প্রায় ১ হাজার ১০০ বছর আগের বিক্রমপুরে স্থাপনার সন্ধান লাভ

0
21
প্রায় ১ হাজার ১০০ বছর আগের বিক্রমপুরে স্থাপনার সন্ধান লাভ

প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ এপ্রিল ২০২২ইং।। ৫ই বৈশাখ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ।। ১৬ রমজান, ১৪৪৩ হিজরি ।।

বিক্রমপুর খবর : অনলাইন ডেস্ক : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বর এলাকায় প্রতœতত্ত্বের জরিপ ও খনন কাজে পঞ্চম ধাপে আরো একটি আবিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। এবার এখানে পাওয়া গেছে বৌদ্ধ ধর্মের ‘ধর্মচক্র’। দীর্ঘ তিন মাস ধরে খনন কাজ পরিচালনা করে এখানে এটি আবিষ্কারে সক্ষম হয় পরিচালনা প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস

আর তাই এটি পরিদর্শনে আসেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি এখানে প্রতœতত্ত্বের কর্মযজ্ঞ ঘুরে ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে এখানে সংবাদ সম্মেলনে এখানকার কার্যক্রম সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এ সময় উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের মাঝে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) রতন চন্দ্র পণ্ডিত, প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক রাখি রায়, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জগলুল হালদার ভুতু, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা, অতীশ দীপংকর মেমোরিয়ালের অধ্যক্ষ করোনা নন্দ থেরো, টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি মোল্লা সোহেব আলী ও টঙ্গীবাড়ী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হালদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অগ্রসার বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. নূহ উল আলম লেলিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান।


জানা যায়, নাটেশ্বর এলাকায় ২০১৩ সাল থেকে অগ্রসার বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জরিপ ও খনন কাজ চলছে। ইতোমধ্যে এখানে চারবারে জরিপ ও খননে একাধিক প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন পাওয়া গেছে। এবার পঞ্চমবারের মতো এখানে বৌদ্ধ ধর্মের ধর্মচক্র আবিষ্কার করেন এখানকার জরিপ ও খনন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। সেই সব নিদর্শন অতিথিদের মাঝে ও সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন আয়োজনকারীরা। এ কাজটির সহযোগিতায় রয়েছে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর। আর এখানকার কাজের আর্থিক সহযোগিতায় রয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।


অগ্রসার বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. নূহ উল আলম লেলিন ভোরের কাগজকে বলেন, এখানকার এ কাজের বিষয়ে চীন সরকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়েছে। এতে পরবর্তী সময়ে চীন সরকারের এখানে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর ভোরের কাগজকে বলেন, এখানে পঞ্চমবারের মতো আবিষ্কৃত বেদিগুলো বৌদ্ধ বিহারের নিদর্শন। এগুলো প্রায় ৯০০ বছর আগের। এ ঘটনায় বিক্রমপুর পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে একসময় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করবে। সরকার এখানকার এ কাজে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে অধ্যাপক সুফি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিক্রমপুরে অতীশ দীপঙ্করের জন্মভূমি। রঘুরামপুর থেকে নাটেশ্বর প্রত্নতত্ত্ব ভূমি। ২০১০ সালে রঘুরামপুরে খনন করেছি। ২০১৩ সালে নাটেশ্বরে খনন শুরু করি। এবার সর্বশেষ খননে অষ্টাকোনাকৃতির পঞ্চম স্তূপ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি। আগামী দুই বছর এখানে খনন চলবে। এরপর আবিষ্কৃত নির্দশন সংরক্ষণ করা হবে।’

(বিজ্ঞাপন) https://www.facebook.com/3square1

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..

‘‘আমাদের বিক্রমপুর-আমাদের খবর।

আমাদের সাথেই থাকুন-বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন