পদ্মা সেতুর ২৭তম স্প্যান করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই বসানো হলো আজ

0
26
পদ্মা সেতু (ফাইল ফটো)

প্রকাশিত : শনিবার,২৮ মার্চ ২০২০ ইং ।। ১৪ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

বিক্রমপুর খবর :মাওয়া থেকে স্টাফ রিপোর্টার : শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ২৭তম স্প্যান বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর চার কিলোমিটার।

২৬তম স্প্যান বসানোর ১৮দিনের মাথায় শনিবার সেতুর পিলারের উপর ২৭তম স্প্যানটি বসানো হয়। এই স্প্যান বসানোর পর ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পদ্মা সেতুর চার হাজার ৫০ মিটার অংশ দৃশ্যমান হলো।

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় ২৭ ও ২৮ নম্বর পিলারের উপর স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়। আর ১৪টি স্প্যান বসিয়ে ২.১ কিলোমিটার দৃশ্যমান বাকি পদ্মাসেতুর।

আজ শনিবার সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে ২৭ ও ২৮ নম্বর পিলারের উপর স্প্যানটি বসানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মূল সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের।

নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতা এসেছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু তৈরিতে। শত প্রতিকূলতা এড়িয়ে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়ানো করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে থাকেনি সেতুর নির্মাণযজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও নির্মাণ শ্রমিকদের রাতদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রমে সময়ের সঙ্গে এগিয়ে চলছে সেতুর নির্মাণ কাজ। এরই ধারবাহিকতায় শনিবার জাজিরা প্রান্তের ২৭ ও ২৮নং পিয়ারে  বসানো হলো সেতুর ২৭তম স্প্যান।

এখন পদ্মা সেতুর ৪ হাজার ৫০ মিটির বা ৪.০৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হইল। এর পূর্বে গত ১০ মার্চ ২৬ তম স্প্যানটি বসানো হয়। ২৭ তম স্প্যানটি সফলভাবে বসানোর পর বাকি থাকলো আর মাত্র ১৪টি স্প্যান।এদিকে মাওয়া প্রান্তের সংযোগ সেতুর টি গার্ডার স্থাপন শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যে দুটি খুঁটির মধ্যে এই স্প্যান বসছে তার একটি ২৭ নম্বর খুঁটি। এই খুঁটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে গত ১৬ মার্চ। এরপর কিউরিং করা হয়। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরই এটি উঠানো হচ্ছে। খুঁটি তৈরির পর এত অল্প সময়ে স্প্যান উঠানোর ঘটনা এই প্রথম। যেহেতু এই ‘৫সি’ নম্বর স্প্যান রেডি করে একদম জেটির সামনে রাখা ছিল। তাই এটিই আগে স্থাপন করতে হয়েছে।

২৭ নম্বর স্প্যানটি উঠানোর কথা ছিল আগামী ৩১ মার্চ। তবে আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় তিন দিন আগেই এটি উঠানো হলো। পদ্মা সেতুর মূল ভিত এখন সম্পন্ন। ৪২টি খুঁটির ৪১টি সম্পন্ন এখন। বাকি শুধু এখন ২৬ নম্বর খুঁিট । খুঁটির সর্বশেষ প্রক্রিয়া ক্যাপ। এই খুঁটির ক্যাপের রড বাঁধাই হয়ে গেছে। এখন শুধু ঢালাই। কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঢালাই সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে প্রকৌশলী জানান। এই খুঁটিটি সম্পন্ন করার টার্গেট রয়েছে আগামী ১০ এপ্রিল। তবে এর আগেই সম্পন্ন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে তিনটি স্প্যান বসলেও মার্চে বসছে দু’টি স্প্যান। গত ১০ মার্চ এর পাশের ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারে ‘৫ডি’ নম্বরের ২৬তম স্প্যানটি বসানো হয়। এতে সেতুর ৩৯০০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। ২৭ তম স্প্যান বসে গেলে স্বপ্নের পদ্মাসেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে আর মাত্র বাকী থাকছে ১৪টি স্প্যান। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদ্মা সেতুতে ৪১টি স্প্যান বসবে। এরই মধ্যে মাওয়ায় পৌছে গেছে ৩৯টি স্প্যান। বাকী রয়েছে মাত্র ‘২ই’ ও ‘২এফ’ নম্বরের দুইটি মাত্র স্প্যান।

চীনে করোনাভাইরাসের কারণে এই দু’টি স্প্যান বসাতে বিলম্ব হচ্ছিল। তৈরি হয়ে যাওয়া এই স্প্যানের বাকি ছিল শুধু পেইন্টিংয়ের কাজ। চীনের উহানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার কারণে এখন এই কাজ চলছে পুরোদমে। তাই আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই এই দু’টি স্প্যানও মাওয়ায় এসে পৌঁছবে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের বলেন, এই দুই স্প্যান ২০ এপ্রিলের দিকে মাওয়ার পৌঁছানোর টার্গেট রয়েছে। শিগগিরই স্প্যান দুটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে শিপমেন্ট করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের ‘সিনো হাইড্রো করপোরেশন’।

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন