প্রকাশিত:শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ইং ।। ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।
বিক্রমপুর খবর :লৌহজং থেকে স্টাফ রিপোর্টার মিজানুর রহমান ঝিলু : মা ইলিশ অভিযান শেষ হওয়ার পর থেকে লৌহজংয়ে পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে আটকা পড়ছে ঝাকেঝাকে পাঙাশ। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৮০০ পাঙাশ শিকার করেছেন জেলেরা। কোনো কোনো জেলের জালে ২০ থেকে ৭০/৮০টি পাঙাশ ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে। পাঙাশের আকারও বেশ বড়ো। গড় ওজন প্রায় ৬/৭ কেজি। গড়ে ৬০০ টাকা কেজি দরে লৌহজংয়ের বাজারগুলোতে পাঙাশ কেটে বিক্রি করছে মাছ ব্যবসায়ীরা। যাদের গোটা মাছ কেনার সামর্থ্য নেই, তারা কয়েকজন মিলে ভাগে কিনে নিচ্ছে।
পদ্মানদী থেকে বুধবার দিবাগত রাতে ও বৃহস্পতিবার দিনে মিলে মোট ৮৪ টি পাঙাশ শিকার করেছেন সিংহেরহাটি গ্রামের ফয়জল আলম। বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় রাউৎগাঁও গ্রামের শাহজাহান মাদবর ১১ টি ও পাইকারা গ্রামের নুরুল হক মোল্লা পেয়েছেন ৩৪ টি পাঙাশ। নদীতে নেমে অন্তত ১/২ টি পাঙাশও পায়নি এমন কোনো জেলেকে পাওয়া যায়নি। মোটকথা পদ্মানদীতে এখন চলছে রীতিমতো পাঙাশ শিকারের মহোৎসব। জেলেদের জালে বিপুল সংখ্যক পাঙাশ ধরার খবর শুনে পদ্মাপাড়ে রাতবিরেতে পাঙাশ কিনতে মানুষের হিড়িক পড়ছে। বৃহস্পতিবার রাতেও কনকসার বাজারে পাঙাশ কেটে বিক্রি করতে দেখা গেছে। পদ্মাচরের বাসিন্দা আয়নাল দেওয়ান জানান, বিগত ৫০ বছরেও পদ্মায় এত পাঙাশ দেখা যায়নি।
সাম্প্রতিক নিম্নচাপের প্রভাবে কারণে ভারত থেকে এ মাছ নেমে আসছে বলে তিনি মনে করেন। পাঙাশ শিকার করা সিংহেরহাটি গ্রামের পদ্মাপাড়ের জেলে বিল্লাল মলঙ্গী, চান্দু মলঙ্গী, খালেক হাওলাদারদের মন অনেক ভালো। কারণ, তাঁরা মা ইলিশ অভিযানের সময় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ভয়ে নদীতে নামেননি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পদ্মাপাড় থেকে ৬ কেজি ওজনের দুটি পাঙাশ ৬ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে আনেন কালের কন্ঠের সাংবাদিক মাসুদ খান ও হলদিয়া ইউনিয়নের সদস্য লক্ষণ সরকার। তার আগের দিন বুধবার রাতে ৫ হাজার টাকায় ৯ কেজি ওজনের একটি তাজা পাঙাশ কিনে আনেন কনকসার গ্রামের যুবক মনির হোসেন মানিক। তিনি এমন শতভাগ ফরমালিনমুক্ত ও তাজা পাঙাশ কিনতে পেরে বেজায় খুশি। পদ্মাপাড়ের জেলে আবদুর রহিম জানান, সামনের জোয়ারের মৌসুম থেকে জৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত জেলেরা এরকম পাঙাশ পেতে থাকবে।









































