খ্যাতিমান কবি ও লেখক মোহিতলাল মজুমদার এর ১৩৭ তম জন্মদিন আজ

0
1
খ্যাতিমান কবি ও লেখক মোহিতলাল মজুমদার এর ১৩৭ তম জন্মদিন আজ

প্রকাশিত : শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৪, খ্রিষ্টাব্দ।। ১১ কার্তিক ১৪৩১ বঙ্গাব্দ(শরৎকাল)।। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৬ হিজরি।

বিক্রমপুর খবর : অনলাইন ডেস্ক : মোহিতলাল মজুমদার(২৬ অক্টোবর ১৮৮৮-২৬ জুলাই ১৯৫২ ইং)বিংশশতাব্দীর খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্য সমালোচক।একই সাথে ছিলেন বাংলা সাহাত্যের অন্যতম প্রবন্ধকার। মোহিতলাল মজুমদার প্রথম জীবনে কবিতা লিখলেও পরবর্তী জীবনে সাহিত্যসমালোচক হিসেবেই তিনি খ্যাতি লাভ করেন। ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে। ১৯০৮ সালে তিনি কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ক্যালকাটা হাইস্কুলে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে ১৯২৮ পর্যন্ত তিনি এই পেশায়ই নিযুক্ত ছিলেন। মাঝে কিছুদিন (১৯১৪-১৭) সেটলমেন্ট বিভাগে কানুনগো পদে কাজ করেন। ১৯২৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৪৪ সালে অবসরে যান।

মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু  মানসী পত্রিকার মাধ্যমে। পরে  ভারতী ও শনিবারের চিঠিসহ অন্যান্য পত্র-পত্রিকায়ও তিনি নিয়মিত লিখতেন। তাঁর প্রথম দিকের কবিতায় স্বপ্নবিহবল তরুণ মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও বেদনা মনোরম ছন্দে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর সাহিত্য সৃষ্টির পশ্চাতে নিজস্ব কাব্যাদর্শ, সৌন্দর্যবোধ ও আধ্যাত্মিক মতবাদ ক্রিয়াশীল ছিল। অবশ্য এই আধ্যাত্মিক মতবাদটি খুব স্পষ্ট নয়  বৈষ্ণবতত্ত্বের সঙ্গে বেদান্তের একটা সমন্বয়ের প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। ভাবসাধনার দিক থেকে মোহিতলাল ভোগসর্বস্ব দেহবাদী কবি।

বাংলা কাব্যে বিদেশী শব্দ, বিশেষ করে আরবি-ফারসি শব্দ প্রয়োগে মোহিতলালের বিশেষ কৃতিত্ব ছিল। তিনি ইংরেজি সাহিত্যেও সুপন্ডিত ছিলেন। বাংলা  ছন্দ ও অলঙ্কার বিষয়ে তাঁর বিশেষ ব্যুৎপত্তি ছিল। মোহিতলাল রবীন্দ্রকাব্যের একজন রসজ্ঞ ও মর্মজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন। তবে পরবর্তীতে শনিবারের চিঠির দলে যোগ দিয়ে তিনি রবীন্দ্রবিরোধী হয়ে ওঠেন। কাব্য বিচারে তিনি পঞ্চাশ-উত্তীর্ণ রবীন্দ্রনাথের কবিতাকে বিশেষ মর্যাদার চোখে দেখেননি। তিনি বঙ্গ সাহিত্য-সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ আসনে মাইকেল ও বঙ্কিমচন্দ্রকে বসানোর চেষ্টা করেন।

শিল্প ও সাহিত্য সম্পর্কিত সমস্যাগুলি দেখানোর ক্ষেত্রে তাঁর একটা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। তাঁর মননধর্মিতা এবং কবিসুলভ ভাবাত্মক বিচারবোধ সমালোচনা সাহিত্যকে উচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’  ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

বঙ্গসাহিত্য প্রসঙ্গে মোহিতলাল সৃজনধর্মী ও সৃষ্টিশীল আলোচনা করে গেছেন। অনেক মাসিক পত্রিকায়, বিশেষ করে ভারতীতে কবিতা লিখতেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। শনিবারের চিঠির নিয়মিত লেখক ছিলেন তিনি। মাঝে মাঝে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘চামারখায়-আম’, ‘সব্যসাচী’, ‘সত্যসুন্দর দাস’ ছদ্মনামে লিখতেন।

তার প্রকাশিত গ্রন্থ- ‘দেবেন্দ্র-মঙ্গল (১৯২২)’, ‘স্বপন-পসারী (১৯২২)’, ‘বিস্মরণী (১৯২৭)’, ‘স্মরগরল (১৯৩৬)’, ‘হেমন্ত-গোধূলি (১৯৪১)’, ‘ছন্দ চতুর্দশী (১৯৪১) (সনেট সঙ্কলন)’, ‘কাব্য মঞ্জুষা’ ইত্যাদি।

তার প্রবন্ধগ্রন্থ হচ্ছে- ‘আধুনিক বাংলা সাহিত্য (১৯৩৬)’, ‘সাহিত্যকথা (১৯৩৮)’, ‘বিবিধ কথা (১৯৪১)’, ‘বিচিত্র কথা (১৯৪১)’, ‘সাহিত্য বিতান (১৯৪২)’, ‘বাঙলা কবিতার ছন্দ (১৯৪৫)’, ‘বাঙলার নবযুগ (১৯৪৫)’, ‘জয়তু নেতাজী (১৯৪৬)’, ‘কবি শ্রীমধুসূদন (১৯৪৭)’, ‘সাহিত্য বিচার (১৯৪৭)’, ‘বঙ্কিমবরণ (১৯৪৯)’, ‘রবি-প্রদক্ষিণ (১৯৪৯)’, ‘ শ্রীকান্তের শরৎচন্দ্র (১৯৫০)’, ‘জীবন জিজ্ঞাসা (১৯৫১)’, ‘বাঙলা ও বাঙালী (১৯৫১)’, ‘ কবি রবীন্দ্র ও রবীন্দ্র কাব্য (প্রথম খণ্ড ১৯৫২, দ্বিতীয় খণ্ড ১৯৫৩)’, ‘বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস (১৯৫৫)’।

খ্যাতিমান কবি ও লেখক মোহিতলাল মজুমদার ১৯৫২ সালের ২৬ জুলাই  তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আজ এই কিংবদন্তী লেখকের ১৩৭ তম জন্মদিন।স্মরণ করি এবং ফুলেল শ্রদ্ধা জানাই।।

বিজ্ঞাপন)  https://www.facebook.com/3square1

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..             

   ‘‘আমাদের বিক্রমপুরআমাদের খবর

আমাদের সাথেই থাকুনবিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com

আমাদের পেইজ লাইক দিন শেয়ার করুন।       

জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন