. কত তার তরঙ্গ প্রবল!
একটি দীরঘ শ্বাসে, কে বুঝিবে, এ জগতে
. কি ভীম তুফান
হৃদয়ের মাঝে তব, বহিতেছে দিবানিশি
. চূরমার করিছে পরাণ!
শুনিয়া ও ক্ষীণ কণ্ঠে বিষাদের মৃদুতান,
. কে বুঝিবে হায় ?
কি গভীর মর্ম্মোচ্ছ্বসে কি গভীর হাহাকারে
. বুক তব ভেঙ্গে নিতি যায়!
২।
” বঙ্গবধূ “
কবি: বিনয়কুমারী বসু
মূর্ত্তিমতী নব প্রেম, সলাজ সুন্দরী
যোড়শী কিশোরী বালা ঊষার প্রতিমা,
লু্ক্কায়িত গৃহকোণে ; বধূ-রূপ ধরি
বঙ্গ-অন্তঃপুর মাঝে বদ্ধ মধুরিমা।
ঘোমটায় আবরিত অনিন্দ্য আনন,
অবনত আঁখিপাতা কমলের দল ;
বেড়ি মণিবন্ধ দুটি কনক-কঙ্কণ
জাগাইছে অণুক্ষণ পতির মঙ্গল।
রাঙ্গা-লজ্জা-বস্ত্রে ঢাকা চম্পকবরণ
সুগোল কোমল চারু পূর্ণ-তনুখানি,
নিশবদ পদক্ষেপে করে বিচরণ ;
শুনিতে পায় না কেহ অধরের বাণী!
স্নেহ-বন্দী, চির-রুদ্ধ গৃহের মাঝারে ;
লক্ষ্মী লুকাইয়া যেন বরুণ-আগারে।
. ***************
তথ্যসূত্র:
সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৪৭১, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
“Binoy Kumari Dhar ( Basu Thakur)”। সংগ্রহের তারিখ ২০২৫-০৬-০৯।
“বঙ্গসাহিত্যে নারী”। সংগ্রহের তারিখ ২০২৫-০৬-০৭।
√√√কবি বিনয়কুমারী ধর এর মামা ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষ এবং তাঁহার ছোট ভাই ব্যারিস্টার লালমোহন ঘোষ (দুই মামা) কে নিয়ে লেখা পরের পর্ব ২টি পড়ার জন্য আহ্বান করছি ।
গুগল সহায়তায় সম্পাদিত
নাছির উদ্দিন আহমেদ জুয়েল
সম্পাদক ও প্রকাশক
বিক্রমপুর খবর ডট কম
এবং
কিউরেটর
বিক্রমপুর জাদুঘর
তারিখ: ৮ জুলাই ২০২৫ ইং
নিউজটি শেয়ার করুন .. ..
‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’
Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com
















































