অধ্যাপক যতীন সরকারের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায়

0
1
অধ্যাপক যতীন সরকারের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায়

প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ৩১ শ্রাবন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)।। ২০ সফর, ১৪৪৭ হিজরী।

বিক্রমপুর খবর :অনলাইন ডেস্ক :স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য লেখক, বুদ্ধিজীবী, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ, মুক্তচিন্তক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক যতীন সরকারকে নেত্রকোণায় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটায় নেত্রকোণা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে শহরের ছোট বাজার এলাকার স্থানীয় শহীদ মিনারে তার শবদেহ আনা হলে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। কফিনে শায়িত প্রিয় শিক্ষক ও অভিভাবককে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

শ্রদ্ধা নিবেদনে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ আশরাফুল মুনিম, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন, রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক লেখক ও গবেষক আলী আহমেদ আইয়ুব, চন্দ্রনাথ কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হাসান, নেত্রকোণা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, নেত্রকোণা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান, প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠীর সভাপতি মনির হোসেন বরুণ, সাহিত্য সমাজের সভাপতি ম. কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, প্রগতিশীল লেখক ফোরামের স্বপন পালসহ শতাধিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি।

পরে মরদেহ শহরের উদীচী কার্যালয়ে নেয়া হয়, যেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর নেত্রকোণা কমিউনিস্ট পার্টির কালিবাড়ি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সাতপাই এলাকার প্রয়াতের নিজ বাসা ‘বানপ্রস্থ’-এ মরদেহ রাখা হয়। আত্মীয়স্বজন ও কাছের মানুষদের শেষ দর্শনের সুযোগ দেয়ার পর রাত একটার দিকে চকপাড়া মহাশ্মশানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

প্রসঙ্গত, বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অধ্যাপক যতীন সরকার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

বিকেল ৪টায় ময়মনসিংহ উদীচী জেলা সংসদে তার মরদেহ নেয়া হলে সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ভক্তরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে রাতেই মরদেহ নেত্রকোণা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়।

১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন যতীন সরকার। ১৯৫৯ সালে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন। কর্মজীবনে তিনি কেন্দুয়ার আশুজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বারহাট্টা উচ্চ বিদ্যালয়, গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজে শিক্ষকতা করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকেন।

তিনি দুইবার বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠনের অভিভাবক ও কর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন।

১৯৮৫ সালে তার প্রথম গ্রন্থ সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি অন্তত ৭০টির বেশি বই রচনা করেন।

অধ্যাপক যতীন সরকার স্বাধীনতা পদক (২০১০), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০০৭), ড. এনামুল হক স্বর্ণপদক, খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার এবং প্রথম আলোর বর্ষসেরা বই পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..           

‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের
সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন