বিদ্যুতের দাম বাড়ালো

0
0
বিদ্যুতের দাম বাড়ালো

প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ।। ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)।। ১৬ই জিলহজ্জ, ১৪৪৭ হিজরী।

বিক্রমপুর খবর: অনলাইন ডেস্ক : জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা, এই তিনটি পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খরচ গড়ে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর রমনায় কমিশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই মূল্যহার ঘোষণা করেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। নতুন নির্ধারিত এই দাম চলতি জুন মাসের বিল থেকেই কার্যকর হবে। তবে গ্রাহকশ্রেণিভিত্তিক বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত থাকছে।

কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি বিদ্যুতের ভারিত গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩১ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩১ পয়সা করা হয়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ছে ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। অন্যদিকে, সঞ্চালন মূল্যহার বা হুইলিং চার্জ ইউনিটপ্রতি ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা করা হয়েছে, যা শতাংশের হিসাবে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি। পাইকারি ও সঞ্চালন মূল্যহার বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা মূল্যে। খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন গ্রাহকশ্রেণির বিদ্যুতের ভারিত গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন খুচরা মূল্যহারের বিন্যাস অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের লাইফলাইন বা ০ থেকে ৫০ ইউনিটের দাম ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের প্রথম ধাপে (০-৭৫ ইউনিট) ৬ টাকা ১৮ পয়সা, দ্বিতীয় ধাপে (৭৬-২০০ ইউনিট) ৮ টাকা ৫০ পয়সা, তৃতীয় ধাপে (২০১-৩০০ ইউনিট) ৯ টাকা ১০ পয়সা, চতুর্থ ধাপে (৩০১-৪০০ ইউনিট) ৯ টাকা ৬২ পয়সা, পঞ্চম ধাপে (৪০১-৬০০ ইউনিট) ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ষষ্ঠ ধাপে অর্থাৎ ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের দাম ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পের জন্য নিম্নচাপে ইউনিটপ্রতি দাম করা হয়েছে ৬ টাকা ৪ পয়সা। বাণিজ্যিক ও অফিস গ্রাহকদের নিম্নচাপে ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা, অফ পিকে ১৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং পিক আওয়ারে ১৮ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন।

বিইআরসি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয়, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়, পাইকারি পর্যায়ে পিডিবিকে সরকারের ভর্তুকি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির পরও পিডিবির অবশিষ্ট ঘাটতি মেটাতে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া চাপের মুখে সরকার গত ১৮ এপ্রিল চার ধরনের তেলের দাম বাড়ায়। মে মাসে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও জুনে এসে ডিজেল বাদে বাকি তিন ধরনের তেলের দাম আবারও বাড়ানো হয়। জ্বালানি তেলের এই ধাক্কার পরই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এর আগে সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাইকারি বিদ্যুতের গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল। বিদ্যুৎ খাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে পিডিবি, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি এবং ডেসকো, ডিপিডিসি ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডসহ বিতরণ কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর পৃথক প্রস্তাব জমা দেয়। এসব প্রস্তাবের ওপর গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে পিডিবি জানিয়েছিল, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ সরবরাহের গড় ব্যয় ইউনিটপ্রতি ১২ টাকা ৯১ পয়সা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘাটতি কমাতে এই মূল্য সমন্বয় অনিবার্য হয়ে পড়েছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..           

‘‘আমাদের বিক্রমপুরআমাদের খবর।
আমাদের সাথেই থাকুনবিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন