বিক্রমপুরের মেয়ে আজমেরী হক বাঁধন

0
49
বিক্রমপুরের মেয়ে আজমেরী হক বাধন

আত্মবিশ্বাসী,আত্মনির্ভরশীল এবং সাহসী মানুষ বিক্রমপুরের মেয়ে আজমেরী হক বাঁধনকে অভিনন্দন।

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই ২০২১ইং।। ৩১শে আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)।। ৪ঠা জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী।।

বিক্রমপুর খবর : নিউজ ডেস্ক : বিশ্ব চলচ্চিত্রের মর্যাদাপূর্ণ এ উৎসবের ৭৪ তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো অফিসিয়াল সিলেকশনে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রটি ‘আ সাবটেইন রিগার্ড’ বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে।‘আঁ সেত্রাঁ রিগা’ বিভাগে বিশ্বের নানা দেশের ২০টি চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। আর এই চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রিয় মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিক্রমপুরের মেয়ে আজমেরী হক বাঁধন।

আগামীকাল ১৬ই জুলাই পুরস্কার বিতরণ করবেন।এবং আগামী ১৭ জুলাই উৎসবের পর্দা নামবে; ১৮ জুলাই সাদ-বাঁধনদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আজমেরী হক বাঁধনের গ্রামের বাড়ি শ্রীনগর উপজেলার বাশাইলভোগ গ্রামে। পিতার নাম ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম সেন্টু ঢ়ালী। নানার বাড়ি শ্রীনগর উপজেলার কামারগাঁও গ্রামে।

পর্দার রেহানার সঙ্গে বাঁধনের ব্যক্তিগত জীবন প্রায় একই সুতোয় বাঁধা।

২০১০ সালের জানুয়ারিতে মাশরুর সিদ্দিকী সনেটের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন বাঁধন। সে বছরেরই ৮ সেপ্টেম্বর তাদের মেয়ে সায়রার জন্ম হয়। তবে ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়।

স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৭ সালে আদালতের রায়ে নিজের মেয়ে সায়রার অভিভাবকত্ব পেয়েছেন বাঁধন। একক মা হিসেবে মেয়েকে বেড়ে তোলার সংগ্রামে নিজেকে শামিল রেখেছেন তিনি।

আত্মবিশ্বাসী, আত্মনির্ভরশীল এবং সাহসী মানুষ বাঁধন বলেন,“সেই সময়টা আমার কাছে অস্তিত্বহীন ছিল। তখন থেকেই ভেবেছিলাম, আমার জীবন আমার মতো করে বাঁচতে চাই। বাংলাদেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখে তেমন কাজ করে যেতে চাই।”

বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ২০০৬ সালে দেশীয় একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় রানারআপ হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন বাঁধন।

রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের সঙ্গে বাঁধনের সফর শুরু হয়েছিল দেড় বছর আগে। ব্যক্তিগত জীবনের বিষণ্ণতার সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে না উঠার শঙ্কায় ছবিটি ছেড়েই দিতে চেয়েছিলেন বাঁধন!

আজমেরী হক বাঁধন জানালেন, দেড় বছর আগে স্ক্রিপ্টটা হাতে পাওয়ার সময় থেকেই ছবির প্রযোজক, নির্মাতাসহ সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তার। ব্যক্তিগত জীবনের বিষণ্ণতার জন্য চরিত্রে পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে পারবেন কি না-তার শঙ্কায় ছবিটি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। “সেই সময়ে সাদ আমাকে শক্তি দিয়েছিল। ও বলেছিল, তুমি ‘রেহানা’ না করতে পারলে কেউ পারবে না। তার দৃঢ়তা আমাকে শক্তি দিয়েছে। আমি প্রশিক্ষিত অভিনেত্রী না, টেকনিক জানি না। আমি ক্যামেরার সামনে রিঅ্যাক্ট করেছি, অ্যাক্ট করিনি।”

আজমেরী হক বাঁধন আরও বলেন,“আমি অ্যাক্টর, আমাকে কাজে লাগাতে হবে। আমার জন্য সুযোগ কম। জীবনের অর্ধেক প্রায় শেষ। বাকি জীবনে সুযোগ হবে কি না, জানি না। কিন্তু আমার চেষ্টার ঘাটতি থাকবে না।”

ছবিতে বাঁধন ছাড়াও অভিনয় করেছেন আফিয়া জাহিন জাইমা, কাজী সামি হাসান, আফিয়া তাবাসসুম বর্ন, ইয়াছির আল হক, সাবেরী আলম।

ছবিটি শুধু বাংলাদেশী মিডিয়াই না, খোদ ফ্রান্সসহ বিশ্ব মিডিয়ায় বিশেষ কাভারেজও পাচ্ছে।

যেখানে চলছে নির্মাতা সাদ ও মুখ্য অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন এর প্রশংসা।

ভারতীয় পত্রিকা এনডিটিভি রিভিউ প্রকাশ করেছে ছবিটির। সেখানে বলা হয়, ‘‘লেখক- পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর টেক্সচার, শৈলী ও নির্মাণ কৌশলের মিলন নিখুঁত। চলচ্চিত্রটিতে স্ব-ইচ্ছায় প্রকাশিত চরিত্রটি এমন এক বিশ্বের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে-যা অনবদ্য।’’

বাঁধন প্রসঙ্গে তারা লেখে, ‘গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে বাঁধনের পারফরমেন্স’।

দেশটির আরেক ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ‘ছবিটি ইতিহাস তৈরি করেছে। প্রদর্শনীতেই পেয়েছে স্ট্যান্ডিং ওভেশন।’

চলচ্চিত্রবিষয়ক ভারতীয় পত্রিকা ফিল্মফেয়ারের ভাষ্য, ‘‘রেহানা নামের যে চরিত্রটি সেটির অভিনেত্রী বাঁধন। যিনি ইতোমধ্যেই ভারতীয় ওয়েব সিরিজ সৃজিত মুখার্জির ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেনি’তে অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশিদের জন্য ছবিটি কানে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে; যা স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য বিশাল এক অনুপ্রেরণা।’’

অন্যদিকে, ফরাসি পত্রিকা টট লা কালচার, লে ম্যাগ ডু সিনে, ল’ইন্টারন্যাটসহ বেশ কয়েকটি সংস্থাও নিয়মিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’র সংবাদ ছাপছে।

এর মধ্যে ফ্রান্স ২৪ লিখেছে, ‌‘মুভিটি গভীরভাবে যৌনতাবাদী পরিবেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক। রেহানা চরিত্রটিও অবিচ্ছিন্ন!’

সাদ প্রসঙ্গে তারা লেখে,‘‘এটা সত্যিই ভালো যে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসরে তরুণ ট্যালেন্টরা উঠে আসছেন। ৩৬ বছর বয়সী চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ, যার ফিচার ফিল্ম ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছে।’’

এছাড়া চলচ্চিত্রটি নিয়ে বেশ প্রশংসা এসেছে ওপার বাংলা থেকেও। পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি মিডিয়া ছবিটি নিয়ে লিখেছে। প্রশংসা করেছে সংবাদ প্রতিদিন, হিন্দুস্তান টাইমস বাংলাসহ কয়েকটি পত্রিকা।

নিউজটি শেয়ার করুন .. ..               

   ‘‘আমাদের বিক্রমপুর-আমাদের খবর।

আমাদের সাথেই থাকুন-বিক্রমপুর আপনার সাথেই থাকবে!’’

Login করুন : https://www.bikrampurkhobor.com

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন