ড. নীলিমা ইব্রাহিমের ১০৪তম জন্মদিন আজ

0
2
ড. নীলিমা ইব্রাহিমের ১০৪তম জন্মদিন আজ

প্রকাশিত : শুক্রবার ১১ অক্টোবর ২০২৪, খ্রিষ্টাব্দ।। ২৬ আশ্বিন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ(শরৎকাল )।। ০৭ রবিউস সানি ১৪৪৬ হিজরি।

বিক্রমপুর খবর : অনলাইন ডেস্ক : বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী নীলিমা ইব্রাহীম(১১ অক্টোবর ১৯২১-১৮ জুন ২০০২ ইং)বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের শিক্ষক এবং পরবর্তিতে অধ্যাপক। নীলিমা ইব্রাহিম এর জন্মদিন আজ। তিনি ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী। নীলিমা ইব্রাহিম বরাবরই একজন মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল পরীক্ষায় তিনি কৃতিত্বের পরিচয় দেন। তিনি খুলনা করোনেশন বালিকা বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা, কলকাতা ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন থেকে আইএ এবং স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বিএবিটি পাস করেন।

বাংলা বিষয়ে এম এ পাস করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বিটি সম্পন্ন করেন স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে।

১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৭২ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই বীরাঙ্গনাদের পূনর্বাসন ও তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করা মানুষদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নীলিমা ইব্রাহীম।
১৯৭৪-৭৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন। এ কাজের জন্য তিনি বেতন কিংবা সম্মানি নেননি।
১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসে নীলিমা ইব্রাহিমের বিয়ে হয়। স্বামী ইন্ডিয়ান আর্মি মেডিকেল কোরের ক্যাপ্টেন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম। বিয়ের পর তিনি তাঁর পূর্বের নাম নীলিমা রায় চৌধুরী পরিবর্তন করে হয়ে যান আমাদের সকলের পরিচিত নীলিমা ইব্রাহিম।
স্বামীর বদলির চাকরির কারণে গিয়েছেন পিরোজপুর, যশোর, বরিশাল, খুলনায়।
তিনি আবারও পড়াশোনা শুরু করেন ১৯৫৬ সালে। এ সময় তিনি ঢাকায় আসেন পিএইচডি করতে। একই বছর জুন মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের পর উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে দেশের জন্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন নীলিমা ইব্রাহিম।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ক্যাম্পাসেই ছিলেন তিনি। তাই প্রত্যক্ষ করেছিলেন নরঘাতক পাকিস্তানি সেনাদের তান্ডব।
২৭ তারিখ ক্যাম্পাস ছেড়ে নারিন্দায় গেলেন। ৩০ মার্চ ঢাকা ছাড়েন। আবার আগস্টে ফিরে আসেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ, প্রচারপত্র বিলিসহ ছাত্র-ছাত্রীদের সংঘবদ্ধ করে মুক্তিসংগ্রামে প্রেরনের জন্য কাজ করে গেছেন।
এজন্য তিনি তৎকালীন সামরিক শাষক টিক্কা খানের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। তাঁকে টিক্কা খান তাঁর অন্তর্ঘাতী কর্মকান্ডের জন্য কঠোর ভাবে হুশিয়ার করে সতর্কপত্র দেন যা জাতীয় যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
বিজয়ের দু’দিন পর ১৮ ডিসেম্বর সকালে মুনীর চৌধুরী, আনোয়ার পাশাদের উদ্ধারের কথা বলে মিরপুর বধ্যভূমিতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো পাকিস্তানিদের দোসররা। শুধু বেঁচে যান আত্মীয় ড. মুজিবুল হকের কারণে।
মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর পৈশাচিকতা, বর্বর হত্যাকান্ড তাঁকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মান তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী ড. নীলিমা ইব্রাহিমের জন্মদিন আজ
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি দেশ গড়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযুদ্ধে হানাদার কর্তৃক নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনে ও তাদের বেঁচে থাকার প্রেরনা যোগাতে তিনি নারী পূনর্বাসন বোর্ড গঠনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। তিনি নিজ উদ্যোগে অনেক বীরাঙ্গনা নারীকে সদ্য স্বাধীন দেশে সম্মানের সাথে বসবাসের জন্য প্রতিষ্ঠিত করেন।
যুদ্ধপরবর্তী সময়ে নীলিমা ইব্রাহিম নারী পূনর্বাসন বোর্ডের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন নারী পূনর্বাসন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়িয়েছেন, বীরাঙ্গনাদের বেঁচে থাকতে উৎসাহ দিয়েছেন অবিরাম। এভাবেই তাঁর সুযোগ হয়েছিল বীরাঙ্গনা নারীদের সাথে কথা বলার।
তিনি বিভিন্ন সময়ে অনেক বীরাঙ্গনাদের সাথে কথা বলে জেনেছেন তাদের নির্যাতনের ইতিহাস। কতটা নিষ্ঠুর ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তারা। তিনি এ সমস্ত বীরাঙ্গনাদের মাত্র কয়েকজনের ঘটনা সংকলন করেছেন ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ নামক স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থে।
ড. নীলিমা ইব্রাহিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট এবং সংস্কৃত ও পালি বিভাগের অধ্যক্ষের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ মহিলা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির সভাপতি, এসোসিয়েটেড কান্ট্রি উইমেন অব দা ওয়ার্ল্ড এর সাউথ ইস্ট এশিয়ার এরিয়া প্রেসিডেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল এলায়েন্স অব উইমেন-এর ভাইস প্রেসিডেন্টের মত গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশের একমাত্র নারী প্রতিনিধি হিসেবে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নারী কংগ্রেসে যোগদান করেন।
শরৎ প্রতিভা, বাংলার কবি মধুসূদন, বাংলা নাটক: উৎস ও ধারা, বাঙালি মানস ও বাংলা সাহিত্য, আমি বীরাঙ্গনা বলছি ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
তাঁর সারা জীবনের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
১৮ জুন ২০০২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ps://www.facebook.com/3square1

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..             

   ‘‘আমাদের বিক্রমপুরআমাদের খবর

আমাদের সাথেই থাকুনবিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com

আমাদের পেইজ লাইক দিন শেয়ার করুন।       

জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন