ফটোগ্রাফি; যে বিষয় গুলো জানা জরুরী

0
187
ফটোগ্রাফি; যে বিষয় গুলো জানা জরুরী

প্রকাশিত: শনিবার, ১মে  ২০২১ইং।। ১৮ই বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ(গ্রীস্মকাল)। ১৮ রমজান ১৪৪২ হিজরী

বিক্রমপুর খবর : অনলাইন ডেস্ক :ভালো ফটোগ্রাফার হবার জন্য অনেক কিছু প্রয়োজন। প্রথম যে জিনিসটা প্রয়োজন সেটা হলো ভালো একটা ক্যামেরা। তবে এটি যে খুবই দামী ডিএসএলআর ক্যামেরা হতে হবে এমন কোন কথা নেই। এরপর প্রয়োজন হবে ক্যামেরা ও ফটোগ্রাফি সম্পর্কে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এবং সেই সাথে সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি। রাতারাতি ভালো ফটোগ্রাফার হওয়া যায় না। তাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য্য, চেষ্টা ও আগ্রহ। শৌখিন বা পেশাগত সব ফটোগ্রাফারদের কাজে আসবে এমন ১২০টি টিপস এখানে দেওয়া হল।

  1. নতুন ক্যামেরার প্যাকেঁটি এমনভাবে খুলুন যাতে ক্যামেরাটি আবার রিপ্যাক করা যায় এবং প্যাকেটি যত্ন করে রেখে দিন। নতুন ক্যামেরা প্রথমদিকে অতি যত্নের সাথে ব্যাবহার করুন যেন কোন স্পট না পড়ে। কারণ কোন সমস্যা হলে ক্যামেরাটি তখন প্যাকেটসহ ফেরত দিতে পারবেন।
  2. নতুন ক্যামেরায় প্রথমবারের সেটিংগুলো, যেমন: ব্যাটারি ফুলচার্জ, মেমোরি কার্ড ইনস্টল, তারিখ ও সময়, ভাষা নির্বাচন ইত্যাদি ইউজার গাইড দেখে সঠিকভাবে করুন।
  3. আপনার ক্যামেরাকে ভালোভাবে জানতে ও বোঝতে হলে ম্যানুয়েলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একাধিকবার পড়ুন।
  4. ক্যামেরার কোন বাটন বা অপশন না বোঝলে আন্দাজে পরীক্ষা-নিরিক্ষা না করে ম্যানুয়েল দেখে জেনে নিন।
  5. শুরু থেকেই সঠিকভাবে ক্যামেরা ধরার অভ্যাস করুন । দক্ষ ফটোগ্রাফার হিসেবে ভালো ছবি তোলার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  6. ক্যামেরার জন্য মজবুত ও টেকশই একটি ব্যাগ কিনুন। ব্যাগটি এমন হওয়া উচিত যাতে এর মধ্যে ক্যামেরার আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র রাখা যায় এবং বাইরের চাপ, আঘাত ও বৃষ্টি থেকে ক্যামেরাকে রক্ষা করে।
  7. ক্যামেরা লেন্সের ব্যাগে সিলিকা জেলের একটা প্যাকেট রাখুন, তাতে ক্যামেরা ও লেন্সে ফাঙ্গাস আসার সম্ভাবনা থাকবে না। 8. এমন ক্যামেরা না কেনাই ভালো যার ব্যাটারি ও মেমোরি কার্ড সহজে পাওয়া যায় না। সম্ভব হলে অতিরিক্ত একটি ব্যাটারি প্রথম দিকেই কিনে রাখুন। কারণ মডেল পুরানো হয়ে গেলে তখন আর ব্যাটারি পাওয়া যায় না।
  8. ক্যামেরা নিয়ে বাইরে যাওয়ার আগে ব্যাটারির চার্জ ও মেমোরি স্পেস চেক করুন এবং ক্যামেরা সংক্রান্ত আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র সাথে আছে কিনা দেখে নিন।
  9. এসি রুম থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে ক্যামেরা বের করবেন না বা খুলবেন না। কারণ এতে ল্যান্সে কনডেন্স আসতে পারে।
  10. ক্যামেরা নিয়ে বের হওয়ার সময় যে কোন প্রতিকূল আবহাওয়া ও অবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে বের হউন। 12. খুব ঠান্ডা ও গরম জায়গায় ক্যামেরা রাখবেন না। এমনকি সরাসরি সূর্যের আলো ও কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পাশেও ক্যামেরা রাখা উচিত নয়।
  11. আপনার ক্যামেরার বিভিন্ন অপশন ও ফিচারের চিহ্ন ও সংকেতগুলো শুরুতেই ম্যানুয়েল দেখে জেনে নিন।
  12. হালকা কমপ্যাক্ট ক্যামেরায় ছবি তুলতে শাটার বাটন চাপ দেওয়ার সময় শ্বাস- প্রশ্বাস বন্ধ রাখুন, কারন সেসময় ক্যামেরা কাঁপার সম্ভাবনা বেশি।
  13. নতুন কোন দেশ বা শহরে গেলে প্রথমে ভিউ কার্ডের স্থানীয় দোকান ভিজিট করুন। ছবি তোলার কিছু আইডিয়া পেয়েও যেতে পারেন।
  14. বিশেষ করে এসএলআর ক্যামেরায় লেন্স খোলার পর ক্যামেরা মাউন্ট হাত বা কিছু দিয়ে ঢেকে রাখুন, যাতে এর মধ্য দিয়ে ধুলোবালি বা সূর্যের আলো ঢুকতে না পারে।
  15. আপনার ক্যামেরার ডিসপ্লের উপর পুরোপুরি নির্ভর করবেন না। কারণ ছবির বাস্তব উজ্জলতা ও কালার কোয়ালিটি ডিসপ্লেতে প্রদর্শিত হয় না।
  16. ক্যামেরা ধরার সময় বাহু শরীরের সাথে লাগিয়ে রাখুন অথবা আশেপাশে কোন সাপোর্ট থাকলে তার সাথে হাত লাগিয়ে শট নিন।
  17. ম্যানুয়েল ফ্লাশ কেনার সময় ক্যামেরার সাথে ফ্লাশটি খাপ খায় কিনা জেনে নিন। এমন ধরনের ফ্লাশ কিনবেন না যার লাইটটিকে আপ-ডাইন করা বা চারপাশে ঘুরানো যায় না। ক্যামেরা ও ফ্লাশের জন্য সম্ভব হলে এক্সট্রা ব্যাটারি রাখুন।
  18. মেমোরিকে সম্পূর্ণ খালি করে আবার ব্যবহারের আগে ফরমেট করুন। একটি বড় সাইজের পরিবর্তে দুইটি মাঝারি সাইজের মেমোরি ব্যবহার করুন।
  19. ক্যামেরা ও লেন্স পরিষ্কারের জন্য তুলি, টিস্যু, ব্লোয়ার ও পরিষ্কার সুতি কাপড় ব্যবহার করুন।
  20. আদ্রতাযুক্ত আবহাওয়ায় বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ক্যামেরা ও লেন্সের বেশি যত্ন নিন। ক্যামেরা সবসময় শুষ্ক স্থানে রাখুন। 23. ক্যামেরার লেন্স ও এলসিডি ডিসপ্লে স্পর্শ করবেন না। হাতের ময়লা বিশেষ করে তেল জাতীয় কিছু লাগলে স্থায়ী দাগ পড়ে যেতে পারে।
  21. সমূদ্র সৈকতে লবনাক্ত পরিবেশ, বালি ও আদ্রতা থেকে রক্ষার জন্য ক্যামেরা বেশিক্ষণ খোলা রাখবেন না। ছবি তোলার পর ক্যামেরা ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখুন।
  22. ক্যামেরার ব্যাগটি মাঝে মাঝে পরিষ্কার করুন। ব্যাগের মধ্যে বালি বা ময়লা থাকলে ক্যামেরা ও লেন্সের জন্য ক্ষতি হবে। 26. ছবি তোলার সময় ক্যামেরার স্ট্রেপটি গলায় বা হাতের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখুন। অসাবধানতায় ক্যামেরাটি হাত থেকে ছুটে গেলেও অন্তত মাটিতে পড়বে না।
  23. যে ব্র্যান্ড ও মডেলের ক্যামেরাটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা কেনার আগে ইন্টারনেটে রিভিউ দেখুন। সেখানে অনেক অজানা ও মূল্যবান তথ্য পেয়ে যেতে পারেন।
  24. অতিরিক্ত ঠান্ডা ক্যামেরার এলসিডি ডিসপ্লে ও ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর।
  25. আমরা অনেক সময় নিজের বা নিজেদের ছবি তোলার জন্য অপরিচিত লোকের হাতে ক্যামেরা তুলে দিই। দামী ক্যামেরা অপরিচিত লোকের হাতে দেওয়ার সময় সতর্ক থাকবেন, লোকটি হয়তো ছিনতাইকারীও হতে পারে।
  26. কোন নতুন এলাকায় যাওয়ার আগে সেখানকার দর্শনীয় স্থান ও ছবি তোলার সুন্দর জায়গা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ রাখুন। 31. ছবি তোলার আগে সাবজেক্ট, আলো, ব্যাকগ্রাউন্ড, ভিউ অফ এঙ্গেল, এক্সপোজ ইত্যাদি নিয়ে পরিকল্পনা করুন।
  27. ছবি তোলার আগে সম্ভব হলে সময় নিয়ে দৃশ্য ও সাবজেক্টের অনুকূলে ক্যামেরার ফিচার ও কমপোস সেটিং করুন।
  28. সাবজেক্টের ব্যাকগ্রাউন্ড যতটুকু সম্ভব প্লেইন রাখার চেষ্টা করুন। এর কালার সাবজেক্টের কালারের চেয়ে যেন উজ্জল না হয়।
  29. ব্যাটারি চার্জ ও মেমোরি স্পেস পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকলে ভিউ পয়েন্ট, কমপোস ও এক্সপ্লোজার সামান্য পরিবর্তন করে একই সাবজেক্টের একাধিক ছবি তুলুন। পরে সবচেয়ে ভালো ছবিটি রেখে বাকীগুলো ডিলিট করতে পারবেন।
  30. আপনার ক্যামেরার বিভিন্ন ফাংশন ও ফিচার দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে কিছু ছবি তুলে এগুলোর এফেক্ট জেনে রাখুন। পরবর্তীতে এগুলোর সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবহার করতে পারবেন।
  31. ফটোগ্রাফিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ”আলো”। তাই ছবির দৃশ্যে প্রথমেই আলোর উৎস, পরিমাণ, প্রতিফলন ইত্যাদি নিয়ে ভাবুন।
  32. কৃত্রিম আলোর পরিবর্তে প্রাকৃতিক আলোতে ছবি তোলার চেষ্টা করুন।
  33. আলোর উৎস সাবজেক্টের পিছনে থাকলে ফ্লাশ ব্যবহার করুন।
  34. কমপ্যাক্ট ক্যামেরার বিল্ড-ইন-ফ্লাশ সাধারণত ৫-১০ মিটারের বেশি কভার করে না। আপনার ক্যামেরার ফ্লাশের ক্ষমতা আগেই পরীক্ষা করে জেনে নিন।
  35. অনেক ক্ষেত্রে একই সাবজেক্টের একটি Horizontal ও আরেকটি Vretical ছবি থাকলে ভালো হয়।
  36. ছবি তোলার আগে ছবির সাবজেক্ট সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন। প্রাকৃতিক দৃশ্যের ভালো ছবি তোলতে পারে যে ফটোগ্রাফার তিনি একজন ভালো Naturalistও বটে।
  37. সাবজেক্টকে ফ্রেমে যতটুকু সম্ভব বড় রাখার চেষ্টা করুন এবং ফ্রেমের মাঝখানে না রেখে ১/৩ অবস্থানে রাখুন।
  38. তাড়াহুড়ো না থাকলে সময় নিযে ছবি তুলুন। আগে দৃশ্য, সাবজেক্ট, আলোর উৎস, কমপোজ, এক্সপ্লোজার ইত্যাদি নিয়ে ভেবে তারপরে শট নিন।
  39. জীবজন্তু, মানুষ ও শিশুর ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব কাছে গিয়ে এবং সাবজেক্টের আই লেভেল বরাবর ক্যামেরা ধরে ছবি তুলুন। 45. শট নেওয়ার আগে ক্যামেরা সাবজেক্টকে ঠিকমতো ফোকাস করেছে কিনা দেখে নিন।
  40. সবসময় ক্যামেরার অপটিক্যাল জুম ব্যবহার করুন। ডিজিটাল জুমে ছবির কোয়ালিটি হ্রাস পায়।
  41. সচরাচর যেসব এঙ্গেল থেকে ছবি তোলা হয় তার পরিবর্তে সম্ভব হলে কিছুটা ব্যতিক্রম এঙ্গেল থেকে ছবি তুলুন।
  42. ফটোশপ বা এই জাতীয় কোন ফটো এডিটিং প্রোগ্রাম যতটুকু সম্ভব শিখে নিন।
  43. অপরিচিত কোন লোকের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন।
  44. গতিশীল সাবজেক্টের ছবি তোলার জন্য প্রয়োজন দ্রুত গতির শাটার স্পীড। কমপ্যাক্টের চেয়ে এস এল আর ক্যামেরায় এ ধরনের ছবি ভালো হয়।
  45. ছবি তোলতে ক্যামেরার শুট বাটন সম্পূর্ণ চাপ দেওয়ার পর লেন্সের শাটার ওপেন হয়ে আলো সেন্সরে এসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবিটিকে মেমোরিতে সংরক্ষণ করা পর্যন্ত পুরো প্রসেসটি সম্পন্ন করতে সামান্য কিছু সময় লাগে। এই সময়কে Shutter lag বলে।
  46. কমদামী ও দূর্বল কমপ্যাক্ট ক্যামেরায় Shutter lag সেকেন্ডের বেশি হতে পারে। তাই এই ধরনের ক্যামরায় শুট বাটন চাপ দেওয়ার পর কয়েক সেকেন্ড ক্যামেরা স্থির ভাবে ধরে রাখতে হয়, অন্যথায় ছবি ঝাপসা হতে পারে।
  47. স্লো শাটার স্পীডে ক্যামেরা Tripod-এ রেখে ছবি তুলুন অথবা স্থির কিছুর উপর ক্যামেরা রেখে সেলফ টাইমার ব্যবহার করুন।
  48. এলসিডি ডিসপ্লের পাশাপাশি যদি ভিউ ফাইন্ডারও থাকে তবে ছবি তোলার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিউ ফাইন্ডার ব্যবহার করুন।
  49. এসএলআর ক্যামেরায় লেন্সের মুখে একটি UV ফিল্টার লাগিয়ে রাখুন। তাতে বাইরের কোন আঘাত বা ঘর্ষণে লেন্সের ক্ষতি হবে না।
  50. প্রয়োজন ছাড়া ক্যামেরা অন করে না রাখলে, ঘন ঘন ফ্লাশ ব্যবহার না করলে এবং তোলা ছবি বারবার প্লে করে না দেখলে ব্যাটারির চার্জ কম খরচ হয়।
  51. ফটোগ্রাফির যে কোন টিপস্ ও পরামর্শ পেলে নোট করে রাখুন। কারণ স্মৃতি প্রতারণা করলেও লিপি তা করে না।
  52. ভোরের ও বিকালের সূর্যের আলোতে সাধারণত ছবি ভালো হয়।
  53. যে স্থানে ছবি তোলবেন সেটি প্রথমে নিজের চোখ ও হৃদয় দিয়ে অবলোকন করুন, তারপরে ক্যামেরা দিয়ে দেখুন।
  54. সূর্যের আলো লেন্সে পড়ে ছবিতে যে লেন্স ফেয়ার তৈরি করে তা থেকে রক্ষা পেতে লেন্স হুড ব্যবহার করুন।
  55. সম্ভব হলে ক্যামেরার সর্বোচ্চ কোয়ালিটি ও মেগাপিক্সেল ব্যবহার করে ছবি তুলুন। প্রয়োজনে পরে রিসাইজ করতে পারবেন। 62. Exploser সেটিং-এ ISO যত কম রাখা যায় ততই ভালো, বেশি ISO ছবিতে নয়েজ সৃষ্টি করে।
  56. নিজের তোলা ছবির সমালোচনা গ্রহণ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  57. পোট্রেইট ছবিতে সাবজেক্টের পোজ, দৃশ্য ও ব্যাকগ্রাউন্ড এমনভাবে নির্বাচন করুন যাতে যার ছবি তোলা হবে তার ব্যক্তিত্বও ফুটে উঠে।
  58. ফ্লাশ ব্যবহারের আগে সাবজেক্টের কোন অসুবিধা হবে কিনা জেনে নিন। তাছাড়া অনেক যাদুঘর ও আর্ট প্রদশর্নীতে ছবি তোলার অনুমতি থাকলেও ফ্লাশ ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকে।
  59. নবজাতকের ছবি তোলার সময় ফ্লাশ ব্যবহার করবেন না।
  60. ফটোগ্রাফ সম্পর্কিত বই, পত্র-পত্রিকা, ব্লগ-ফোরাম ইত্যাদি চর্চা করুন।
  61. ক্যামেরার ম্যানুয়েল মুডে ছবি তোলার চেষ্টা করুন। তাতে ক্যামেরা ও ছবির উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
  62. ছবিতে আলো ও রংকে উচ্চমাত্রায় নিয়ন্ত্রন করতে লেন্সে আলাদা ফিল্টার ব্যবহার করুন।
  63. আপনার আশেপাশের সুন্দর জায়গাগুলো চিনে রাখুন। সুযোগ পেলে ভালো আবহাওয়ায় সেখানে গিয়ে ছবি তুলুন।
  64. ফটোসাংবাধিক হিসেবে ছবি তোলার সময় ছবির শিল্পের চেয়ে তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে বেশি।
  65. ব্যক্তির ছবির ক্ষেত্রে ভালো ছবি উঠলে নিজে বাহবা না নিয়ে ছবির ব্যক্তিকে প্রশংসা করুন।
  66. ছবি তোলার সময় শুধু ক্যামেরাতে চোখ রাখলে চলবে না। নিজের অবস্থানের আশেপাশেও নজর রাখুন, যাতে কোন দূর্ঘটনা না ঘটে।
  67. যার/যাদের ছবি তোলবেন তার/তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন। তাহলেসবাই অপনার সাথে ছবি তুলতে স্বাছন্দ্য বোধ করবে।
  68. কখনও জোর করে কারো ছবি তোলার চেষ্টা করবেন না।
  69. ছবি তোলার জন্য তাড়াহুড়ো করে কোন দৃশ্য সিলেক্ট না করে আশেপাশে চারিদিকে একটু ঘুরে দেখুন। হয়তো আরো ভালো দৃশ্য পেয়ে যেতে পারেন।
  70. Histogram বোঝার চেষ্টা করুন, এটি ছবি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে।
  71. ছোট সাবজেক্টের ছবি তোলার সময় খুব কাছে গিয়ে সর্বোচ্চ জুমিং করে ফোকাস করুন। এধরনের ছবির জন্য অনেক ক্যামেরায় ম্যাক্র জুম অপশন থাকে।
  72. আপনার ছবি সম্পর্কে অন্যেরা কি বলবে তা নিয়ে ভাববেন না। আপনি যদি নিজে পছন্দ করেন তাহলে তা মিডিয়ায় প্রকাশ করুন।
  73. যে ধরনের দৃশ্য আপনি পছন্দ করেন এবং যেসব সাবজেক্টে আপনার উৎসাহ বেশি সে ধরনের ছবি বেশি তুলুন।
  74. সম্ভব হলে সবসময় Tripod ব্যাবহার করুন, এতে অনেক কঠিন ছবি তোলা সহজ হয়।
  75. সাবজেক্টের আচার-আচরণ ও লাইফস্টাইল পর্যবেক্ষন করুন। তাহলে আগেই বোঝতে পারবেন ছবি তোলার সঠিক মুহুর্তটি কখন আসবে।
  76. সাবজেক্টকে সেন্টারের বাইরে রেখে ফোকাস করতে অসুবিধা হলে আগে ফোকাস করে তারপর সেন্টার থেকে সরিয়ে শ্যুট করুন।
  77. খেলাধুলার বিশেষ মুহুর্ত এবং শিশুদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার বিশেষ মুহুর্তগুলোর ছবি তোলতে আবহেলা করবেন না। কারণ এধরনের মুহুর্ত আর নাও আসতে পারে।
  78. সূর্যোদয়ের পরে এক ঘন্টা ও সূর্যাস্তের আগে এক ঘন্টা ছবি তোলার সবচেয়ে ভালো সময়ে। ফটোগ্রাফির ভাষায় এই সময়কে magic hour বলা হয়।
  79. পোট্রেট ছবি তোলার সময় সাবজেক্টকে relux করার জন্য হাস্যরসাত্মক কথাবার্তা বা গানবাজনা ব্যবহার করা যেতে পারে।
  80. ভ্রমনের সময় এমনভাবে ছবি তুলুন যেন স্থানীয় লোকের লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য স্থানীয় তথ্য ফুটে উঠে।
  81. দৃশ্যে দিগন্তরেখা, দীর্ঘ সৈকত, উপকূল, দীর্ঘ সোজা রাস্তা ইত্যাদি থাকলে সেগুলোকে ছবির কোন পাশে রাখলে ভালো দেখাবে তা নিয়ে ভাবতে হবে।
  82. ফ্লাশের আলোকে সরাসরি সাবজেক্টের ওপরে না ফেলে আশেপাশের দেয়ালে বা ছাদে বাউন্স করে ফেললে ছবি ভালো হয়। 90. যেখানে আলো কম সেখানে ISO বাড়িয়ে ছবি তুলুন।
  83. গতিশীল সাবজেক্টের ছবিতে সাবজেক্টের আগে ও পিছে কিছু খালি জায়গা রাখুন।
  84. গতিশীল সাবজেক্টের ছবি তোলার ক্ষেত্রে সাবজেক্ট যেসব স্থানে আসবে তার যে কোন একটি স্থানের ফোকাস ক্যামেরাতে রেডি করে রাখুন। সাবজেক্ট সে জায়গায় আসা মাত্রই শট নিন।
  85. ’ডেফথ অফ ফিল্ড’ কমিয়ে সাবজেক্টকে ফোকাস করে ব্যাকগ্রাউন্ডকে ব্লার করা যায়।
  86. সূর্যাস্ত বা দূরের কোর প্রাকৃাতক দৃশ্যের ছবি নেওয়ার সময় ফোরগ্রাউন্ড (দৃশ্য ও ক্যামেরার মধ্যবর্তী স্থান) খালি না রেখে প্রাকৃাতিক কিছু রাখুন – ছবিটি ত্রিমাত্রিক এফেক্ট পাবে।
  87. কোন সাবজেক্টের বিশালতা বা ক্ষুদ্রতা প্রকাশের জন্য ছবিতে সাবজেক্টের আশেপাশে এমন কিছু রাখুন যাতে দর্শক বোঝতে পারে সাবজেক্টটি কত বড় বা ছোট।
  88. প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি প্যানারমিক হলে সুন্দর দেখায়। আপনার ক্যামেরাতে সীনমুডে Panaromic অপশন থাকলে তা ব্যবহার করুন। বড় সাইজের ছবি তোলে পরে ক্রোপ করেও প্যানারমিক করা যায়।
  89. যার ছবি তোলা হবে তাকে যে সবসময় ক্যামেরার দিকে তাকাতে হবে এমন কোন বাঁধাধরা নিয়ম নেই। সাবজেক্টের স্বাভাবিক মুডের ছবি তোলার চেষ্টা করুন।
  90. নিজের তোলা ছবি প্রদর্শনী বা ওয়েবসাইটে দেওয়ার আগে জেনে নিন কোন সাইজটি সেখানকার জন্য প্রযোজ্য। আরজিন্যাল ছবির কপি রিসাইজ করে সেখানে পাঠান।
  91. এমনভাবে ছবি তুলবেন না যা দেখলে অসম্পূর্ণ মনে হয়। ছবি এমন হওয়া উচিত যাতে দর্শক সব তথ্য পেয়ে যায়।
  92. গ্রাফিক্স প্রোগ্রামে ছবি এডিট করার পর আলাদাভাবে সেভ করুন। পরে অডিট ছবিটি ভালো না লাগলে আগের ছবিতে ফিরে যেতে পারবেন।
  93. রঙিন ছবিকে সহজে সাদা-কালো করা যায়। তাই ডিজিটাল ক্যামেরায় রঙিন ছবি তোলা উচিত।
  94. ডিজিটাল ছবি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ছবি তোলার স্থান, তারিখ ও উপলক্ষ ইত্যাদির সমন্বয়ে নতুন ফোল্ডারের নাম দিন। তাতে পরে ছবি খুজেঁ বের করতে সুবিধা হয়। ছবি অন্তত দুই জায়গায় সেভ করুন – হার্ডডিস্ক ও সিডি বা ডিবিডিতে।
  95. ভালো ফটোগ্রাফার হওয়ার শর্টকাট কোন রাস্তা নেই। ধৈর্য্য, আগ্রহ ও চেষ্টার সমন্বয়েই সম্ভব ভালো ছবি তোলা।
  96. কোন ছবির সমালোচনা করার সময় ছবিটি ভালো বা খারাপ হওয়ার কারণগুলোও বর্ণনা করুন।
  97. নিজের তোলা ছবিগুলো আপনার চেয়ে বড় ফটোগ্রাফারকে দেখান এবং তাদের সমালোচনা গ্রহণ করুন।
  98. সব ধরনের ছবিতে এক্সপার্ট হওয়া কঠিন ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ফটোগ্রাফির বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা থেকে আপনার সবচেয়ে পছন্দের একটি শাখায় বেশি মনোযোগী হউন, তাতে কম সময়ে ভালো ফলাফল পেতে পারেন।
  99. ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিন। কোন ছবির ভুল-ত্রুটিগুলো আবিষ্কার করার পর সম্ভব হলে একই স্থানে গিয়ে আবার ছবি তুলুন।
  100. ভালো ছবি তোলার জন্য সবসময় এক্সপেরিমেন্ট করুন। ভালো ফটোগ্রাফারদের প্রসিদ্ধ ছবিগুলো পর্যবেক্ষন করুন এবং ছবির কারিগরি ও শৈল্পিক কলাকৈশল বোঝতে চেষ্টা করুন। ভালো ফটোগ্রাফার হতে সময় লাগে।
  101. উপসনালয়, সরকারী স্থাপনা ও সামরিক এলাকার ছবি তোলার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেবেন।
  102. অন্য ফটোগ্রাফারের কোন স্টাইল হুবুহু কপি না করে ছবিতে নিজস্ব স্বাতস্ত্র-বৈশিষ্ট্য আনার চেষ্টা করুন।
  103. সম্ভব হলে ক্যামেরাটি সব সময় সাথে রাখুন (বিশেষ করে কমপ্যাক্ট ক্যামেরা যা সহজেই বহন করা যায), ছবি তোলার একটি দূর্লভ মুহুর্ত যে কোন সময় আসতে পারে।
  104. ক্যামেরা সবসময় শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
  105. বিশেষ কোন প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানে ছবি তোলার সময় ব্যাটারি ও মেমোরি স্পেসের দিকে নজর রাখুন। অনেক সময় শুরুতে অপ্রয়োজনীয় ছবি তোলে ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে পরে আর গুরুত্বপূর্ণ ছবি তোলা সম্ভব হয় না।
  106. ছবি তোলার মুহুর্তগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করুন। তাহলে ফটোগ্রাফিতে একঘেঁয়েমি আসবে না।
  107. সম্ভব হলে একাধিক ফটোগ্রাফারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তাদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা কাজে আসতে পারে।
  108. ফটোগ্রাফিতে নিজেকে কখনও অন্যের তুলনায় ভালো বা খারাপ কোনটিই মনে করবেন না।
  109. ফটোগ্রাফিতে নিজস্ব একটি স্টাইল তৈরি করার চেষ্টা করুন।
  110. আপনার তোলা ছবিগুলো থেকে শ্রেষ্ট ১০০ ছবিকে আলাদা করে রাখুন। নতুন ভালো ছবি যোগ করে একে নিয়মিত আপডেট করুন।
  111. ভালো ছবি ভাগ্য ও বাই চান্সে হয় না, bএকে ক্যামেরা দিয়ে ফটোগ্রাফার সৃষ্টি করে।
  112. শুধু ক্যামেরা ভালো হলেই ছবি ভালো হয় না। ভালো ছবির জন্য প্রয়োজন ক্যামেরার পিছনে একজন দক্ষ মানুষ।

121. ফ্লাশের আলোকে সরাসরি সাবজেক্টের ওপরে না ফেলে বাউন্স করে ফেললে রেজাল্ট ভালো পাওয়া যাবে। 122.) আপনার ক্যামেরায় ‘র’ ফরমেটে ছবি তোলার সুবিধা থাকলে তা প্রয়োগ করুন। ‘র’ ফরমেটের ছবিকে ইচ্ছে মতো এডিট করা যায়, ছবির কোনও ক্ষতি হয় না। তবে ‘র’ ফরমেটে ছবি তোলার আগে ‘র’ ফরমেটের ছবি ওপেন করার পদ্ধতি জেনে নিন। 123. শুধু ছবি তোলার ক্ষেত্রেই ভিন্ন কিছু করার চিন্তা করলে হবে না, হাতের কাছের জিনিস দিয়ে ছবি তোলার সহায়ক কিছু আবিষ্কারের চিন্তাও করা চাই। যেমন ধরুন, একটি খাবারের ছবি তুলতে আপনি কারও বাহারি রঙের ওড়নাকে ব্যাকগ্রাউন্ড হিসাবে ব্যবহার করলেন। 124. যার ছবি তুলতে চান, তাকে ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার দ্বারা আপনার ব্যক্তিত্বের প্রতি আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করুন; এতে সে ছবি তুলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। 125. জিতুন আর না জিতুন, ফটোগ্রাফির প্রতিযোগিতায় বেশি বেশি অংশ নিন। আপনাকে ইন্টারনেট এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করবে। 126. আপনি ফটোসাংবাদিক হতে চাইলে অবশ্যই ছবির শিল্পমূল্যের চেয়ে গুরুত্ব দেবেন ছবির তথ্যমূল্যকে। 127. ডিজিটাল ক্যামেরা অন অবস্থায় সরাসরি সূর্যের আলোর দিকে লেন্স তাক করবেন না। এতে সেন্সর নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 128. আপনাকে যাতে ক্যামেরার কথা শুনতে না হয়, ক্যামেরা যাতে আপনার কথা শুনে সেজন্য ক্যামেরার মেন্যুয়াল মুডে ছবি তোলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 129. সরকারি স্থাপনার ছবি তোলার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নেবেন। 130. কম আলোয় কম শাটার স্পিড সেট করতে হয়। ফলে গতিশীল বস্তুর ছবি তুললে মোশন ব্লার হয়। এমন অবস্থায় বেশি আইএসও সেট করে শাটার স্পিড বাড়িয়ে দিন। এতে হয়তো ছবিতে নয়েজ বাড়বে, কিন্তু গতিশীল বস্তু স্থির থাকবে। 131. ফ্রেমের মধ্যে ফ্রেম তৈরি করুন। মনে করুন, একটি জানালা দিয়ে বাইরের পাহাড় দেখা যাচ্ছে। আপনার ক্যামেরার ভিউ ফাইন্ডার একটি ফ্রেম, সেই ফ্রেমে জানালা আরেকটি ফ্রেম তৈরি করেছে। পাহাড়ের ছবি সরাসরি না তোলায় ছবিটা ব্যতিক্রম হয়েছে। 132. সামনে ও পেছনে অবস্থিত দুটি সাবজেক্টের ছবি তুললে উভয়কেই ফোকাস করা অসম্ভব। একটি ফোকাস হবে, আরেকটি আউট অফ ফোকাস। দুটি সাবজেক্টকে একই সাথে মোটামুটি ফোকাস করতে দুজনের মধ্যকার দূরত্বের মাঝামাঝি ফোকাস করতে হবে। 133. আপনার ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা ছবিটি কত মেগাপিক্সেলের তা বের করতে, ক্যামেরায় তোলা ছবির দৈর্ঘ্যে যত পিক্সেল আছে তা দিয়ে প্রস্থের পিক্সেলকে গুণ দিন। ১০ লক্ষ পিক্সেলে ১ মেগাপিক্সেল, এটা আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত। আপনার গুণ ফল যদি হয় ১০ লক্ষ, তাহলে বুঝতে হবে ছবিটি ১ মেগাপিক্সেলের। 134. এমন ফ্লাশ কিনবেন না যার লাইটটিকে ইচ্ছে মতো টিল্ট আপ, টিল্ট ডাউন এবং ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরানো যায় না। 135. ফটোগ্রাফির বিভিন্ন উপ-শাখা থেকে আপনার সবচেয়ে পছন্দের একটি শাখায় বেশি মনোযোগী হউন। এতে ফটোগ্রাফির জগতে আপনার আধিপত্য বৃদ্ধি পাবে। যেমন ধরুন, বাংলাদেশের নাসির আলী মামুন, নাসির আলী মামুন মানেই যেন বিখ্যাত ব্যক্তিদের বিখ্যাত সব ছবি। 136. রাতের শহর বা আলোকসজ্জার ছবি তুলতে লেন্সের মাথায় একটি স্টার ফিল্টার লাগিয়ে নিলে ছবিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে; ছবির এক একটি আলোক উৎসকে এক একটি তারা বলে মনে হবে। 137. ক্যামেরা থেকে লেন্স খোলার পর অবশ্যই ক্যামেরা মাউন্টে (যেখানে লেন্সটা লাগানো হয়) হাত বা কিছু দিয়ে ঢেকে রাখবেন যাতে ক্যামেরা বডিতে ধুলো-বালি ও সূর্যের আলো ঢুকতে না পারে। 138. নবজাতকদের ছবি তোলার ক্ষেত্রে ফ্লাশ ব্যবহার বিপদজনক। 139. ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা প্রতিদিনের ছবি প্রতিদিন নামিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে সাথে সাথে সিডিতে সেভ করুন। ক্যামেরার মেমোরি কার্ড যত খালি রাখা যায় তত ভালো। 140. ক্যামেরা ও ফ্লাশের জন্য এক্সট্রা ব্যাটারি রাখুন। 141. সব সময় বিশ্বাস করবেন যে, জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ছবিটি এখনও তোলা হয়নি।

ডিজিটাল ক্যামেরা কি? ডিজিটাল ক্যামেরা বলতে এমন ক্যামেরা বোঝায়, যেগুলোতে সনাতনী ফিল্ম ব্যবহৃত হয় না, বরং তার বদলে মেমরী চিপের মধ্যে ছবি ধারণ করে রাখার ব্যবস্থা থাকে। ডিজিটাল ক্যামেরার মান হিসাব করা হয় মেগা পিক্সেল দিয়ে যত বেশি মেগা পিক্সেল তত বেশি বড় ছবি ধারণ করার ক্ষমতা। প্রথমে দাম বেশি থাকলেও ফিল্ম ক্যামেরা থেকে অনেক দ্রুত দাম কমছে, এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ফিল্ম লাগেনা এবং সাথে সাথে স্ক্রিনে ছবি দেখা যায় বলে এর চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। নিকট ভবিষ্যতে এটি ফিল্ম ক্যামেরাকে জাদুঘরের পণ্যে পরিণত করতে পারে। মূলত ডিজিটাল ক্যামেরায় কোনো ফিল্ম ব্যবহার করা হয় না।এই জন্যে ডিজিটাল ক্যামেরাকে ফিল্মলেস ক্যামেরাও বলা হয়। ডিজিটাল ক্যামেরায় এক ধরনের অপটিক্যাল সেন্সর ব্যবহার করা হয়। অপটিক্যাল সেন্সর অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আলোক সংবেদনশীল ডায়োড (ফটোসাইট) দিয়ে তৈরি। এই অপটিক্যাল সেন্সরের কাজ হল আমরা যেই বস্তুটির তুলব সেই বস্তু থেকে আসা আলোকে ইলেক্ট্রনিক চার্জে রূপান্তরিত করা। ডিজিটাল ক্যামেরার মেগাপিক্সেল সম্পর্কে ধারনা এবার আলোচনা শুরু হবে ক্যামেরার মেগাপিক্সেল নিয়ে। প্রথমে আপনাকে একটি প্রশ্ন করি ও অনুমান করি আপনার একটি ক্যামেরা আছে যেটি ১৫ মেগাপিক্সেল এর আর আপনার বন্ধুর একটি ক্যামেরা আছে ৮ মেগাপিক্সেল এর। এখন কার ক্যামেরাতে ছবি ভালো আসবে? আপনার নাকি আপনার বন্ধুটির ক্যামেরায়। উত্তর সাধারন ভাবে সবাই বলবে যে আপনার ক্যামেরাতে ছবি ভালো আসবে। আসলে কি তাই? ডিজিটাল ক্যামেরার আসল রহস্য কি? মেগাপিক্সেল এর মূলে রয়েছে পিক্সেল। পিক্সেল হচ্ছে ছোট এক বিন্দু তথ্য যা কিনা থাকে ডিজিটাল ছবি। এই রকম মিলিয়ন পিক্সেল মিলে তৈরি করে একটি ছবি। মেগা মানে হচ্ছে মিলিয়ন। যার অর্থ দারাচ্ছে ১০ মেগাপিক্সেলের একটা ছবি তে থাকে ১০ মিলিয়ন পিক্সেল। আর ১৪ মেগাপিক্সেল ছবিতে থাকে ১৪ মিলিয়ন পিক্সেল। মনে করুন, একটি ছবি আছে আয়তকার আকৃতির। এবং ছবিটি যদি লান্ডস্কেপ হয়, তাহলে, ১০ মেগাপিক্সেল এর ছবিটির সাইজ হবেঃ দৈর্ঘ্যঃ ২৫৯২ পিক্সেল এবং প্রস্থঃ ৩৮৮৮ পিক্সেল। ১৪ মেগাপিক্সেল এর ছবিটির সাইজ হবেঃ দৈর্ঘ্যঃ ৩১০৪ পিক্সেল এবং প্রস্থঃ ৪৬৭২ পিক্সেল। এখন আপনি দৈর্ঘ্য আর প্রস্থ গুন করলেই পেয়ে যাবেন ছবিটি কত পিক্সেলের। ২৫৯৮*৩৮৮৮=১০,০৭৭,৬৯৬ পিক্সেল = ১০ মেগাপিক্সেল ৩১০৪*৪৬৭২=১৪,৫০১,৮৮৮ পিক্সেল = ১৪.৫ মেগাপিক্সেল তো, এখন আপনার কি মনে হয়, যে পিক্সেল বেশি হলেই ছবি ভাল আসে? হ্যা, আপনি যদি ছবি বড় করতে চান তাহলে বেশি পিক্সেল এর ক্যামেরা হলে ভালো। এখন দেখি, আপনি কতটা বড় ছবি তুলতে চান? মেগাপিক্সেল প্রিন্ট সাইজ (ইঞ্চি) 2.0 = 4 x 6 [standard] 3.0 = 5 x 7 4.0 = 8 x 10 5.0 = 8 x 12 6.0 = 9 x 12 8.0 = 11 x 14 10.0 = 12 x 16 12.0 = 16 x 20 14.0 = 18 x 24 এখন আপনি যদি 4 x 6 ইঞ্চি আকারে ছবি প্রিন্ট করতে চান তাহলে ২ মেগাপিক্সেল আর ১৪ মেগাপিক্সেল একি এ পিকাচার কুয়ালিটি দেবে। পিক্সেল বেশি হলেও ও ছবির কুয়ালিটি সমান থাকবে। এখন আপনি যদি 4 x 6 ইঞ্চি আকারে ছবি প্রিন্ট করতে চান তাহলে ২ মেগাপিক্সেল আর ১৪ মেগাপিক্সেল একি এ পিকাচার কুয়ালিটি দেবে। পিক্সেল বেশি হলেও ও ছবির কুয়ালিটি সমান থাকেবে। এইখানে কিছু কথা রয়ে যায় আর সেটা হচ্ছে এই পিক্সেল কি ডি এস এল আর ক্যামেরার নাকি পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরার? ডি এস এল আর এবং পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরার পিক্সেল একসাথে তুলনা করা যাবে না। এর প্রধান কারন হচ্ছে যে, পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরার সেন্সর ডি এস এল আরের সেন্সর থেকে অনেক ছোট থাকে (এইটা প্রায় ২৫ গুন)। যার কারনে পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরার পিক্সেল আকারে ছোট থাকে। অপরদিকে ডি এস এল আরের সেন্সর আকারে বড় হওয়ার দরুন অনেক বেশি ফোটন গ্রহন করতে পারে। পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরার ছোট পিক্সেল এর কারনে এইটা অনেক কম আই এস ও তে ছবি তুলে যার কারনে ছবি তে নইএস বেশি থাকে। এই ছোট সেন্সর এর জন্য পয়েন্ট অ্যান্ড শুট এর ইমেজ কুয়ালিটি ডি এস এল আরের চেয়ে খারাপ হয়ে যাই। কোন ধরনের ক্যামেরা আপনার বিশেষ প্রয়োজন? এবং ক্যামেরার প্রকারভেদ আজকের বাজারে বিভিন্ন ডিজিটাল ক্যামেরায় ভরপুর, প্রথমেই সবার, জিজ্ঞাসা কোন ক্যামেরা কিনবো? যে প্রশ্নের উত্তর সাধারণত, কত টাকা আপনি ব্যয় করতে চান এবং কি ধরনের ফটোগ্রাফি করতে চান? যেমন, ন্যাচার, ওয়েডিং, পোর্টেট, ফ্যামিলি ফটগ্রাফী ইত্যাদি। সাধারনত বাজারে ৩ ধরনের ক্যামেরা পাওয়া যায়  বেসিক পয়েন্ট অ্যান্ড শুট  কম্পেক্ট  ডি এস এল আর। পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরা এই ৩ ধরেনের ক্যামেরার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরা। এই ক্যামেরা আমরা অনেকেই ব্যবহার করি এবং এইটা ব্যবহার করতে আপনাকে খুব বেশি কিছু জানতে হবে না। ক্যামেরা হাতে নিন, অন করুন, সাবজেক্ট কে ফুকাস করুন এবং ক্লিক করুন। ব্যাস, আপনার ছবি ওঠে গেলো।

 সুবিধা:

অল্প দামেই পাচ্ছেন খুব সহজ ভাবে। বেশ হাল্কা এবং খুব সহজেই বহন করা যায়। অটুমেটিক ফিচার গুল খুব সহজেই আপনার ছবি তুলতে সাহায্য করে।

 অসুবিধা:

ইচ্ছে করলেই ক্যামেরার লেন্স পরিবর্তন করতে পারবেন না। অনেক সময় ক্যামেরার অপারেশন স্লো অপারেশন এর জন্য ছবি কিছুটা ব্লার আসতে পারে। ভিউ ফাইন্ডার না থাকার জন্য দিনের বেলায় ছবি তুলতে অসুবিধা হতে পারে। কারন অতি উজ্জ্বল আলোয় LCD Display তে অনেক সময় ছবির ওরিজিনাল কালার বুঝা যায় না। LCD Display যখন কোন ছবি শো করে তখন তার সাথে কিছু এডিশনাল কালার এড করে ছবির উজ্জলতা বাড়ানোর জন্য, যাতে করে ওরিজিনাল ছবির কালার বুঝতে সমস্যা হয়।

সর্বোপরি, পয়েন্ট এন্ড শুট কামেরা আপনার প্রতিদিনের ছবি তুলার জন্য ভালো। কিন্তু আপনি যদি প্রোফেসনাল ছবি তুলতে চান কিংবা আপনার হবি যদি হয় প্রোফেসনাল ছবি তুলা তাহলে এই কামেয়া আপনার জন্য না। কম্পেক্ট ক্যামেরা কম্পেক্ট ক্যামেরা অনেকটা পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরার মতই। কম্পেক্ট ক্যামেরা পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরা থেকে কিছুটা আকারে বড় হয় এবং এই গুলোর যুম ও এক্সপোজার পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরা থেকে বেশি।  সুবিধা: ডি এস এল আর ক্যামেরার নিচের সারির দাম ক্যামেরার দাম থেকে অল্প দামেই পাওয়া যায়। ক্যামেরা লেন্স গুলো মোটামুটি যুম সম্পন্ন, যার কারনে আপনি কাছ থেকে দূর পর্যন্ত ছবি তুলতে পারবেন। অনেক ক্যামেরাতেই ভিউ ফাইন্ডার থাকে, যার কারনে উজ্জ্বল আলোতে ও ছবি তুলার সময় দেখতে পারবেন। অনেক ফিচার ম্যানুয়ালী কন্ট্রোল করা যায়। যা কিনা আপনাকে অনেকটা ডি এস এল আর এর স্বাদ দিবে। অনেক গুলোতে আবার এডিশনাল লেন্স এড করার অপশন আছে।  অসুবিধা: অনেকটাই পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরার মতই। এই ক্যামেরাতে ভিও ফাইন্ডার থাকলেও সেইটা মূলত একটা ছোট LCD Display, ওরিজিনাল ভিও ফাইন্ডার না। ডি এস এল আর ক্যামেরা, ডি এস এল আর এবং উপরের বর্ণিত দুটি ক্যামেরার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে যে এই ক্যামেরাতে আপনি আপনার ছবি তুলার প্রয়োজন মত লেন্স পরিবর্তন করতে পারবেন, অনেক বেশি ফাস্টার। এবং আপনি সেই ইমেজটিই দেখতে পাবেন যেইটা কিনা আপনার ক্যামেরা দেখছে। কারন ক্যামেরার ভিও ফাইন্ডার আপনাকে একি লেন্সের রিফ্লেকশন দেখাই।  সুবিধা: ডি এস এল আর ক্যামেরার সুবিধা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। ক্যামেরা লেন্স আপনার প্রয়োজন মত পরিবর্তন করতে পারবেন। যখন যেই ধরনের ছবি তুলতে চান সেই ধরনের লেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন, ম্যাক্রো ছবি তুলতে ম্যাক্রো লেন্স, দুরের ছবি তুলতে টেলিফটো ইত্যাদি। ক্যামেরা অনেক বেশি ফাস্টার ছবি তুলে। ছবি তুলার মাঝে কোন প্রিপারেশন টাইম নেই না। আপনি রেডি তো ক্যামেরা ও রেডি। আপনার প্রয়োজনে এক্সটারনাল ফ্ল্যাশ ব্যবহার করতে পারবেন। যেইটা কিনা আপনার ক্যামেরার ফ্ল্যাশ থেকে উজ্জ্বল আলো দেবে আপনার প্রয়োজন মতে। ম্যানুয়ালী এক্সপোজার এর জন্য আপনি আপনার ছবি কেমন হবে তা ঠিক করতে পারবেন। যেমন, শারটার স্পীড কত হবে, আই এসও কত, আপেরচার কত ইত্যাদি।  অসুবিধা: এই ক্যামেরা দাম উপরের দুটি থেকে অনেক বেশি। ভালো ছবি তুলতে হলে আপনাকে ফটোগ্রাফী সম্পর্কে ভালো ভাবে জানতে হবে। ক্যামেরা ও তার আনুসাঙ্গিক সবকিছু বহন করতে আলাদা ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। ডিএসএলআর ক্যামেরার গুরুত্বপূর্ন বিষয় শেয়ারবাজার ডেস্ক: আমাদের আশেপাশে কিংবা বন্ধু মহলের মধ্যে ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার একটি মিছিল লক্ষ করা যায়। এর মধ্যে যারা ডিজিটাল ক্যামেরা কিনবেন ভাবছেন এবং যারা এই বিষয়ে আগ্রহী তাদের জন্য ডিজিটাল ক্যামেরা সম্পর্কিত কিছু টিপস নিচে দেয়া হল। ১. সাধারণ লেন্সে জুমের সাথে সাথে অ্যাপার্চারের পরিবর্তন করতে হবে: ডিএসএলআর (DSLR) ক্যামেরা কিনলে তার সাথে সাধারনত একটি কিট লেন্স দেয়া হয়। যা অত্যান্ত কম দামের এবং কিছুটা নিম্ন মানের। তবে ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট। যখনই জুমের পরিবর্তন করা হয় তখনই এর অ্যাপার্চার সেটিং পরিবর্তিত হয়ে যায়। তাই প্রয়োজনমত জুম করার পর সেই অনুযায়ী অ্যাপার্চার পরিবর্তন করে নিতে হবে। ২. প্রতিটি লেন্সের জন্য ইউভি (uv)ফিল্টার প্রয়োজন: প্রতিটি লেন্সের জন্য ইউভি (uv) ফিল্টার রাখা উচিৎ। কেননা, এটি অতিবেগুনী রশ্মির কারণে ছবির ডিস্টরশনের হাত থেকে বাঁচাবে এবং লেন্সকে দাগের হাত থেকে রক্ষা করবে। ইউভি (uv) ফিল্টারের দাম লেন্সের চেয়ে অনেক কম।আর তাই প্রতিটি লেন্সের জন্য ইউভি ফিল্টা রাখাই যায়। ৩. র (RAW) ফাইল ফরম্যাটে ছবি তুলুন: ডিএসএলআর (DSLR) ক্যামেরা সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে হলে র (RAW) ফরম্যাটে ছবি তুলতে হবে। ডিএসএলআর (DSLR) এই ফরম্যাটে ছবি তোলার সময় ছবিতে যে প্রসেসিং ইফেক্ট যুক্ত হয় তা দূর করার সুযোগ থাকে। যেমন, ক্যামেরা সেটিংয়ে যদি কোনো ত্রুটি থাকে তবে ‘র এডিটর’ (RAW editor) দিয়ে তা দূর কর সম্ভব। ৪. সঠিক ফোকাস নিশ্চিত করা: ছবি তোলার সময় সঠিক ফোকাস সেট করা গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ সময়ই যা সম্ভব হয় না এবং ছবি যতটা স্পষ্ট হওয়া উচিৎ ততটা হয় না। বিশেষ করে দ্রুত ছবি তুলতে গেলে এটি সমস্যার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। প্রথম ছবিটি তুলে জুম ইন করে দেখলেই বোঝা যাবে ফোকাস ঠিক আছে কিনা। ৫. ছবি তুলতে কার্পন্য ছাড়ুন: নিখুঁত ছবি তোলার চাবিকাঠি হচ্ছে প্রচুর ছবি তোলা। আর এর জন্যই ছবি তুলতে কার্পন্য না করাই ভাল। অনেক সময় দেখা যায় লেন্সের মধ্যে দিয়ে তাকানোর পর লক্ষ্যবস্তু প্রত্যাশিত স্থানে থাকে না। এই সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রায় আধা ডজন বা তারও বেশী ছবি নেয়া ভাল। যদিও বেশিরভাগই এখান থেকে বাদ পড়ে যাবে তার পরও এতে ভালো ছবি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। ৬. তুলনামুলক কমদামী ৫০ মিমি এফ/১.৭ বা এফ/১.৮ লেন্স: যেই ডিএসএলআর (DSLR)-ই কেনা হোক না কেন সবগুলোর জন্যই ৫০ মিমি এফ/১.৭ বা এফ/১.৮ লেন্স রয়েছে। এই লেন্সগুলোর দাম কম, কিন্তু ডেপথ অব ফিল্ড এবং লো-লাইট সেটিংস নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেবে যা অন্য লেন্সে পাওয়া যাবে না। ৭. সব ধরণের সেটিং ও মোড ব্যবহার করে ছবি তুলুন: কোনো সেটিং বা মোড সম্পর্কে না জানা থাকলে প্রত্যেক মোড ও সেটিং ব্যবহার করে কয়েকটি ছবি তুলে পরীক্ষা করা যেতে পারে কোন ছবিটি ভালো লাগে। সেই সেটিং বা মোডটি ভবিষ্যতে আরও ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। ৮. শাটার ও অ্যাপার্চার মোডের ব্যবহার: নতুন ডিজিটাল ক্যমেরা ব্যবহারকারীদের জন্য ম্যানুয়াল শুটিং মোডের ব্যবহার শেখা একটু কঠিন হতে পারে। এই কাজটি আরও সহজে করার জন্য শাটার প্রায়োরিটি (Shutter Priority) এবং অ্যাপার্চার (Aperture Priority) প্রায়োরিটি মোড ব্যবহার করতে হবে। এই মোড দুটি সেমি-অটো ও সেমি- ম্যানুয়াল মোড, এবং উভয় মোডই ক্যামেরার সর্বোত্তম ব্যবহার শিখতে সাহায্য করবে। ৯. স্বাভাবিক ছবি তোলার জন্য হোয়াইট ব্যালেন্স কাজে লাগান: ডিজিটাল ক্যামেরায় হোয়াইট ব্যালেন্স নামে এক ধরণের সেটিং রয়েছে, যা যেকোনো ধরনের আলোক অবস্থায় ছবিতে স্বাভাবিক রঙ প্রদান করবে। এর মধ্যে অটো এবং ফ্ল্যাশ থেকে শুরু করে ডে-লাইট এবং ক্লাউডি পর্যন্ত সবই রয়েছে। কোনটি ভালো কাজ করে তা দেখার জন্য বিভিন্ন আলোক অবস্থায় এগুলো পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ১০. পুরনো ব্যবহার করা ডিএসএলআর কেনার কথা বিবেচনা করা গেতে পারে: প্রথম ডিএসএলআর ক্যামেরা কেনার সময় টাকাবাঁচানোর ভালো উপায় হচ্ছে কমদামী ক্যামেরা বা হ্রাসকৃত মুল্যের ক্যামেরা ক্রয় করা। এতে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে যা লেন্স ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে। সূত্র: ইন্টারনেট। আজকাল DSLR ক্যামেরা অনেক বেশী সহজলভ্য হয়ে গেছে। ইদানীং সবার মধ্যে ফটোগ্রাফির শখটাও অনেক বেশী। কেউ আবার নিয়মিত ফটোগ্রাফি না করলেও শখের বসে একটা ভাল ক্যামেরা রাখতে চায়। বাংলাদেশেও নামী-দামী সব ব্য্রান্ডের DSLR পাওয়া যায় আজকাল। ফেসবুকের নিউজফিড চেক করলেই বোঝা যায় আমাদের দেশে উঠতি ফটোগ্রাফারের সংখ্যা নেহায়েত কম না আর তাছাড়া ওয়েডিং ফটোগ্রাফি এখন অনেক বেশী লাভজনক। নিয়মিত এক্সিবিশন আর প্রতিযোগিতাও হচ্ছে আজকাল। এই রিভিউটি মুলত উঠতি ফটোগ্রাফারদের জন্য যারা নতুন শুরু করতে চান তবে কোন ক্যামেরা টি আপনার জন্যে ভালো হবে তা নিয়া সিদ্ধান্ত নিতে পারসেন না তাদের জন্যে। প্রফেশনাল ক্যামেরা কেনার ক্ষেত্রে মুলত কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয় যেমন কত মেগাপিক্সেল,কামেরার দাম ,কেনার সময় কোন লেন্সটি সাথে আছে এবং অন্যান্য লেন্সের দামগুলো কেমন হতে পারে, ইমেজ সেন্সর কত বড়, ISO রেঞ্জ কিরকম, স্পিড কেমন, ইউজার ইন্টারফেস এবং পেছনের LCD ডিসপ্লেটি কেমন, মেমরী কার্ড এর কোনটি লাগানো যায়, হালকা না ভারী, ব্যাটারীর লাইফ, শাটার স্পিড, কম আলোতে ছবি কেমন উঠে, ভিডিও করা যায় কিনা ইত্যাদি। নীচের ক্যামেরাগুলো মুলত এই সব ফিচারগুলো নিয়েই তৈরী করা হয়েছে আর বাংলাদেশের মার্কেটে বিশেষ করে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে সহজলভ্য। Canon 600D প্রায় ৫০,০০০ টাকা মুল্যের এই ক্যামেরাটি বের হবার পর থেকে বলা যায় Nikon এর অনেক নামী-দামী মডেলগুলোর বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে এই ক্যামেরা। দামে সস্তা হবার কারনে এই ক্যামেরাটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফটোগ্রাফারদের কাছে। এটি Canon 550D এর আপগ্রেড। আর এই ক্যামেরার ভিডিও কোয়ালিটিও যথেষ্ট ভাল। আপনিও ট্রাই করে দেখতে পারেন! Canon 1100D / EOS Rebel T3: এই DSLR ক্যামেরাটি সম্ভবত এই মুহুর্তে সবচেয়ে সস্তা মার্কেটে কিন্তু কাজের দিক দিয়ে ক্যামেরাটির ফিচার অনেক ভাল। Wide 9 Point Auto Focus সিস্টেম, ISO Range 100 – 6400 আর HD ভিডিও ফিচার ক্যামেরাটিকে এই মুহুর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় করে তুলেছে। মুল্যঃ ৩৫,০০০ থেকে ৪০ হাজারের মধ্যে। কিট লেন্স সাথে থাকলেও একটা ৮,০০০ টাকা মুল্যের 50mm ১.৮ প্রাইম লেন্স কেনা যায়। প্রাইম লেন্স পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির জন্য সেরা । তাছাড়া আপনার যদি বাজেট থাকে, তাহলে আপনি কয়েক্ধরনের লেন্স কিনতে পারেন। Nikon D3200 নিকন D3100/ D3200 :৩৫,০০০-৪৫০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় এই ক্যামেরা দুটি আর ফিচার যথেষ্ট ভাল।এর মধ্যে Nikon D3200 ক্যামেরা টি ২৪.২ মেগা পিস্কেলের। এই ক্যামেরাটি নিজে থেকেই ইমেজ ক্রপ করে ফেলে ছবির কম্পোজিশন আরও ভাল করার জন্য। এই ক্যামেরায় আছে Guide Mode যার কাজ হলো যে লোক জীবনে প্রফেশনাল ক্যামেরা ব্যবহার করেনি, তাকেও দেখিয়ে দিবে কিভাবে কি করতে হয়। অন্য ভাষায় বলা যায় – Easy Mode। Canon EOS 100D এটিও নতুন একটি মডেল। ১৮ মেগাপিক্সেল আর HD Video সুবিধা রয়েছে। একই রেঞ্জের অন্যান্য ক্যামেরার মত এই ক্যামেরাতেও সব ধরনের ফিচার আছে কিন্তু আকারে এই ক্যামেরাটি অনেক বেশী হালকা আর কম্প্যাক্ট। ৩ ইঞ্চির একটি LCD ডিসপ্লে আছে এই ক্যামেরায় আর আছে Canon এর বিখ্যাত Digic 5 ইমেজ প্রসেসর। Canon এর যে কোন EF বা EF-S লেন্স ব্যবহার করা যাবে এই ক্যামেরার সাথে। ISO রেঞ্জ ১০০-১২৮০০ এবং Expanded mode এ ISO ২৫৬০০ পর্যন্ত হতে পারে। আছে ড্রাইভ মোড এবং আরও অনেক নতুন নতুন ফিচার। এই ক্যামেরাটি ৫০,০০০ থেকে ৫৫,০০০ টাকার মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া যাবে। Sony Alpha a37 ১৬.১ মেগা পিক্সেলের এই ক্যামেরাটিতে আছে 15 Point Auto Focus আর অন্যান্য DSLR এ যা থাকে তার সবকিছু। সনির ইউজার ইন্টারফেস অনেক ভাল বিশেষ করে যারা নতুন করে ফটোগ্রাফি শিখতে চান। কিন্তু আমাদের দেশে সনির ক্যামেরাগুলো খুব একটা সহজলভ্য না বিশেষ করে, ক্যামেরার বডি পাওয়া গেলেও লেন্স পাওয়া অনেক বেশী দুস্কর। তাই প্রায় সময় কিট লেন্স হিসেবে যেটা পাওয়া যায় তাই হয় একমাত্র ভরসা। মুল্য ৪০,০০০ – ৪৭,০০০ টাকার মধ্যে। কীভাবে আপনার প্রথম ডিএসএলআর (DSLR) ক্যামেরা কিনবেন? নতুন ক্যামেরা কেনা একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। পছন্দ করার মতো বাজারে অনেক ক্যামেরা আছে, যাদের প্রতিটিরই কিছু না কিছু সুবিধা রয়েছে। আপনি পেশাদার ফটোগ্রাফি বা পারিবারিক ছবি তোলার জন্যই হোক, ভালো মানের ছবি তোলার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরা চমৎকার একটি যন্ত্র। ডিএসএলআর ক্যামেরা কী? ডিএসএলআর বা ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স (digital single lens reflex) ক্যামেরা, লেন্সের মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ আলো প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে আপনি যা দেখছেন ঠিক একই রকম ছবি পাওয়া যায়। ডিএসএলআর ক্যামেরার ছবি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং চমৎকার রঙ বিশিষ্ট। এগুলোতে প্রাণবন্ত ছবি উঠে এবং সূক্ষ বিবরণসহ ছবির জন্য এগুলো বেশ ভালো। পোট্রেট ফটোগ্রাফির জন্যও ডিএসএলআর বেশ ভালো, কারণ এগুলো চোখের রং, মুখের রেখা, গায়ের রং, এবং চুলের বিন্যাসের মত বিষয়গুলো খুব সহজেই ধারণ করতে পারে। ভালো মানসম্পন্ন ছবি তোলার জন্য এগুলোর যে কোনো একটি কিনতে পারেন। কীভাবে ক্যামেরার ব্র্যান্ড পছন্দ করবেন? ক্যামেরা কেনার সময় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ব্র্যান্ড পছন্দ করা। প্রত্যেকটি ব্র্যান্ডেরই তার নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম থাকে, তাই অধিকাংশ মানুষই কেবল কোনো একটি বিশেষ ব্র্যান্ডের প্রতি অনুরক্ত। ব্র্যান্ড পরিবর্তন না করলে তা আপনার টাকা বাঁচাবে, কারণ একটি মাত্র ব্র্যান্ড ব্যবহার করা হলে আপনি লেন্স ও অন্যান্য সরঞ্জাম বারবার ব্যাবহার করতে পারবেন। ডিএসএলআর জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় দু’টি ব্র্যান্ড হচ্ছে ক্যানন (Canon) ও নিকন (Nikon)। এই দুটি ব্র্যান্ডের রয়েছে অসংখ্য লেন্সের সমাহার, যেগুলোর সাহায্যে আপনি আপনার ক্যামেরা দিয়ে দূরের ছবি তোলা থেকে শুরু করে প্যানারোমিক, বাচ্চাদের ছবি থেকে স্থির দৃশ্যের ছবি তোলা সহ সবকিছু করতে পারবেন। অন্যান্য ব্র্যান্ডের সম্মিলিত মোট বিক্রির চাইতে নিকন ও ক্যাননের মোট বিক্রির পরিমাণ বেশী। যেহেতু এদের বেচাকেনা বেশী তাই এই দু’টি ব্র্যান্ডের ব্যবহৃত ডিএসএলআর ক্যামেরা সহজে পাওয়া যায়। পেনটেক্স (Pentax) অনেক বছর ধরে বাজারে আছে এবং সব ধরণের ফটোগ্রাফারের জন্য তাদের বিভিন্ন ক্যামেরা মডেল রয়েছে। সব ধরণের আবহাওয়ার জন্য পেনটেক্স (Pentax) বেশ ভালো এবং এটিই একমাত্র ব্র্যান্ড যা বরফ শীতল তাপমাত্রার মত চরম তাপমাত্রায়ও কাজ করতে পারে। এদের লেন্সগুলো আবহাওয়া নির্বিশেষে সুরক্ষিত এবং এদের অনেকগুলোই পানিরোধক। তাই এগুলো দিয়ে পানির নিচে ও উচ্চ তাপমাত্রায় ছবি তোলা সম্ভব। নিকন ডিএসএলআর (Nikon DSLR) ক্যামেরা বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল এবং অন্যান্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এর অধিক সংখ্যক লেন্স রয়েছে। নতুন ফটোগ্রাফারদের মাঝে নিকন ডিএসএলআর (Nikon DSLR) বেশ জনপ্রিয়, কারণ স্বয়ংক্রিয় সেটিংস থাকাতে এগুলো ব্যবহার করা বেশ সহজ। এছাড়াও এগুলোতে ইমেজ স্টেবিলাইজেশন ব্যবস্থা রয়েছে, যা আপনার হাত স্থির না থাকলেও স্পষ্ট ছবি তুলতে সাহায্য করে। মূল্য ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনতে গেলে এর দামের কথা ভাবতে হবে। কম দামী থেকে বেশি দামী, অনেক ধরণের দামের ক্যামেরা মডেল রয়েছে। আপনি কী দামের ক্যামেরা কিনবেন তা অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে, বিশেষ করে আপনি ক্যামেরা দিয়ে কোন ধরণের কাজ করবেন তার উপর নির্ভর করে। আপনি যদি শুধু আপনার দৈনন্দিন জীবনের, পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের ছবি তোলেন তবে কমদামী মডেল হলেই কাজ চলবে। আপনি যদি ফটোগ্রাফির মাধ্যমে আয় করতে চান, তবে ভালো ছবির জন্য আপনাকে উন্নত মডেল বেছে নিতে হবে। মনে রাখবেন, বেসিক বা মৌলিক মডেলের ক্যামেরাও আপনাকে অসাধারণ ছবি উপহার দিতে পারে। তাই ভালো ক্যামেরা কেনার জন্য অনেক বেশী টাকা খরচ করার দরকার নেই। দামের ব্যাপারে অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হবে: -লেন্স বেসিক কিছু ক্যামেরা মডেল “কিট” (“kit”) হিসেবে পাওয়া যায় যাতে ক্যামেরা বডি ও লেন্স থাকে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধু ক্যামেরা বডি কিনতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ক্যামেরা কেনার সময় লেন্সের দামও মাথায় রাখতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লেন্সের দাম বডির চেয়ে বেশী। একটি ব্রান্ড নিয়েই থাকুন যাতে আপনি সহজেই লেন্স পরিবর্তন করতে পারেন। -ব্যাটারি আপনার ডিএসএলআর-এর সাথে ব্যাটারি থাকবে, কিন্তু নির্বিঘ্নে ব্যবহারের জন্য ব্যাকআপ ব্যাটারি থাকলে ভালো। ব্যাকআপ ব্যাটারি থাকলে সহজেই আপনি প্রয়োজনে আরেকটি ব্যাটারি ব্যাবহার করতে পারেন, যাতে আপনার কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হাতছাড়া না হয়ে যায়। -মেমরি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো হাতছাড়া করতে না চাইলে ব্যাটারির মতোই যথেষ্ট মেমরি থাকা প্রয়োজন। কিছু কিছু ডিএসএলআর ক্যামেরার দুইটি মেমরি কার্ডের স্লট থাকে, যাতে একটি পূর্ণ হয়ে গেলে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকআপ মেমরি কার্ড ব্যাবহার করা শুরু করবে। এটা বিভিন্ন শুটিং ইভেন্ট ও ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফির জন্য ভালো। অতিরিক্ত মেমরি কার্ড থাকলে আপনার অসাধারণ কোনো মুহূর্ত আর হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না -ক্যামেরার ব্যাগ আপনি যদি পুরনো ক্যামেরা কেনেন তবে তার সাথে ব্যাগ না থাকার সম্ভাবনাই বেশী। ব্যাগ আপনার ক্যামেরাকে পড়ে যাওয়া ও অন্যান্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে।অন্যান্য বিবেচ্য বিষয় অধিকাংশ মানুষ ক্যামেরা কেনার সময় এর আকারের কথা ভাবে না। আপনি যদি আপনার ক্যামেরা পাহাড়ে হাইকিং করতে, বেড়াতে অথবা এমন জায়গায় নিয়ে যেতে চান যেখানে অনেকটা পথ পায়ে হেটে যাওয়া লাগবে তবে আপনার হালকা ক্যামেরা কেনা উচিৎ, যা সহজেই বহন করা যায়। ডিএসএলআর ক্যামেরা ‘পয়েন্ট অ্যান্ড শুট’ ক্যামেরার চাইতে ভারী ও আকারে বড়, তাই ক্যামেরা ব্যাবহারের সময় ভারী ক্যামেরা, ব্যাগ, লেন্স এবং অন্যান্য সরঞ্জাম বহন করার কথা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। ভালো পুরনো ক্যামেরা খুঁজলে চাহিদা অনুযায়ী আপনি অনেক ক্যামেরা পাবেন। আপনার জন্য সেরা মডেল হচ্ছে সেটি, যেটি আপনার শুটিং-এর ধরণ ও জীবনযাত্রার সাথে মানানসই। আপনি বিয়ের অনুষ্ঠান বা পরিবারের ছবি, যাই তুলুন না কেনো, আপনার জন্য কোনো না কোনো ক্যামেরা রয়েছে। সাধারণভাবে ব্যবহারের জন্য আপনার এন্ট্রি লেভেল মডেল দরকার, এক্ষেত্রে আপনি সনি ডিএসএলআর (Sony DSLR) ব্যবহার করতে পারেন। পেশাদার ছবির জন্য, ক্যানন ডিএসএলআর (Canon DSLR) ভালো। পেনটেক্স (Pentax), অলিম্পাস (Olympus) এবং ফুজি (Fuji) ব্র্যান্ডেরও অনেক মডেল রয়েছে, যেগুলোর সেটিংসে অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে। আপনার জন্য সঠিক ক্যামেরাটি কিনতে সেরা ডিএসএলআর রিভিউগুলো পড়ুন।আজই আপনার নতুন বা পুরনো ডিএসএলআর ক্যামেরাটি কিনে ফেলুন।

যারা পয়েন্ট এন্ড শ্যুট ক্যামেরা ব্যবহারে অভ্যস্থ তারা সাধারনত এসএলআর ক্যামেরাকে কিছুটা ভীতির চোখে দেখেন। ভাবেন সেটার ব্যবহার হয়ত জটিল। বাস্তবে এসএলআর ক্যামেরাকে আপনি ব্যবহার করতে পারেন পয়েন্ট এন্ড শ্যুট ক্যামেরার মতই। উন্নত ক্যামেরার কারনে পাবেন ভাল মানের ছবি। সেইসাথে সামান্য কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখলে দক্ষতার সাথে ব্যবহার করে উচুমানের ছবি পাবেন। ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা ব্যবহারের সাধারন নিয়মগুলি এখানে শেখানো হচ্ছে। উদাহরন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নাইকন ডি-৯০, তবে যে কোন এসএলআর ক্যামেরার ক্ষেত্রে এই একই নিয়ম প্রযোজ্য। প্রথমে ক্যামেরার অংশগুলি একবার দেখে নেয়া যাক। ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরার প্রধান বৈশিষ্ট এতে এলসিডি ডিসপ্লে ছাড়াও রয়েছে অপটিকাল ভিউফাইন্ডার। এর মাধ্যমে আপনি যা দেখতে পান সেটা দেখা যায় লেন্সের ভেতর দিয়ে। একটি আয়নার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে ভিউফাইন্ডারের মাধ্যমে দেখা যায়। সেকারনেই নাম এসএলআর (সিংগেল লেন্স রিফ্লেক্ট)।অন্যদিকে পয়েন্ট এন্ড শ্যুট ক্যামেরায় যে ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডার থাকে সেটা লেন্সের ভেতর দিয়ে আসে না, সেটা পৃথকভাবে দেখার ব্যবস্থা। দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকার সম্ভাবনা থেকে যায়। লেন্সের ভেতর দিয়ে দেখার সুবিধে হচ্ছে একেবারে নিখুত দৃশ্য দেখার সুযোগ। ক্যামেরার নির্মাতা বলেন এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার যদিও কখনো কখনো সুবিধেজনক (বিশেষ করে ভিডিও করার সময়) তাহলেও সেটা শতভাগ নিখুত না, ভিউফাইন্ডার নিখুত। কাজেই এসএলআর ক্যামেরা ব্যবহারের সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনি ভিউফাইন্ডার ব্যবহার করবেন এটাই স্বাভাবিক। দ্বিতীয় পার্থক্য হচ্ছে মেইন কন্ট্রোল ডায়াল এবং কন্ট্রোল সাব-ডায়াল। সাটার রিলিজ বাটনের সামনে এবং ক্যামেরার পেছনে যে দুটি হুইল রয়েছে এই দুটি। এপারচার, সাটারস্পিড সহ যে কোন পরিবর্তনের জন্য এদুটি ঘুরাতে হয়। এদের অবস্থান এমনই যে সাটার রিলিজ বাটনের ওপর একটি আঙুল রেখে সহজে ঘুরানো যায়। তৃতীয় বড় পার্থক্য হচ্ছে জুম রিং। লেন্সের বিশেষ অংশ ঘুরালে জুম কমবেশি হয়। ফলে খুব দ্রুত জুম পরিবর্তন করা যায়। এছাড়া একই পদ্ধতিতে ঘুরিয়ে ফোকাস করার জন্য রয়েছে ফোকাস রিং। ম্যানুয়েল ফোকাস করার সময় এটা ব্যবহার করা হয়। ব্যবহার পদ্ধতি আপনি ক্যামেরাকে একেবারে পয়েন্ট এন্ড শ্যুট ক্যামেরার মত ব্যবহার করতে চান। এজন্য রয়েছে অটোমোড। মোড ডায়ালে সবুজ রঙের চিহ্নকে ঘুরিয়ে পয়েন্টারের কাছে আনুন। এখন যার ছবি উঠাতে চান সেদিকে ক্যামেরা তাক করুন। সাটার রিলিজ বাটন অর্ধেক নামিয়ে আনুন, ফোকাস হবে। পুরো চাপ দিন ছবি উঠবে। যদি আলো কম থাকে ফ্লাশ নিজে থেকেই খুলে যাবে এবং জ্বলবে। মুহুর্তেই আপনি বুঝে যাবে সাধারন ক্যামেরা থেকে এসএলআর এর পার্থক্য কোথায়। এতে ফোকাস হবে খুব দ্রুত, উড়ে যাওয়া পাখিকেও ফোকাস করে ছবি উঠানো সম্ভব। বিভিন্ন মোড ব্যবহার আপনি কখনো সামনে দাড়ানো মানুষের ছবি উঠাবেন (পোর্ট্রেট) কখনো খোলা মাঠ- আকাশের ছবি উঠাবেন (ল্যান্ডস্কেপ) কখনো কাছ থেকে ফুলের ছবি উঠাবেন (ক্লেজআপ)। ছবি উঠানোর আগে মোড ডায়াল ঘুরিয়ে কখনো মুখের ছবি, কখনো পাহাড়ের ছবি, কখনো ফুলের ছবি দেখে নির্দিস্ট মোড ব্যবহার করুন। ক্যামেরা নিজেই সঠিক এপারচার, সাটারস্পিড ইত্যাদি ঠিক করে নেবে। কাজেই ব্যবহারের দিক থেকে এপর্যন্ত কম্প্যাক্ট ক্যামেরা থেকে এসএলআর ক্যামেরার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এপারচার এবং সাটারস্পিড মোড দক্ষ ফটোগ্রাফাররা এই দুটি মোড ব্যবহার করেন সবচেয়ে বেশি। এপারচার প্রায়োরিটি মোডে তিনি এপারচার কত হবে ঠিক করে দেন (এপারচার পরিবর্তন করলে কিকি পরিবর্তন হয় সেকথা জানানো হয়েছে অন্য টিউটোরিয়ালে)। তারসাথে মিল রেখে সঠিক সাটারস্পিড ঠিক করে নেয় ক্যামেরা। বিপরীতভাবে সাটার স্পিড মোডে আপনি সাটার স্পিড ঠিক করে দেবেন, ক্যামেরা নিজেই তারসাথে মানানসই এপারচার ঠিক করে নেবে। আপনার দায়িত্ব আপনি কোন মোড ব্যবহার করবেন সেটা ঠিক করা। আকাশে উড়তে থাকা পাখির স্পষ্ট ছবি কিংবা দ্রুত গতিশীল কিছুকে স্থির দেখানোর জন্য আপনার বেশি সাটার স্পিড প্রয়োজন, কাজেই আপনি সাটারস্পিড নিজে ঠিক করে দেবেন। আবারও, কখন কোন মোডে ছবি উঠাবেন সে সম্পর্কে অন্য টিউটোরিয়ালে লেখা হয়েছে। এপারচার প্রায়োরিটি মোডে ছবি উঠানোর জন্য মোড ডায়াল ঘুরিয়ে এপারচার মোড (A) সিলেক্ট করুন। ফোকাস করুন। ভিউফাইন্ডার (অথবা ডিসপ্লে) বর্তমানের এপারচার সেটিং দেখাবে। সেটা পরিবর্তনের জন্য সামনের দিকের কমান্ড ডায়াল ঘুরান। একদিকে ঘুরালে এপারচার বাড়বে, বিপরীত দিকে ঘুরালে এপারচার কমবে। পছন্দমত এপারচার সেট করার পর ছবি উঠান। সাটারস্পিড মোডে ছবি উঠানোর জন্য সাটার স্পিড মোড (S) সিলেক্ট করুন, ফোকাস করুন, পেছনের দিকের কমান্ড ডায়াল ঘুরিয়ে সাটার স্পিড পরিবর্তন করুন এবং ছবি উঠান। ম্যানুয়েল মোড ম্যানুয়েল মোড হচ্ছে যেখানে আপনি এপারচার এবং সাটার স্পিড দুটিই নিজে ঠিক করে দেবেন। অর্থাত আপনি জানেন এপারচার এবং সাটারস্পিড কত রাখলে ভাল ছবি পাওয়া যাবে। ম্যানুয়েল মোড (M) সিলেক্ট করুন, আগের পদ্ধতিতে সামনের এবং পেছনের ডায়াল ব্যবহার করে এপারচার এবং সাটার স্পিড পরিবর্তন করুন। ছবি উঠান। এটুকু জেনে আপনি দক্ষতার সাথে এসএলআর ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ক্যামেরা মডেলের সাথে এই ক্যামেরার (নাইকন ডি-৯০) পার্থক্য থাকলে ক্যামেরার ম্যানুয়েল থেকে পার্থক্য সম্পর্কে জেনে নিন। ডিজিটাল ফটোগ্রাফি : ক্যানন এসএলআর ক্যামেরা ব্যবহার বাংলা-টিউটর সাইটে ফটোগ্রাফি সম্পর্কে যাকিছু উল্লেখ করা হয়েছে সব যায়গায় নাইকন ক্যামেরার উল্লেখ করা হয়েছে। একটা কারন হতে পারে সেটা ব্যক্তিগতভাবে পছন্দের। আরেক জনপ্রিয় ব্রান্ড ক্যানন যারা ব্যবহার করেন তারা কিছুটা অস্বাচ্ছন্দবোধ করতে পারেন তাদের ক্যামেরা ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়নি দেখে। এখানে ক্যানন এসএলআর ক্যামেরার ব্যবহারের পদ্ধতি উল্লেখ করা হচ্ছে। ক্যামেরা মডেল হিসেবে জনপ্রিয় ইওস টি২আই (৫৫০ডি) বেছে নেয়া হয়েছে। ক্যামেরা পরিচিতি ক্যানন এবং নাইকন ক্যামেরার সামনের দিকে বিশেষ কোন পার্থক্য নেই। ওপরদিকে পার্থক্যের মধ্যে রয়েছে পাওয়ার সুইচ এবং মেইন ডায়াল, মোড ডায়াল এগুলির অবস্থানে। ব্যবহারের দিক থেকে সত্যিকারের পার্থক্য পেছন দিকে। বাটনগুলি ভিন্ন যায়গায় এবং ভিন্নভাবে সাজানো। আপনি নিশ্চয়ই ছবি দেখে জেনে নিতে পারেন কোটির অবস্থান কি। কার্ড ছাড়া ছবি উঠানো ক্যামেরায় যদি মেমোরী কার্ড না থাকে তাহলে সাটার রিলিজ বাটন কাজ করবে না। ক্যামেরার সবকিছু ঠিক আছে কিনা যাচাই করার জন্য মেমোরী কার্ড ছাড়াই ছবি উঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ছবির প্রিভিউ দেখা যাবে, শুধু সেভ হবে না। ফল হিসেবে যা হয়, আপনার ক্যামেরায় কার্ড নেই অথচ আপনি ছবি উঠিয়ে যাচ্ছেন। মেমোরী কার্ড না থাকলে ছবি উঠানো যাবে না নিশ্চিত করে নিন। . ক্যামেরা অন করুন। . পিছনদিকে মেনু বাটনে চাপ দিয়ে মেনু অন করুন। . মেনু ডায়াল ব্যবহার করে বামদিকের মেনু ট্যাব সিলেক্ট করুন। মেনুতে নিচের দিকে Release shutter without card সিলেক্ট করুন। . পরের মেনুতে Disable অপশন সিলেক্ট করুন। . মেনু বাটনে চাপ দিন। এরফলে কেবলমাত্র কার্ড থাকলেই সাটার রিলিজ বাটন কাজ করবে। ছবির মান ঠিক করুন ইচ্ছে করলে আপনি সেন্সরের পুরো রেজ্যুলুশনে ছবি উঠাতে পারেন (অধিকাংশ সবয় সেটা করবেন), অথবা ছবির রেজ্যুলুশন কমিয়ে ছবি উঠাতে পারেন। রেজ্যুলুশন কমানোর একটাই সুবিধে, এতে ফাইলসাইজ ছোট হয়, ফলে অল্প যায়গার কার্ডে বেশি ছবি উঠানো যায়। ক্যাননে ৬টি ভিন্ন ভিন্ন রেজ্যুলুশনে ছবি উঠানো যায়। . পিছনদিকে মেনু বাটনে চাপ দিন। . মেইন ডায়াল ব্যবহার করে একেবারে বামদিকের মেনু ট্যাব সিলেক্ট করুন। . মেনুতে Quality অপশন বের করুন। . সেট বাটনে চাপ দিন। . যে সেটিং ব্যবহার করতে চান সেটা সিলেক্ট করুন। অটো-আইএসও বন্ধ করুন আলো কম থাকলে আইএসও এর মান নিজে থেকেই বেড়ে যায়, ফল হিসেবে পাওয়া যায় নয়েজযুক্ত ছবি। আপনি অটো আইএসও পরিবর্তণ বন্ধ করে নিজের পছন্দমত আইএসও ব্যবহার করতে পারেন। উজ্জল আলোর জন্য এর মান ১০০ থেকে ২০০ এর মধ্যে রাখা হয়, ঘরের মধ্যে বা মেঘলা দিনে ৪০০ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়। আপনার কাজ আইএসও যতটা কম রেখে গ্রহনযোগ্য ছবি উঠানো যায়। কখনো কখনো কম আলোর ছবি উঠিয়ে পরবর্তীতে সফটঅয়্যার ব্যবহার করে সেটা ঠিক করে নিতে পারেন, নয়েজ দুর করার বিষয়টি তারচেয়ে জটিল। . ক্যামেরা চালু অবস্থায় ওপরের দিকে আইএসও বাটনে চাপ দিন। . মেইন ডায়াল ব্যবহার করে পছন্দের আইএসও সিলেক্ট করুন। . আরেকবার আইএসও বাটনে চাপ দিন। পরিবর্তন না করা পর্যন্ত পছন্দের আইএসও ব্যবহৃত হবে। হোয়াইট ব্যালেন্স সেট করা একে ধরনের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য একেরকম। এর প্রভাব পড়ে সাদা রঙের ওপর। একারনেই কোন ছবি লালচে, কোনটি নিলচে দেখায়। ছবি উঠানোর সময় সকাল, দুপুর, মেঘলা, ফ্লরোসেন্ট বাতি, টাংষ্টেন বাতি, ফ্লাশ ইত্যাদি অনুযায়ী সাদা রঙ কেমন দেখা যাবে ঠিক করে নিতে হয়। একে বলা হয় হোয়াইট ব্যালান্স। . অটো মোডে হোয়াইট ব্যালান্স ঠিক করা যায় না। ক্যামেরাকে ক্রিয়েটিভ মোডে নিন (যেমন P) . ক্যামেরার পিছনদিকে WB লেখা বাটনে চাপ দিন। . এরো কি ব্যবহার করে আলোর সাথে মিল রেখে সঠিক সেটিং সিলেক্ট করুন। . সেট বাটনে চাপ দিন। ভিউফাইন্ডার ডাইঅপ্টার এডজাষ্ট করা ভিউফাইন্ডার ব্যবহারের সময় সামনের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না ? এর নিজস্ব ফোকাসের ব্যবস্থা রয়েছে যা পরিবর্তন করে ঠিক করে নেয়া যায়। . ক্যামেরার সামনে কিছু ফোকাস করুন। . ভিউফাইন্ডারে সাথে নব ব্যবহার করে ফোকাস স্পষ্ট করুন। অটোফোকাস/ষ্ট্যাবিলাইজার অন/ অফ করা আপনি হয়ত ফোকাস রিং ব্যবহার করে ফোকাস করতে চান। যেমন আপনার সামনে একটি গাছের পাতা এবং দুরে আরেকটি ফুল রয়েছে, আপনি চান পছন্দমত এর যেকোন একটিকে ফোকাস করতে। অটোফোকাস অফ করে নিন। কিংবা ইমেজ ষ্ট্যাবিলাইজেশন অফ রাখতে চান ক্যামেরাকে ট্রাইপডে ব্যবহারের সময় . লেন্সের গায়ে AF/MF সুইট ব্যবহার করে অটোফোকাস অন/ অফ করুন। . লেন্সের গায়ে Stabilizer On/ OFF লেখা সুইচ ব্যবহার করে ষ্ট্যাবিলাইজেশন অন/অফ করুন। সাধারনভাবে এই কন্ট্রোলগুলি ব্যবহার করে আপনি ক্যানন এসএলআর ক্যামেরায় ভাল ছবি উঠাতে পারেন। ফটোগ্রাফির খুঁটিনাটি ডিএসএলআর কেনার কথা ভাবছেন? একটি পরিপূর্ণ ক্যামেরা বাইং গাইড (বাংলাদেশী দাম সহ!) সহজলভ্যতা ও তুলনামূলক সস্তা হবার কারনে আজকাল আমাদের সবার হাতেই শোভা পায় ডিজিটাল ক্যামেরা। তা সেটা মুঠোফোন এর ক্যামেরাই হোক অথবা পয়েন্ট অ্যান্ড শুট। তবে আমাদের মাঝে অনেকেই আবার একটু বেশী খুঁতখুঁতে, যাদের জন্য পয়েন্ট অ্যান্ড শুটের সীমিত ফিচারগুলো যথেষ্ট নয়। আমরা চাই ছবি তোলার সময় সব কিছু যেন থাকে আমাদের নিজের হাতে, ক্যামেরা যেন নাক না গলায়। আর তাদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বস্তু হল পয়েন্ট অ্যান্ড শুট এর বড় ভাই ডিএসএলআর। ডিএসএলআর কি? এটা হচ্ছে এমন এক ধরনের ক্যামেরা যেটায় আয়নার মাধ্যমে আপনি ঠিক লেন্স এ যা দেখা জাচ্ছে ভিউফাইন্ডার এও তাই দেখতে পাবেন। আরও একটি আবশ্যিকতা আছে যেটা হল এই ক্যামেরার লেন্স চেঞ্জ করা যাবে। এই হল এর সংক্ষেপে মোটামুটি কেতাবি সংজ্ঞা। কেন কিনবেন ডিএসএলআর? ধরুন আপনি মনের সুখে ছবি তুলছেন। কিন্তু বেওকুফ পয়েন্ট অ্যান্ড শুট সাবজেক্ট রেখে ফোকাস করল আশেপাশের অন্য কোন অফ টপিকের উপর। ভুক্তভুগি মাত্রই জানেন জিনিসটা কতটা বিরক্তিকর। আবার ধরুন রাতের বেলা চাঁদ মামার ছবি তুলতে চাচ্ছেন, কিন্তু ক্যামেরায় তো ফিক্সড লেন্স যেটায় ৩গুনের বেশী জুম হয়না। চাঁদ একটি ছোট্ট ডট হয়ে ধরা দেবে কামেরায়। আর রাতের বেলা কম আলোতে ছবি তোলার চেষ্টা করলেই বেরসিক ক্যামেরা তার কর্কশ ফ্ল্যাশ জ্বেলে দেয়। ফল হয় ভয়াবহ। মানুষের চেহারাই পালটে যায় তখন, স্কিন টোন হয় ধবল রুগীর মত এবং চোখ হয় রক্ত লাল (red eye প্রব্লেম জাকে বলে)। আর আপনি যদি ফ্ল্যাশ ছাড়া ছবি তুলতে যান তখন দেখবেন সবই আবছা ও অন্ধকার। কিছু যদি দেখাও যায় তাহলে সেখানে এত নয়েজ থাকবে যে বাবহারের অযোগ্য হয়ে পরবে। ডিএসএলআর আপনাকে দিতে পারে এসব সমস্যা থেকে মুক্তি। এটা দিয়ে আপনি পাচ্ছেন ছবির বিভিন্ন বিষয় আপনার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার সুবিধা। ডিএসএলআর এ থাকে পয়েন্ট অ্যান্ড শুট এর চেয়ে অনেক বড় সেন্সর যেকারনে কম আলোতেও নয়েজ এর মাত্রা থাকে সামান্য এবং ছবির কোয়ালিটি থাকে অটুট। রাতের বেলা কাজ করতে লাগিয়ে নিতে পারেন একখানা ওয়াইড অ্যাপারচার এর প্রাইম লেন্স। এছারাও বিভিন্ন কাজের জন্য আলাদা আলাদা লেন্স লাগানর সুবিধাতো আছেই। তবে আপনি কি ডিএসএলআর কেনার জন্য সত্যি প্রস্তুত? যদি আপনি সত্যিকার অর্থেই ছবি তুলতে এবং ছবি তোলা শিখতে আগ্রহী হন শুধু তবেই সামনে আগান। আমরা সকলেই কিন্তু ছবি তুলতে আগ্রহী; বিয়ে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অথবা কোথাও ঘুরতে গেলে আমাদের ক্যামেরা কিন্ত সবসময় ব্যাস্তই থাকে। তবে শুধু ছবি তুলতে আগ্রহী হলেই হবে না, ছবি তোলা শেখার প্রতি আগ্রহী হতে হবে। কারন ডিএসএলআর অপারেট করতে হলে বেশ কিছু টেকনিক্যাল জিনিস জানতে হবে এবং মাথায় রাখতে হবে। তা নাহলে ডিএসএলআর এর অটো মোড এই আটকে থাকবেন, তখন একটি ১০ হাজার টাকার পয়েন্ট অ্যান্ড শুট আর আপনার লাখ টাকার ক্যামেরা আর লেন্স এর মধ্যে তফাৎ টা কি থাকল? তাই সবাই ডিএসএলআর কিনছে দেখে আমারো কিনতে হবে ব্যাপারটা যদি এমন হয় তাহলে নিজেকে সামলে নিন। নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কি আসলেই ছবি তোলা শিখতে সময় ও শ্রম দিতে প্রস্তুত? যদি উত্তর না হয় তাহলে টাকা অপচয় না করে একটা ভালো পয়েন্ট অ্যান্ড শুট কিনে ফেলুন, কারন ওতে অটো মোডে বেটার ছবি সহজে তুলতে পারবেন। আর যদি অপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর হয় হ্যাঁ, তবে আপনি ডিএসএলআর কেনার জন্য প্রস্তুত! কোন ব্র্যান্ড কিনবেন? নিকন না ক্যানন? নাকি সনি, প্যানাসনিক অথবা পেন্ট্যাক্স? আসলে যেহেতু নিকন আর ক্যানন বহু বছর ধরে ক্যামেরা জগতের মার্কেট লিডার তাই ওদের ক্যামেরা কেনাই সেফার। এই দুই কোম্পানির ক্যামেরা বানানর ক্ষেত্রে যে অভিজ্ঞতা আছে তা তাদের ক্যামেরায় পরিস্ফুটিত হয়। তবে তার মানে এই না যে অন্য কোম্পানি ক্যামেরা ভালো বানায় না। তবে আমি বলব নিকন অথবা ক্যানন এর মাঝেই থাকুন, তাহলে লেন্স কেনার সময় ও পাবেন অনেক বেশী অপশন। কেনার সময় ক্যামেরার কি কি দেখবেন? দেখবেন ক্যামেরার কি কি ফিচার আছে এবং আপনার কি কি ফিচার দরকার। আরগনমিক্স খুবই ইম্পরট্যান্ট এখানে। মানে ক্যামেরার গ্রীপ কেমন, হাতে বেশি ভারি লাগছে না তো? আবার দেখবেন মেমরি কার্ড স্লট কয়টা আছে, এইচডিএমআই আউটপুট আছে নাকি, এক্সটারনাল মাইক লাগান যায় নাকি। আপনি যদি একটু অ্যাডভান্সড ইউজার হন তাহলে দেখে নিন পর্যাপ্ত এক্সটারনাল কন্ট্রোল বাটনস আছে, নাকি সব সেটিংস মেন্যু দিয়ে চেঞ্জ করতে হয়? এছাড়াও http://www.dpreview.com/reviews থেকে কাঙ্ক্ষিত ক্যামেরার রিভিউ দেখে নিন। একটি প্রচলিত মীথ হল ক্যামেরার মেগাপিক্সেল যত বেশী ক্যামেরা তত ভালো। এটা সত্যি না। ক্যামেরার সেন্সর কতটুকু টার উপর নির্ভর করে পিকচার কোয়ালিটি। তাই মেগালিক্সেল এর হিসাবটি মাথা থেকে বাদ দিন, কারন ১০ মেগাপিক্সেল হলেই আমি বলব মোর দ্যান এনাফ; এবং আজকাল এর নিচে ডিএসএলআর ক্যামেরা পাওয়া দুষ্কর। কোন মডেল কিনবেন? নির্ভর করে আপনার বাজেট ও চাহিদার ওপর। আমি নিজে ক্যামেরা কেনার সময় বেশ কিছু মাস ধরে বিস্তর গবেষণা চালাই কি কিনব তার উপর। তাই এখানে সুনির্দিষ্ট ভাবে কিছু মডেল এর নাম দিলাম যাতে একটা আইডিয়া পেতে পারেন। নিকন এর মডেলসমূহ নিকন ডি৩১০০ + ১৮-৫৫মিমি লেন্সঃ ৪৬,০০০ টাকা বাজেট সীমিত হলে বাজারের সেরা এন্ট্রি লেভেল ক্যামেরা নিকন এর ডি৩১০০ কিনে ফেলুন। এই দামে এরচে ভালো কিছু আর পাবেন না। যারা প্রথম ডিএসএলআর কিনছেন তাদের জন্য ভালো ক্যামেরা। আকারে ছোট, হাল্কা হওয়ায় এটা সহজে বহনযোগ্য। হাতে নিলে মনেই হয়না ডিএসএলআর। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এটার লাইটওয়েট ই এটার প্লাস পয়েন্ট। আছারাও নতুনদের জন্য আছে একটি গাইড মোড, যা আপনার ক্যামেরার ভেতরেই আপনাকে শিখিয়ে দেবে ক্যামেরার যাবতীয় কন্ট্রলস। তাই যারা প্রথম ডিএসএলআর কিনবেন তাদের জন্য এটা হতে পারে আদর্শ ক্যামেরা। আর যদি বাজেট এর চেয়েও কম হয় তাহলে ইউজড ক্যামেরা কিনতে পারেন, নিচে কিছু পরামর্শ আছে এই ব্যাপারে। তবে ডি৩১০০ এর বাজে দিক টা হল এর স্ক্রীন রেজোলিউশান অনেক কম। ছবি তোলার পর অনেক সময় ই ছোট্ট স্ক্রীন এ ফোকাস ঠিক দেখালেও কম্পিউটার এর বড় হাই রেজোলিউশান স্ক্রীন এ দেখা যায় ফোকাস ঠিক নেই। এছারাও বড় হাত হলে ধরতে আরাম নাও পেতে পারেন, এটির ছোট আকারের কারনে দুটি আঙ্গুল রাখার জায়গা নাও পেতে পারেন। নিকন ডি৩২০০ + ১৮-৫৫মিমি লেন্সঃ ৫৭,০০০ টাকা (আনুমানিক) এটা আসলে ডি৩১০০ এর পরের ভার্সন। এটা আগের টার চেয়েও ভালো পারফর্মেন্স দিবে এবং এটা আরও হাল্কা! এর স্ক্রীন রেজোলিউশান ও ভালো এবং তাই ডি৩১০০ এর প্রব্লেম এতে আর থাকছেনা। তবে এটা নতুন মডেল বলে এর দাম কিছুটা বেশী ডি৩১০০ এর থেকে এবং বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে পাওয়া যায় কিনা বলতে পারছিনা। ডি৫১০০ + ১৮-৫৫মিমি লেন্সঃ ৫৬,০০০ টাকা ডি৩১০০ এর চেয়ে সব দিক থেকে বেটার স্পেসিফিকেশন ওয়ালা ক্যামেরা। ওভারঅল একটি ভালো ক্যামেরা। বোনাস হিসেবে থাকছে ফ্লিপ আউট রোটেট্যাবল স্ক্রীন। প্রথম ডিএসএলআর ইউজারদের জন্য বেশ ভালো হবে। তবে কিছুদিন পর আপগ্রেড করার চিন্তা মাথায় আসতে পারে। কারন এতে ডি৯০ এর মতো অতো এক্সটারনাল কন্ট্রলস নেই; নেই উপরের সেভেন সেগমেন্ট ডিসপ্লেও। তবে কম কন্ট্রোল থাকা যে সবার জন্য খারাপ তা নয়, নতুনদের জন্য এটা বরং ভালই কারন এতে ক্যামেরা ব্যাবহার করা হয় সহজতর। ডি৯০ + ১৮-১০৫মিমি লেন্সঃ ৮৮,০০০ টাকা আরেকটু বাজেট বেশী থাকলে কিনুন নিকন ডি৯০। তিন বছর পুরনো ক্যামেরা কেন কিনবেন? কিনবেন কারন এটাতে আছে বিল্ট ইন ফোকাস মোটর যার কারনে আপনি কম দামি লেন্স কিনেও অটোফোকাস করতে পারবেন। এই ফিচার একই দামের নতুন ক্যামেরা ডি৫১০০ এও নেই। আরও আছে এক্সটারনাল কন্ট্রলস। অর্থাৎ ক্যামেরার বডি তেই আছে বিভিন্ন সুইচ যা দিয়ে আপারচার, সাটার স্পীড তো বটেই, ফ্ল্যাশ, হোয়াইট ব্যালেন্স, ফোকাস মোড, আই এস ও, পিকচার কোয়ালিটি/সাইজ, বারস্ট মোড, এমনকি এইচ ডি আর এর জন্য একসাথে কতগুল ছবি তুলবেন তাও ঠিক করতে পারবেন। এসবই ক্যামেরার মেন্যু তে ঢুকে সময় নষ্ট না করে, জাস্ট এক্সটারনাল বাটন চেপে। এতে আপনার সামনের সঠিক মুহূর্তটা ক্যামেরা বন্দী করার সুযোগ বহুগুণে বেরে যাবে। এটাই আমি বলব এই ক্যামেরার বেস্ট ফিচার যা শুধু হাইয়ার এন্ড ক্যামেরা গুলোয় পাওয়া যায়। একটি খারাপ দিক হল এর ভিডিও মোড তেমন সুবিধার না, তবে চলনসই। ক্যামেরা যদি শুধু ছবি তোলার জন্য কেনেন তবে ডি৯০ এর প্রাইস টু পারফর্মেন্স রেশিও বিট করা টাফ। এছাড়াও এয় ক্যামেরার উপরে আছে এরকম একটি সেভেন সেগমেন্ট ডিসপ্লে যাতে আপনি সহজেই সব সেটিংস এক পলকে দেখে নিতে পারবেন যা খুবই কাজে দেয়, এবং সব প্রো লেভেল ক্যামেরায় থাকে এটি। এতে আরও একটি সুবিধা হল এর কারণে মেইন এলসিডি ডিসপ্লে বন্ধ রাখতে পারবেন এবং ব্যাটারি সাশ্রয় হবে। ডি৯০ তে মিনিমাম ৮৫০ টি ছবি তোলা যায় ফুল ব্যাটারি তে। এছাড়াও ডি৯০ তে আছে দুটি নব, একটি সামনে একটি পিছনে যা দিয়ে সাটার স্পীড ও অ্যাপারচার কন্ট্রোল করা যায়। এটিও একটি প্রো ফিচার যা ডি৫১০০ এ নেই। তবে এসব কন্ট্রল বাটন আর এক্সট্রা হাবিজাবি সবার দরকার নাও পরতে পারে। তাই চিন্তা করে নিন আপনার কোনটা জরুরী? তাৎক্ষনিক কন্ট্রল নাকি যে ক্যামেরা ব্যাবহার করা যায়। ডি৭০০০ + ১৮-১০৫মিমি লেন্সঃ ১,২৮,০০০ টাকা বাজেট আরও বেসি হলে কিনুন নিকন ডি৭০০০। এটা উপরে বর্ণিত ডি৯০ এর পরের মডেল বলতে পারেন। তাই ডি৭০০০ এ ডি৯০ এর সব সুবিধা তো আছেই, বরং অনেক কিছুই আগের চেয়েও ভালো করা হয়েছে। এটার ফিচার বলে শেষ করতে পারব না! যেমন ধরুন নরমাল ডিএসএলআর এ যেখানে ১২/১৩ টা ফোকাস পয়েন্ট থাকে সেখানে এটাতে আছে ৩৯টা আলাদা আলাদা ফোকাস পয়েন্ট! এটা আবার ওয়েদার সীল্ড (weather sealed) অর্থাৎ হাল্কা বৃষ্টি তেও আপনি ছবি তুলতে পারবেন কোন ভয় ছাড়াই (তবে তাই বলে আবার পানির নিচে নয়!)। তাই বাজেট থাকলে চোখ বুজে কিনে ফেলুন এটি। তবে এগুলো সবই সেমিপ্রো অথবা এন্থুসিয়াস্ট (enthusiast) ক্যামেরা। প্রো ক্যামেরা কিনতে চাইলে নিকন এর ডি৩০০এস, ডি৭০০, ডি৮০০ অথবা ডি৩ আছে। এগুলোর দাম আকাশছোঁয়া আর এগুলো যদি আপনি কিনতে চান তাহলে ধরে নিতে হবে আপনি একজন প্রফেশনাল এবং এই গাইড এর আপনার প্রয়োজন নেই, তাই এগুলোর ব্যাপারে আর নাই বললাম। ক্যানন এর মডেলসমূহ ক্যানন ১১০০ডি + ১৮-৫৫মিমি লেন্সঃ ৪৬,০০০ টাকা ভুলেও এটি কিনবেন না। ক্যানন এর এন্ট্রি লেভেল ক্যামেরা নিকন এর এন্ট্রি লেভেল ক্যামেরা ডি৩১০০ এর থেকে সব দিক থেকে খারাপ। আমার কথা বিশ্বাস না হলে অনলাইন রিভিউ গুলো পড়ে নিজে যাচাই করে নিন। ক্যানন ৫৫০ডি + ১৮-৫৫মিমি লেন্সঃ ৫৭,০০০ টাকা এই কামেরাটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। কম দামের ভিতরে বেশ ভালো একটি ক্যামেরা। নিকন ডি৫১০০ এর মোটামুটি সমকক্ষ। অন্য সব দিক দিয়ে নিকন ডি৫১০০ এর চেয়ে ভালো হলেও ক্যানন ৫৫০ডি তে আছে সেই বিল্ট ইন ফোকাস মোটর যা শুধু নিকন এর কম দামি ক্যামেরার মধ্যে ডি৯০ ও ডি৭০০০ এই আছে। তাই এতে কম দামি লেন্স লাগাতে পারবেন এবং অটো ফোকাস ও হবে। তবে এটাতেও এক্সটারনাল কন্ট্রোল অতো বেশী নেই। তাই এক্সপারটদের জন্য এটা ভালো না হলেও বিগীনারদের জন্য এটা বেটার হবে। এর কন্ট্রোল বেশ সোজা এবং তাই নতুনরা এটা চালাতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। ক্যানন ৬০০ডি + ১৮-৫৫মিমি লেন্সঃ ৬৬,০০০ টাকা এটিও ৫৫০ডি এর মতই কিন্তু নতুন মডেল।৫৫০ডি এর থেকে এর যে আলাদা ফিচার টা হল এতে ডি৫১০০ এর মতো ফ্লিপাউট স্ক্রীন আছে। এছাড়া সবদিক দিয়ে এটি ৫৫০ডি এর সমমানের। ক্যানন ৫০ডি ও ৬০ডি – ৫০ডি এর শুধু বডী এর দাম ৯৩,০০০ টাকা, এবং ৬০ডি + ১৮-১৩৫মিমি লেন্স সহ দাম ৯৯,০০০ টাকা (দুটোই আনুমানিক দাম) এদুটি প্রো লেভেল ক্যামেরা। ৫০ডি প্রো ক্যামেরা হলেও অনেক পুরনো হওয়ায় দাম কম। তবে ৬০ডি বেটার। এটির ফিচারস সম্পর্কে ধারনা পেতে চাইলে বলব এটাকে ডি৯০ এর সমকক্ষ বলা চলে। | ক্যানন ৭ডি (শুধু ক্যামেরা বডী): ১,১০,০০০ টাকা এটা নিকন ডি৭০০০ এর সমকক্ষ। তবে এটায় হাই স্পীড ফটোগ্রাফি করতে পারবেন কারন এটি সেকেন্ড এ ৮টি ছবি তুলতে সক্ষম, যেখানে ডি৭০০০ মাত্র ৬টি ফ্রেম ক্যাপচার করতে পারে। তবে এটিতে আবার ভিডিও মোড এ অটো ফোকাস পাবেন না, যেটা আছে ডি৭০০০ এ। আর বাদবাকি ক্ষেত্রে এই দুটি কামেরা সমান এ সমান। তাই ৭ডি অথবা ডি৭০০০ যেটাই কিনুন না কেন, হতাশ যে হতে হবে না তা বলা যায় নিঃসন্দেহে! আরও দামি কিছু চাইলে বলতে হবে প্রো কামেরা গুলোর কথা, যেমন ৫ডি মার্ক টু। আমি আর কিছু বলব না এটার ব্যাপারে, দুই একটা রিভিউ দেখলেই বুঝবেন এটা কি জিনিস! আর অন্যান্য প্রো ক্যানন ক্যামেরার মাঝে আছে নতুন ৫ডি মার্ক থ্রি, ১ডি মার্ক ফোর ইত্যাদি। আর এগুলোর ব্যাপারে কিছু বলছিনা কারন যারা এগুলো কিনবেন তারানিশ্চয়ই প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার এবং তাদের কোন গাইড এর দরকার থাকার কথা না। আপনি কি সিরিয়াস ভিডিওগ্রাফার? তাহলেও ক্যানন কিনতে হবে। নিকন এর ক্যামেরা গুলোয় ভিডিও যে খারাপ তা না, তবে ক্যানন এক্ষেত্রে বেস্ট। ক্যানন ৫ডি দিয়ে তো অহরহ বিজ্ঞাপনচিত্র, মিউজিক ভিডিও শুট করা হচ্ছে। তাই বুঝতেই পারছেনএর কোয়ালিটি প্রোফেসনাল লেভেল এর। তবে আপনার ভিডিও করা যদি শুধু অকেসনাল পারিবারিক অনুষ্ঠান এ সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে নিকন এও চলবে। সেকেন্ড হ্যান্ড ক্যামেরা বডি কেনা কি উচিৎ? বাজেট কম থাকলে কিনতে পারেন অবশ্যই। তবে পরখ ও যাচাই করে। কি কি দেখবেন সেকেন্ড হ্যান্ড বডি কেনার আগে? ফুল রেজোলিউশান এ কিছু ছবি তুলে দেখবেন ছবি পরিষ্কার আছে কিনা। সেন্সর এ দাগ থাকলে ছবি তে তা ফুটে উঠবে। এছারাও এই সাইট এ http://shuttercounter.com লাস্ট তোলা ছবি টি আপলোড দিয়ে যাচাই করে নিবেন ক্যামেরার সাটার কাউন্ট কত। সাটার কাউন্ট হল ক্যামেরা দিয়ে মোট কয়টি ছবি তোলা হয়েছে তার হিসাব। একটি ক্যামেরা সাধারণত ১,০০,০০০ বার ছবি তুলতে পারার কথা কোন সমস্যা ছাড়াই। তাই দেখে নিন অলরেডি কত হাজার ছবি তোলা হয়েছে আপনার কিনতে চাওয়া ক্যামেরাটি দিয়ে, এতে আপনি ওটা কতটুকু ইউজ হয়েছে তার সম্পর্কে ধারনা পাবেন। এছারাও ওটা দিয়ে আর কত ছবি তোলা যাবে তার সম্পর্কেও একটি মোটামুটি ধারনা পাবেন। আরও যা দেখবেন তা হল ক্যামেরা ঠিক থাক অটোফোকাস করছে কিনা, বাটন গুলো কাজ করছে কিনা। এছাড়াও হয়ত মালিক তার কামেরাটাকে যতটা নতুন বলে দাবি করছে, ক্যামেরাটা ততটা নতুন নয়। কিছু টিপস আছে যা দিয়ে আপনি ক্যামেরার বয়স সম্পর্কে একটি ধারনা করতে পারেন। প্রথমেই লক্ষ্য করুন কামেরাতে যে স্ট্র্যাপ টি লাগান আছে তা কি অনেক পুরন ও মলিন লাগছে? ক্যামেরার স্ক্রীনও ক্যামেরার বয়স এর আরেকটি ভালো নির্দেশক। স্ক্রীন এ স্ক্র্যাচ আছে কিনা তা ভালো করে লক্ষ্য করুন। যদি অনেক ছোট ছোট স্ক্র্যাচ দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে ক্যামেরাটির বয়শ হয়েছে। এছাড়াও ক্যামেরার যেখানে এক্সটারনাল ফ্ল্যাশ লাগানো হয় (‘হট-সু’ বলে এটাকে) সেখানের অবস্থাও যদি মলিন ও রুক্ষ হয় তাহলে বুঝবেন বেশ অনেকবার এই ‘হট-সু’ ইউজ হয়েছে।

তথ্য সুত্র; উইকিবই।

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..             

   ‘‘আমাদের বিক্রমপুর-আমাদের খবর

আমাদের সাথেই থাকুন-বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন