প্রকাশিত: শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ২৮ আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)।। ১৬ মহরম, ১৪৪৭ হিজরী।
বিক্রমপুর খবর : অনলাইন ডেস্ক : বরেন গঙ্গোপাধ্যায় (৩ জানুয়ারি ১৯৩০ — ১২ ডিসেম্বর, ২০০১) বিক্রমপুর জন্মা একজন বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি একজন খ্যাতনামা ছোটগল্পকার ও ঔপন্যাসিক।
বরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম ঢাকার বিক্রমপুরের (বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলার) শ্রীনগর উপজেলার কয়কীর্তন গ্রামে।
বিক্রমপুরে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে পরে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। এরপর শিক্ষকতার কাজ নিয়ে সুন্দরবন চলে যান এবং সুন্দরবনের নিম্নবর্গের মানুষদের কথা তাঁর গল্প-উপন্যাসে উঠে এসেছে বারবার।
খ্যাতনামা ঔপন্যাসিক বরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের
তার তোপ,
বজরা,
কানি বোষ্টুমির গঙ্গাযাত্রা,
কাক,
বেস্পতির এক বাবু ছিল,
সহবাস ইত্যাদি গল্পে সুন্দরবনের সমাজ ও সংস্কৃতি ফুটে ওঠে। তার দুটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস বনবিবির উপাখ্যান ও বাগদা।
সংবাদ প্রতিদিনে তিনি নিয়মিত গ্রাম বাংলা সম্পর্কিত ফিচার লিখতেন। শিক্ষকতা ছাড়ার পর কিছুদিন যুগান্তর পত্রিকায়।সেই কাগজ বন্ধ হলে তিনি লেখাতেই ছিলেন শুধু। কিছুদিন কলেজ স্ট্রিট পত্রিকা সম্পাদনা করেন। গল্প বিচিত্রা নামের একটি গল্পের কাগজ সম্পাদনা করেন বরেন গঙ্গোপাধ্যায় । তাঁর ছিল পাহাড় ভ্রমণের নেশা তাই কিছু ভ্রমণকাহিনীও লিখেছেন তিনি।বছর বছর পাহাড়ে, তুষার সম্রাজ্যে যেতেন।
বরেনদা অনেকদিন সুন্দরবনের একটি স্কুলে মাস্টারি করেছিলেন, তারপর আসেন যুগান্তরে। গল্প বিচিত্রা নামের একটি গল্পের কাগজ সম্পাদনা করেন। তাঁর ছিল পাহাড়ের নেশা। এই স্নেহময় অগ্রজের সঙ্গে অনেক আড্ডা দিয়েছি।
১৯৭৬ সালে শিক্ষকতার পেশা থেকে অবসর নিয়ে লেখালিখিতে ব্যস্ত থাকতেন তিনি।
২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি তাকে সংবর্ধনা প্রদান করে।
১৯৭৪ সালে বরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ ভ্রমণ ও কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের সাথে সাক্ষাৎ :
১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ বছরের তরুণ ইমদাদুল হক মিলনের সাথে বরেন গঙ্গোপাধ্যায় এর সাক্ষাৎ হয় ঢাকার হোটেল পূর্বাণীতে যখন তিনি কলকাতা থেকে কয়েকজন বিখ্যাত সাহিত্যিকদের সাথে বাংলাদেশ ভ্রমণের আসেন।
ইমদাদুল হকের ভাষায় বরেন গঙ্গোপাধ্যায় এর কথপোকথন নিচে দেয়া হলো –
“ওদিকে বরেন গঙ্গোপাধ্যায় একা দাঁড়িয়ে আছেন। আমি গিয়ে তাঁর অটোগ্রাফ চাইলাম। বেচারা নরম নিরীহ ধরনের মানুষ। আমাকে পেয়ে খুশি। অটোগ্রাফ দিতে দিতে বললেন, তুমি লেখ? এইভাবে পরিচয়। কথায় কথায় তিনি জানলেন আমি বিক্রমপুরের ছেলে। জেনে তাঁর চোখেমুখে অদ্ভুত এক আলো খেলে গেল। আরে তাই নাকি? আমিও তো বিক্রমপুরেরই লোক। বিক্রমপুরের ‘কয়কীর্তন’ গ্রামে ছিল আমাদের বাড়ি। দেশ বিভাগের সময় চলে গিয়েছিলাম। বিক্রমপুরে আর কখনো ফেরা হয়নি। আমাদের বাড়ি নিশ্চয় অন্য কেউ দখল করে নিয়েছে। বাড়িটা হয়তো চিনতেও পারব না। তারপরও যদি একবার ‘কয়কীর্তন’ গ্রামে যেতে পারতাম। আচ্ছা শোনো, সকালে গিয়ে বিকালে ‘কয়কীর্তন’ দেখে ফেরা যাবে না? ‘কয়কীর্তন’ গ্রামটা আমি চিনতাম। শ্রীনগরের কাছে। তখনো বাংলাদেশের খাল নদীতে অনেক জল। সদরঘাট থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় লঞ্চ চলে যায় শ্রীনগরে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লঞ্চ আছে। সকাল ৭টা-৮টার দিকে রওনা দিলে সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় ঘুরে আসা যাবে। বললাম কথাটা। শুনে তিনি খুবই উৎসাহী। তাহলে চলো কাল সকালেই যাই। সকাল ৬টার মধ্যে তুমি পূর্বাণী হোটেলে চলে আসবে। আমি রেডি হয়ে থাকব। কাল ছাড়া সময়ও নেই। পরশু আমরা কলকাতায় ফিরব।
আমি মহা উৎসাহে রাজি। পরদিন ঠিক সময়ে গিয়ে হাজির হয়েছি পূর্বাণী হোটেলে। গিয়ে দেখি তিনি মুখ কালো করে বসে আছেন। মন খারাপ করা গলায় বললেন, বুড়োটা পারমিশন দেয়নি। অন্নদাশংকর! দাদা কিছুতেই রাজি না। টিমলিডার, বললেন যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়! যদি টাইমলি ফিরতে না পারি ইত্যাদি ইত্যাদি। চা খাও। তিনি চা খাচ্ছিলেন। টি পট থেকে আমাকে চা ঢেলে দিলেন, দুধ চিনি মিশিয়ে দিলেন। তারপর থেকে কলকাতার যে পত্রিকাতেই তাঁর লেখা পাই, পড়ি। বেশ অন্যজাতের লেখক। এমন সব বিষয় নিয়ে গল্প লেখেন, অবাক লাগে। ভাষা বেশ স্বচ্ছ। কিন্তু তার আর নিজ জন্মভূমি বিক্রমপুর যাওয়া হলো না । তার জন্ম ভিটা দেখার ইচ্ছে পূরন হলো না।”
তথ্যসূত্র
“বরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প | বাংলাদেশ প্রতিদিন”। Bangladesh Pratidin (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-১২।
Akādemī patrikā। Paścimabaṅga Bāmlā Ākādemi, Tathya o Saṃskr̥ti Bibhāga, Paścimabaṅga Sarakāra। ২০০২।
“গুণী লেখক ছিলেন বরেন গঙ্গোপাধ্যায়”। NTV Online (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-১০-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-১২।
Mitra, Amar (২০২০-০৭-১৮)। Galpa Parar Galpa: গল্প পড়ার গল্প। Boierhut Publications।
দ্বিতীয় খন্ডের সংযোজন (২০০৭)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ৩৯।
উইকিপিডিয়া থেকে সম্পাদিত
নাছির উদ্দিন আহমেদ জুয়েল
নিউজটি শেয়ার করুন .. ..
‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’
Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com















































