আজ পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ

0
19
আজ পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ

প্রকাশিত :রবিবার,২২ মার্চ ২০২০ ইং ।। ৮ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ।

বিক্রমপুর খবর :অনলাইন ডেস্ক:আজ  ২৬ রজব দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ। বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা:)নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষে এই রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে ঊর্ধ্বাকাশে আরশে আজিমে আরোহন করেন এবং আল্লাহর দিদার লাভ করেন।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কাছে এ রাত পবিত্র ও মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত-বরকতে সমৃদ্ধ। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আজ রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ পালিত হবে।
বিশ্ব মুসলিমের কাছে এ রাতের তাৎপর্য অপরিসীম। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, নফল রোজা ও নফল নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা শবে মিরাজ পালন করে থাকেন।
৬২০ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ রজব দিবাগত রাতে মহানবী সা:আল্লাহর সান্নিধ্যে লাভে মিরাজ গমন করেন।

মহানবী (সা.) যখন জাগতিক ও পারিপার্শ্বিক অসহায় অবস্থার সম্মুখীন হন, পিতৃব্য আবু তালিব ও বিবি খাদিজা (রা.)-এর আকস্মিক ইন্তেকাল হয়, অন্যদিকে কাফেরদের অত্যাচার তাঁকে বিপর্যস্ত করে তোলে; তখন মিরাজের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা স্বীয় হাবিবকে নিজের সান্নিধ্যে ডেকে এনে সান্ত্বনা দিয়ে আদর্শ সমাজ সংস্কারের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পবিত্র কোরআনে একাধিক সূরায় মিরাজের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে। মহানবী (সা.)-এর নৈশকালীন সফরের বিষয়টি উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘পবিত্র ও মহিমান্বিত তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে (মুহাম্মদ) এক রজনীতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় পরিভ্রমণ করিয়েছিলেন, যার চারপাশ আমি বরকতময় করেছিলাম তাকে আমার নিদর্শন পরিদর্শন করার জন্য।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ১)
নবী করিম (সা.)-এর ৫০ বছর বয়সে মাক্কি জীবনের শেষলগ্নে অর্থাৎ নবুয়তের দশম বছরে রজব মাসের ২৭ তারিখ মিরাজের মহিমান্বিত ও বিস্ময়কর ঘটনা সংঘটিত হয়। আল্লাহর নির্দেশে গভীর রাতে জিবরাইল (আ.), মিকাইল (আ.) ও ইসরাফিল (আ.)—এই তিন ফেরেশতা নবীজির সান্নিধ্যে আগমন করে তাঁকে কাবা শরিফের হাতিমে নিয়ে আসেন এবং অতঃপর ঐশীবাহন ‘বোরাক’কে উপস্থিত করে এতে আরোহণ করার জন্য জিবরাইল (আ.) ইঙ্গিত করেন। তিনি বোরাকে আরোহণ করলে সেটি ত্বরিতগতিতে মদিনা মুনাওয়ারা, সিনাই পর্বত, হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মস্থান ‘বায়তে লাহম’ হয়ে চোখের পলকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা তথা বায়তুল মুকাদ্দাসে গিয়ে পৌঁছাল। নবীকুল শিরোমণি সেখানে আম্বিয়ায়ে কিরামের সঙ্গে জামাতে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। তিনি হলেন ‘ইমামুল মুরসালিন’ অর্থাৎ সব নবী-রাসুলের ইমাম। নৈশভ্রমণের প্রথমাংশ এখানেই সমাপ্ত হয়। পবিত্র কোরআনের ভাষায় মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত পরিভ্রমণকে ‘ইস্রা’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

তারপর সেখান থেকে তিনি এই রাতেই সপ্তম আকাশ পেরিয়ে সিদরাতুল মুনতাহায় উপনীত হন। এরপর রফরফ নামক বাহনে চড়ে তিনি আল্লাহর অনুগ্রহে আরশে আজিমে পৌঁছেন।
আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ ও সরাসরি কথোপকথন শেষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। মিরাজ রাসূল সা:-এর জীবনে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।

প্রতি বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র শবে মিরাজ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মিরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এবার ওয়াজ মাহফিল বা আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি পালিত হচ্ছে না। তবে নামাজের পর উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত হবে। কেউ চাইলে ইবাদতও করতে পারবেন। মসজিদ খোলা থাকবে।

পবিত্র নগরী মক্কা

বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়তী জিন্দেগীতে যেসকল অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল তন্মধ্যে মেরাজের ঘটনা অন্যতম। যা পবিত্র কুরআনুল কারীম এবং মাশহুর, মুতাওয়াতীর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। মহানবীর ঐতিহাসিক মেরাজ আমাদের লক্ষ্য ও গন্তব্যের সন্ধান দেয়। মেরাজ আল্লাহর সাথে মানুষের সর্ম্পক গভীর করে তোলে। কুরআন-হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে মেরাজ প্রমাণিত। তা অস্বীকার করা কুফরি। মেরাজের তাৎপর্য অনস্বীকার্য। মহন রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন কারীমের দু’টি সূরায় পবিত্র মেরাজের আলোচনা করেছেন। একটি হলো সূরায়ে ‘ইসরা’ অপরটি হলো সূরায়ে ‘নাজম’। এ প্রসঙ্গে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন,‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্ত্বা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন, মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চারদিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছিলাম যেন আমি তাকে আমার নিদর্শনাবলী (কুদরতিভাবে) দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি অধিক শ্রবণকারী ও দর্শনশীল’। (সূরা বনি ইসরাঈল: ১)

এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীকে দেখিয়েছেন অনেক নির্দশন। যার মধ্যে রয়েছে সাধারণ জ্ঞানের বাইরে ঐশ্বরিক অনেক ঘটনা ও ইতিহাস।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কেন এত বড় একটি ঘটনা ঘটালেন? এর পেছনে তাঁর কি রহস্য? এর গুরুত্বই বা কি? এর দ্বারা আমরা কি পেলাম? এ বিষয়গুলোর একটি সংক্ষিপ্তরূপ তুলে ধরা হলো-

নবুয়তের সত্যতার প্রথম দিক..
মেরাজের রাতে পবিত্র নগরী মক্কা থেকে আরেক পবিত্র নগরি জেরুজালে মুহূর্তের মধ্যে গমন। সেখানকার মসজিদে আকসার চার পাশের বরকতময় নির্দশনগুলোর পরিদর্শন। অথচ এ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সাধারণত সময় লাগে এক মাস। আল্লাহ তাআলা তা খুব তড়িৎ গতিতে সম্পন্ন করিয়েছেন।

যা মেরাজ পরবর্তী সময়ে মক্কায় অবস্থানরত সকল কাফির-মুশরিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়নবি বলে দিয়েছিলেন। যা তার নবুয়তের সত্যতার সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং মুজেজা।

মেরাজের দীর্ঘ পথে যা দেখলেন তিনি…
মদিনায় নামাজ আদায়
হাদিসের এক রেওয়ায়েতৈ এসেছে, ‘বোরাক নামক কুদরতি বাহনে ভ্রমণের সময় জিবরিল আলাইহিস সালাম এক জায়গায় পিয়নবিকে নামাজ পড়তে বলেন। অতঃপর তিনি বলেন, এ জায়গা আপনি চিনেন? প্রিয়নবি বললেন, না’। হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম বললেন, ‘এটা তায়্যেবা অর্থাৎ মদিনা, এটাই হচ্ছে হিজরতের জায়গা।

তুর পাহাড়ে নামাজ
মদিনা অতিক্রম করার পর অন্য এক জায়গায় নামাজ পড়ান এবং বলেন এটা হচ্ছে তুরে সাইনা অর্থাৎ এখানেই আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে কথা বলেন।

বাইতে লাহামে নামাজ
তুর পাহাড়ের পর প্রিয় নবী বায়তে লঅহামে নামাজ আদায় করে। এ বায়তে লাহাম হলো হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মস্থান।

অতঃপর প্রিয়নবী বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌছেন। যেখানে সকল নবী ও রাসুলগণ একত্রিত হন। কেননা এই বায়তুল মুকাদ্দাসই হচ্ছে সব নবী ও রাসুলদের প্রাণ কেন্দ্র।

সব নবি-রাসুলদের নেতা মনোনীত
বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌছার পর প্রিয়নবী সব নবী-রাসুলদের ইমাম হয়ে মসজিদে আকসায় নামাজ আদায় করেন। আর এ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে প্রিয়নবী হয়ে ওঠেন ইমামুল মুরসালিনা ওয়ান নাবিয়্যিন।

বায়তুল মুকাদ্দাসে দুধ পান
সব নবি-রাসুলদের নিয়ে নামাজ আদায়ের পর প্রিয়নবীকে পানি বা সরাব, দুধ ও মধু দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন। প্রিয়নবী দুধ গ্রহণ করলেন। প্রিয়নবী দুধ পান করার ফলে জিবরিল আলাইহিস সালাম বলেন, ‘আপনি ফিতরাতের ওপর বিজয়ী হয়েছেন। যদি আপনি পানি পান করতেন তবে, আপনার উম্মত বিপদের সম্মুখীন হয়ে যেত।

উর্ধ্বলোকে আরোহন ও প্রথম আকাশে ঘটনা প্রবাহ…
হজরত আদম আলাইহিস সালামের সাক্ষাৎ
দুনিয়ার আকাশে আরোহন করে প্রিয়নবি দেখেন এক ব্যক্তি ডানে তাকিয়ে হাসছেন; আর বামে তাকিয়ে কাঁদছেন। জিবরিল প্রিয়নবির জিজ্ঞাসায় জানালেন, ইনি হলেন হজরত আদম আলাইহিস সালাম। তিনি তার ডান পাশের জান্নাতি সন্তানদের দেখে হাসছেন। আর বাম পাশের জাহান্নামি সন্তানদের দেখে কাঁদেছেন।

হারাম ভক্ষণকারীর পরিণাম
দুনিয়ার আকাশে দুইটি ভাণ্ডভর্তি গোশ্‌ত। যার একটি তাজা গোশ্‌ত। আর অন্যটিতে পঁচা-দুর্গন্ধ গোশ্‌ত। মানুষ তাজা গোশ্‌ত না খেয়ে পঁচা গোশ্‌ত খাচ্ছে। প্রিয়নবি জানতে পারলেন এরা হলো দুনিয়ার হারাম ভক্ষণকারী ব্যক্তি।

অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎকারীর পরিণাম
কিছু লোকের ঠোট উটের মত। ফেরেশতারা তাদের মুখ ফেড়ে ঐ (পঁচা-দুর্গন্ধযুক্ত)গোশত তাদের মুখের মধ্যে ভরে দিচ্ছেন; যা তাদের অন্যপথ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আর তাতে তারা ভীষণ চিৎকার করছে এবং আল্লাহর কাছে মিনতি করছে। জানা গেল এরাই হচ্ছে দুনিয়াতে যারা ইয়াতিমের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করেছিল।

ব্যভিচারীর পরিণাম
সেখানে দেখা গেল- কয়েকজন স্ত্রীলোক বুকের ভারে লটকানো রয়েছে এবং হায়! হায়! করছে। জানা গেল এরা হচ্ছে ঐ সব স্ত্রীলোক; যারা দুনিয়াতে ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল।

সুদ খাওয়ার পরিণাম
অতঃপর দেখলেন, কিছু লোকের পেট বড় বড় ঘরের মত। তারা উঠে দাঁড়াতে চাইলেই পড়ে যাচ্ছে আর আল্লাহ তা’আলার সামনে হা-হুতাশ করছে। জানা গেলে তারা হচ্ছে দুনিয়ার সুদখোর ব্যক্তি।

গিবতকারীর পরিণাম
অতঃপর দেখা গেল- ফেরেশতারা কিছু লোকের পার্শ্বদেশ থেকে গোশত কেটে তাদের নিজেদের খাওয়াচ্ছে আর বলছে, তোমরা দুনিয়াতে যেভাবে নিজের ভাইয়ের গোশত খেতে (গিবত করতে); এখনেও খাও। জানা গেল- তারা হল ওই সব লোক; যারা দুনিয়াতে অপরের দোষ অন্বেষণ করে বেড়াত

এভাবে দ্বিতীয় আকাশে সুদর্শন যুবক হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম, তৃতীয় আকাশে হজরত ইয়াহইয়া ও জাকারিয়া আলাইহিস সালাম, চতুথ আকাশে হজরত ইদরিস আলাইহিস সালাম, পঞ্চম আকাশে হজরত হারুন ইবনু ইমরান আলাইহিস সালাম, ষষ্ঠ আকাশে হজরত মূসা ইবনু ইমরান আলাইহিস সালামের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

সপ্তম আকাশে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ
সপ্তম আকাশে বায়তুল মামুরের সঙ্গে ঠেস দিয়ে বসে থাকা মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে দেখতে পানে। তিনি উম্মতে মুহাম্মাদিকে দুভাগে দেখেন-

>> যাদের অর্ধেকের কাপড় ছিল বকের মত সাদা;
>> আর বাকী অর্ধেকের কাপড় ছিল কালো;
সাদা পোশাকের লোকগুলো আমার সঙ্গে বায়তুল মামুরে যেতে পারলেন; আর কালো পোশাকের লোকগুলো আমার সঙ্গে যেতে পারলেন না। অতঃপর আমি সেখানে নামাজ আদায় করে বেরিয়ে আসলাম।
উল্লেখ্য যে, এ বায়তুল মামুরে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা নামাজ পড়েন; যারা একদিন নামাজ পড়েছেন তাদের পালা কেয়ামত পর্যন্ত আর আসবে না বলে জানা যায়।

জান্নাতের নেয়ামত পরিদর্শন
জান্নাতে বেহেশতি হুর দেখা গেলো। বেহেশতি হুর, তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কার? উত্তরে সে বলল আমি হজরত যায়েদ ইবনু হারেসার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। সেখানে নষ্ট না হওয়া পানি। স্বাদ পরিবর্তন না হওয়া মধু। নেশাহীন সুস্বাদু মদ। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন মধুর নহর দেখলাম। বড় বড় বালতির ন্যায় ডালিম ফল। পাতলা তক্তা ও কাঠের ফালির ন্যায় পাখি অবলোকন করলঅম।
আর এসব নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৎ বান্দাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন; যা দুনিয়ার কোনো চোখ দেখেনি; কোনো কান শোনেনি এমনকি অন্তরেও কল্পনা করেনি।

জাহান্নামের আজাব পরিদর্শন
অতঃপর আমার সামনে জাহান্নাম উপস্থিত করানো হলো। যেখানে ছিল আল্লাহর ক্রোধ, তার শাস্তি এবং তার অসন্তুষ্টি। যদি তাতে পাথর ও লোহা নিক্ষেপ করা হয় তবে ওগুলোকেও খেয়ে ফেলা হবে। অতঃপর আমার সামনে থেকে ওটা বন্ধ করে দেয়া হল। আবার আমামে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে যাওয়া হল। এবং আমাকে ঢেকে ফেলা হল।

শেষ সীমান্ত সিদরাতে মুনতাহা
সিদরাতুল মুনতাহায় যাওয়ার পর দেখলাম তার একেকটি পাতা এত বড়- যে, যার একটি পাতা দিয়েই উম্মতে মুহাম্মাদিকে ঢেকে ফেলা যাবে। সালসাবিল নামে একটি নহর প্রবাহিত। এ নহরের দুটি প্রসবন; যার একটি হলো হাউজে কাওসার আর অন্যটি হলো নহরে রহমত। যেখানে আমি গোসল করলাম। যার ফলে আগের এবং পরের গোনাহ মাফ হয়ে যায়।

অতঃপর আল্লাহর সাক্ষাতের পথে…
সিদরাতুল মুনতাহা থেকে উর্দ্ধ জগতে যতটুকু আল্লাহ চেয়েছেন ততটুকু পর্যন্ত তাকে টেনে নিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর তিনি নিকটে এসেছেন এবং অতীব নিকটবর্তী হয়েছেন। এমনকি দুই ধনুকের মত নিকটবর্তী হয়েছেন, এমনকি আরও অধিকতর নিকটবর্তী হয়েছেন। (সুরা নজম :আয়াত ৮ ও ৯)।

সেখানে প্রিয়নবী আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হন। যেমনটি কুরআনুল কারীমে এসেছে-, ‘তিনি যা দেখেছেন অন্তর তাকে অস্বীকার করেনি। (সুরা নজম : আয়াত ১১) অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর দৃষ্টি বক্র হয়নি এবং লক্ষচ্যুত হয়নি। (সুরা নজম : আয়াত ১৭)।

আল্লাহর সঙ্গে ভাব-নিমিয়
নামাজে যে তাশাহহুদ পড়া হয়; তাই ছিল আল্লাহর সঙ্গে প্রিয়নবির ভাব বিনিময়। সেখানের ভাব বিনিময় হলো-
আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি, ওয়াস সালাওয়াতু, ওয়াত-তাইয়্যিবাতু, আস সালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু, ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আস সালামু আলাইনি, ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল লাইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থাৎ আমাদের সব শ্রদ্ধা ও সালাম, আমাদের সব নামাজ এবং সব ধরনের পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে।
হে নবী, আপনার প্রতি সালাম, আপনার ওপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হোক।
আমাদের এবং আল্লাহর সব নেক বান্দাদের ওপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হোক।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া (ইবাদতের উপযুক্ত) আর কোনো মাবুদ নাই, আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হজরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

অতঃপর শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ৫০ ওয়াক্ত নামাজ প্রাপ্তি
অতঃপর প্রিয়নবী বলেন, আমার ওপর ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। আমাকে বলা হয়, তোমার প্রত্যেক ভাল কাজের জন্য দশটি করে নেকী রইল। যখন তুমি কোনো ভাল কাজ করার ইচ্ছা করবে, অথচ তা পালন করবে না, তথাপিও একটি পূণ্য লেখা হবে। আর যদি ভাল কাজটি করে ফেল তবে দশটি পূণ্য লেখা হবে।
পক্ষান্তরে যদি কোনো খারাপ কাজ করার ইচ্ছা করো এবং বাস্তবে না করো তবে একটি পাপও লেখা হবে না। যদি খারাপ করে বসো তবে শুধুমাত্র একটি পাপ লেখা হবে।

নামাজ ৫ ওয়াক্ত নির্ধারণ
অতঃপর প্রিয়নবি দুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ফেরার পথে পথিমধ্যে ৬ষ্ঠ আকাশে হজরত মুসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রাপ্তির বিষয়ে কথোপকথনে প্রিয়নবী পুনরায় আল্লাহর সাক্ষাতে যান এবং ৫০ ওয়াক্ত নামাজ থেকে কমিয়ে ৫ ওয়াক্ত নির্ধারিণ করেন।
যারা নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে; আল্লাহ তাদের আমলনামায় পঞ্চাশ ওয়াক্ত রাকায়াত নামাজের সাওয়াব দান করবেন।

অতঃপর প্রিয়নবী পরদিন মেরাজের ঘটনা বর্ণনা করলে মক্কার অবিশ্বাসী কাফেররা মেরাজের ঘটনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। এর বিনা দ্বিধায় বিশ্বাস স্থাপন করেন হজরত আবু বকর। যার ফলে তিনি হলো ছিদ্দিকে আকবর।

পরিশেষে
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ মেরাজ ছিল জাগ্রত অবস্থায় রূহ ও শরীরের উপস্থিতিতে। আর তা বাস্তবেই প্রমাণিত। প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য মেরাজ সংঘটিত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বাস স্থাপন করাও ঈমানের একান্ত দাবি।
মানুষের জন্য আল্লাহর মেরাজের দরজা নামাজের মাধ্যমে খোলা রাখা হয়েছে। মুমিনের মেরাজই হলো নামাজ। এ নামাজেই মানুষ আল্লাহর দিদার লাভ করতে সক্ষম।

মুসলিম উম্মাহ যখন এ মেরাজের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং মেরাজের শ্রেষ্ঠ উপহার নামাজ বাস্তবায়ন করবে; নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর ভয় এবং মহব্বত বাস্তবায়ন করবে তখনই মানুষের ইহকাল ও পরকাল হবে সার্থক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মেরাজের শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের উন্নত নৈতিক চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুন। পরকালের সফলতা দান করুন। আমিন।

-নেট থেকে তথ্য সংগৃহীত/সম্পাদিত   

একটি উত্তর দিন

দয়া করে আপনার কমেন্টস লিখুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন