বিশিষ্ট সাংবাদিক, চিন্তাবিদ ও সমাজসংস্কারক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন এর জন্মদিন আজ

0
0
বিশিষ্ট সাংবাদিক, চিন্তাবিদ ও সমাজসংস্কারক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন এর জন্মদিন আজ

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ।। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (হেমন্ত কাল)।। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরী।

বিক্রমপুর খবর: লৌহজং প্রতিনিধি : বাংলার আধুনিক সাংবাদিকতা, প্রগতিশীল সাহিত্যচর্চা ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ— মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। তিনি শুধু একজন সম্পাদক নন, ছিলেন মুক্তচিন্তার সাহসী কণ্ঠ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী এবং নতুন সমাজধারার অগ্রদূত।

১৮৮৮ সালের ২০ নভেম্বর চাঁদপুরের পাইকারদি গ্রামে জন্ম নাসিরউদ্দীনের।
প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা না থাকলেও প্রবল কৌতূহল, আত্মশিক্ষা এবং জ্ঞানীজনের সঙ্গে মেলামেশা তাঁকে গড়ে তোলে এক স্বশিক্ষিত বুদ্ধিজীবী হিসেবে।
প্রথম জীবনে ইনস্যুরেন্স এজেন্ট হিসেবে কাজ—এ থেকেই কিছু পুঁজি সঞ্চয়
পরবর্তীতে নতুন পথের সন্ধানে কলকাতায় যাত্রা
সেখানেই শুরু সাংবাদিকতার জীবন
‘সওগাত’—এক যুগান্তকারী আন্দোলনের নাম-
১৯১৮ সালের ২ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত সচিত্র সাহিত্যপত্র ‘সওগাত’।
যদিও আর্থিক সংকটে ১৯২২ সালে প্রকাশনা স্থগিত হয়, কিন্তু ১৯২৬ সালে নব উদ্যমে আবার ফিরে আসে সওগাত—এবং ১৯৪৭ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠা: সওগাত সাহিত্য মজলিস
তরুণ লেখকদের উৎসাহ ও নতুন ধারার সাহিত্যচর্চার অনন্য প্ল্যাটফর্ম
কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া, শামসুন্নাহার মাহমুদ, সুফিয়া কামালসহ বহু প্রগতিশীল সাহিত্যিক তাঁদের সৃষ্টিশীলতা প্রকাশ করেন সওগাতের মাধ্যমে।
নারী ও মুসলিম সমাজের রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে সওগাত ছিল তীব্র প্রতিবাদের সাহিত্য–মঞ্চ
নারীর ছবি ছাপানোর সাহস দেখানো—তৎকালীন সমাজে এটি ছিল এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ।
কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে সামাজিক অসঙ্গতি, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি তীব্রভাবে তুলে ধরা।
১৯৩৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সওগাত কালার প্রিন্টিং প্রেস, যা আধুনিক প্রকাশনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
নারীমুক্তির অগ্রদূত ‘বেগম’ পত্রিকা-
১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নারীদের প্রথম সচিত্র সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’।
এই পত্রিকা নারীর কলম, চিন্তা ও প্রতিভার বিকাশে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখে।
পরবর্তীকালে অসংখ্য নারী লেখক ও সাংবাদিকের উত্থানের পেছনে বেগমের অবদান অনস্বীকার্য।
দেশবিভাগের পর ঢাকায় নতুন অধ্যায়-
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর নাসিরউদ্দীন ঢাকায় এসে স্থায়ী হন।
১৯৫৪ সাল থেকে ‘সওগাত’ আবার নিয়মিত প্রকাশ শুরু
বাংলা একাডেমির ফেলো
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টি সদস্য
নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান
সমাজ সংস্কার ও মুক্তচিন্তার সংগ্রামী-
সওগাতের মাধ্যমে তিনি সমাজে নতুন চিন্তার আলো ছড়িয়েছেন—
তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন—
সাম্প্রদায়িকতা
ধর্মীয় গোঁড়ামি
বহুবিবাহ
শিশুবিবাহ
পণপ্রথা
জাতিভেদ ও কুসংস্কার
জাদু–টোনা, ভূত–প্রেত বিশ্বাস
এইসবের বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল ধারালো অস্ত্র।
সম্মাননা ও পুরস্কারঃ
বাংলা একাডেমি সম্মাননা (১৯৭৫)
একুশে পদক (১৯৭৭)
স্বাধীনতা পদক—জাতীয় জীবনের সর্বোচ্চ সম্মান
১৯৭৬ সালে চালু করেন নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, সৃজনশীল লেখক ও সাংবাদিকদের সম্মান জানাতে।
১৯৯৪ সালের ২১ মে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১০৫ বছরের দীর্ঘ জীবনজুড়ে তিনি ছিলেন আলোকদীপ্ত চিন্তার পথিকৃৎ, প্রগতিশীলতার প্রতীক।
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, সম্পাদক, সংস্কারক, চিন্তাবিদ, নারীমুক্তির অনুরাগী এবং নতুন সমাজবোধের জন্মদাতা।
বাংলা সাহিত্য–সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে তাঁর নাম এক অনিবার্য অধ্যায়।
জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..           

‘‘আমাদের বিক্রমপুর– আমাদের খবর।
আমাদের
সাথেই থাকুন– বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com
আমাদের পেইজ এ লাইক দিন শেয়ার করুন।
জাস্ট এখানে ক্লিক করুন। https://www.facebook.com/BikrampurKhobor
email – bikrampurkhobor@gmail.com

 

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন